কাল থেকে রাজধানীতে নামছে নতুন ট্যাক্সিক্যাব। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আনুষ্ঠানিকভাবে ট্যাক্সিক্যাবের উদ্বোধন করবেন। জানা গেছে, উদ্বোধনের দিন প্রধানমন্ত্রী পক্ষ থেকে ভাড়া কমানোর একটি ঘোষণা আসতে পারে বলে যোগাযোগ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে। নতুন ট্যাক্সিক্যাবের জন্য প্রথম দুই কিলোমিটার ১০০ টাকা ভাড়া নির্ধারণের বিষয়টি অন্যান্য দেশের তুলনায় অনেক বেশি বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র মনে করছেন।
গত রবিবার সকালে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গনে যোগাযোগ মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের জানান, মঙ্গলবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আর্মি ওয়েলফেয়ার ট্রাস্টের ট্যাক্সিক্যাব সার্ভিসের শুভ উদ্বোধন করবেন। এছাড়া তমা গ্রুপের ট্যাক্সিক্যাব সার্ভিস মন্ত্রী নিজে উদ্বোধন করবেন বলে জানান।
তবে যোগাযোগ সচিব এমএএন ছিদ্দিক বলেন, ‘মঙ্গলবার ট্যাক্সিক্যাব উদ্বোধনের জন্য আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে প্রধানমন্ত্রী সময় দিয়েছে বলে আমি শুনেছি। তবে ট্যাক্সিক্যাবের ভাড়া কমানোর ব্যাপারে এখনও কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। যদি সরকার ট্যাক্সিক্যাবের ভাড়া কমায় তাহলে সংশোধিত গেজেট প্রকাশ করা হবে। আর আন্তঃমন্ত্রণালয়ের বৈঠকের ভাড়া ঠিক থাকে তাহলে ওইভাবে গেজেট প্রকাশ করা হবে।’
সূত্র জানায়, গত ২৩ মার্চ যোগাযোগ মন্ত্রণালয়ে এক আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠকে নতুন ট্যাক্সিক্যাবের জন্য প্রথম দুই কিলোমিটার ১০০ টাকা এবং পরবর্তী প্রতি কিলোমিটার ৩৪ টাকা ভাড়া নির্ধারণ করা হয়। যা আগে ছিল ৬০ টাকা এবং ১৫ টাকা। এছাড়া যাত্রা বিরতিকালে প্রতি দুই মিনিটের জন্য সাড়ে ৮ টাকা করে ভাড়া দিতে হবে। অর্থাৎ যানজটে পথে ৮ মিনিট আটকে থাকলে এক কিলোমিটারের ভাড়া দিতে হবে। অথচ একই ট্যাক্সিক্যাবের ভাড়া ভারতের কলকাতায় কিলোমিটারপ্রতি ১৫ রুপি বা ১৯ টাকা। দিল্লি, হায়দরাবাদ ট্যাক্সিক্যাবের কিলোমিটারপ্রতি ভাড়া একই। এছাড়া ব্যাঙ্গালরে এ ভাড়া ২২ টাকা, মুম্বাইয়ে ২৩ টাকা ও পাটনায় ১১ টাকা। পাকিস্তানের লাহোরে কিলোমিটার প্রতি ট্যাক্সিক্যাবের ভাড়া ৩০ রুপি বা ২৩ টাকা, করাচিতে ২৫ রুপি বা ২৭ টাকা। শ্রীলঙ্কার কলম্বোয় এ ভাড়া ৪৫ রুপি বা ২৬ টাকা।
এ ছাড়া মালয়েশিয়ার কুয়ালালামপুরে ট্যাক্সিক্যাবের কিলোমিটার প্রতি ভাড়া ১ রিঙ্গিত বা ২৩ টাকা, চীনের বেইজিংয়ে ২ দশমিক ৩ ইউয়ান বা ২৯ টাকা ও সাংহাইয়ে ২ দশমিক ৪৯ ইউয়ান বা ৩০ টাকা, ইন্দোনেশিয়ার জাকার্তায় ৩ হাজার ৬০০ রুপিয়াহ বা ২৪ টাকা ও আরব আমিরাতের আবুধাবিতে ৩০ টাকা। যা বাংলাদেশ থেকে অনেক কম।
তাই নতুন ট্যাক্সিক্যাবের জন্য দ্বিগুণের চেয়ে বেশি ভাড়া নির্ধারণের বিষয়টি নগরবাসীর মধ্যে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। এছাড়া নতুন ভাড়ার প্রজ্ঞাপন জারির বিষয়টি এখনও চূড়ান্ত হয়নি। এদিকে ট্যাক্সিক্যাবের ভাড়া নির্ধারণে ব্যয় বিশ্লেষণে দেখা গেছে ব্যাপক অনিয়ম। তাই ভাড়া নিয়ে এ জটিলতার কারণে ট্যাক্সিক্যাব নামানোর সিদ্ধান্তের বিষয়টি পিছিয়ে গেছে বলে যোগাযোগ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে।



