ভারতের সঙ্গে সমুদ্রসীমা মামলার রায় নিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আলাদা সংবাদ সম্মেলন করতে পারেন বলে জানিয়েছেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ মোশাররাফ হোসাইন ভূঁইয়া। সোমবার মন্ত্রিসভার বৈঠকের পর তিনি সাংবাদিকদের এ কথা জানালেও কবে, কখন সংবাদ সম্মেলন হতে পারে- সে বিষয়ে কিছু বলেননি। প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইংও এ বিষয়ে কোনো তথ্য দিতে পারেনি।
মোশাররাফ হোসাইন ভূঁইয়া জানান, সমুদ্রসীমা নিয়ে আন্তর্জাতিক সালিশি আদালতের রায়ের বিষয়টি অবহিত করতে সোমবার বৈঠকে উপস্থাপন করে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। মন্ত্রিসভা এই রায় সরকারি গেজেট হিসাবে প্রকাশের অনুমোদন দেয়। “এ বিষয়ে বিস্তারিত বলব না, এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী সম্ভবত আলাদা প্রেস কনফারেন্স করবেন, যদি প্রেস কনফারেন্স করেন তাহলে আরো বিস্তারিত বলবেন।”
সচিব জানান, রায় বাংলাদেশের ‘পক্ষে যাওয়ায়’ মন্ত্রিসভায় একটি অভিনন্দন প্রস্তাব গৃহীত হয়েছে। রায়ে যে এলাকা বাংলাদেশ পেয়েছে, সেখান থেকে সম্পদ আহরণের সর্বোচ্চ চেষ্টা নিতে প্রধানমন্ত্রী সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দিয়েছেন।এই রায়ের মধ্য দিয়ে বঙ্গোপসাগরের বিরোধপূর্ণ সাড়ে ২৫ হাজার বর্গ কিলোমিটার এলাকার মধ্যে প্রায় সাড়ে ১৯ হাজার বর্গ কিলোমিটার এলাকা বাংলাদেশকে দিয়ে ভারতের সঙ্গে নতুন সমুদ্রসীমা নির্ধারণ করে দিয়েছে হেগের পার্মানেন্ট কোর্ট অব আর্বিট্রেশন (পিসিএ)। গত ৭ জুলাই আদালত রায় হস্তান্তর করার পরদিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী ঢাকায় সংবাদ সম্মেলন করে বিস্তারিত প্রকাশ করেন।
ওই সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, “এই রায়ের ফলে বাংলাদেশ শেষ পর্যন্ত ১ লাখ ১৮ হাজার ৮১৩ বর্গ কিলোমিটারের বেশি টেরিটোরিয়াল সমুদ্র, ২০০ নটিক্যাল মাইল একচ্ছত্র অর্থনৈতিক অঞ্চল এবং চট্রগ্রাম উপকূল থেকে ৩৫৪ নটিক্যাল মাইল পর্যন্ত মহীসোপানের তলদেশে অবস্থিত সব ধরনের প্রাণিজ ও অপ্রাণিজ সম্পদের উপর সার্বভৌম অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে পেরেছে।”এর আগে ২০১২ সালে জার্মানির হামবুর্গে সমুদ্রসীমা নির্ধারণ সংক্রান্ত আন্তর্জাতিক আদালত মিয়ানমারের সঙ্গে সমুদ্রসীমা বিরোধের যে রায় দেয় তাতে নায্যতার ভিত্তিতে বঙ্গোপসাগরে ২০০ নটিক্যাল মাইল পর্যন্ত জলসীমা পায় বাংলাদেশ।




