রবিবার, অক্টোবর ২৫, ২০২৬
প্রচ্ছদজাতীয়যারা এদেশের স্বাধীনতা চায়নি তারাই ইতিহাস বিবৃতি করছে : প্রধানমন্ত্রী

যারা এদেশের স্বাধীনতা চায়নি তারাই ইতিহাস বিবৃতি করছে : প্রধানমন্ত্রী

ষ্টাফ  রিপোর্টার  (বিডিসময়২৪ডটকম)

পাকিস্তানি পরাজিত শক্তিরা নিজেদের অপকর্মকে ঢাকতেই ইতিহাস বিবৃতি করে সমালোচনা করছে। যারা এদেশের স্বাধীনতা চায়নি, যারা এখনও পদলেহন করে তারা এ ধরনের সমালোচনা ও মিথ্যাচার করবেই। যারা বাংলাদেশের স্বাধীনতায় বিশ্বাস করে না, স্বাধীনতার বিরোধিতা করে তারাই কেবল বিভ্রান্তিমূলক কথা বলছে। তাদের কথায় বিভ্রান্ত না হওয়ার জন্য জনগণের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী শেষ হাসিনা।  দশম জাতীয় সংসদে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আলোচনা ও সমাপনী বক্তব্যে শেখ হাসিনা এ কথা  বলেন।

স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে সংসদের প্রথম অধিবেশনের শেষ কার্যদিবসে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আজ তারা কেন সমালোচনা করছে? তাদের একটি উদ্দেশ্য আছে। যখন দেশের মানুষ তাদের অপকর্ম জানতে চেষ্টা করছে তখনই তারা রাষ্ট্রপতির প্রশ্নে ইতিহাস বিবৃতি করছে।

শেখ হাসিনা বলেন, অন্যান্য রাষ্ট্রগুলোতে শিক্ষার্থীদের তাদের স্বাধীনতা ও দেশের প্রকৃত ইতিহাস সম্পর্কে শিক্ষা দেওয়া হয়। তাদের পাঠ্যপুস্তকে দেশের প্রকৃত ইতিহাস তুলে ধরা হয়। কিন্তু আমাদের দেশে দেখেছি সব সময় শিক্ষার্থীদের বিকৃত ইতিহাস পড়ানো হয়েছে। এতে করে দেশের আগামী প্রজন্ম ভুল ইতিহাস জেনেছে। আমরা নতুন প্রজন্মকে প্রকৃত ইতিহাস জানাতে উদ্যোগ গ্রহণ করেছি। এখন আর কেউ বিকৃত ইতিহাস পড়ছে না।

সংসদের সমাপনী বক্তব্যের শুরুতেই প্রধানমন্ত্রী রাষ্ট্রপতির বক্তব্যের ওপর ধন্যবাদ প্রস্তাবে সমর্থন জানান। এরপর তিনি ১০ এপ্রিলকে একটি ঐতিহাসিক দিন উল্লেখ করে বলেন, ১৯৭১ সালের এই দিন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে রাষ্ট্রপতি করে স্বাধীন বাংলাদেশের সরকার গঠন করা হয়। ১০ এপ্রিল গঠিত সরকার ১৭ এপ্রিল মুজিব নগরে শপথ গ্রহণ করে। আর ১১ এপ্রিল স্বাধীন বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনার জন্য কর্নেল ওসমানীকে প্রধান সেনাপতি করা হয়। ১৬ ডিসেম্বর মিত্র বাহিনীর সহযোগিতায় বাংলাদেশের বিজয় অর্জিত হলেও আমি ও আমার পরিবার তখনও পাকিস্তান হানাদার বাহিনীর দ্বারা ধানমন্ডি ১৮ নম্বর রোডে একটি বাড়িতে আটক ছিলাম। ১৭ ডিসেম্বর আমাদের মুক্ত করা হয়।

প্রধানন্ত্রী আরও বলেন, ১৯৭২ সালের ১০ জানুয়ারি বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশে আসার পর ১১ জানুয়ারি হেয়ার রোডে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দিন আহমেদের বাসায় একটি বৈঠক করেন। এবং এই বৈঠকেই সিদ্ধান্ত হয় বাংলাদেশ সংসদীয় গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে পরিচালিত হবে। এই হচ্ছে বাংলাদেশের প্রকৃত ইতিহাস।

তিনি বলেন, মুনাফেক, বেইমান, খুনি খন্দকার মোস্তাক জোর করে রাষ্ট্র দখল করে নিজেকে রাষ্ট্রপতি হিসেবে ঘোষণা দেয়। আর যখনই অর্থনীতির মুক্তির পথে দেশ পা বাড়ালো তখনই ১৫ আগস্ট।  সুশীল সমাজ ও বিদেশিদের সমালোচনা করে শেখ হাসিনা বলেন, কিছু কিছু লোক বিএনপিকে বিরোধী দল হিসেবে মূল্যায়ন করে। তাদের উদ্দেশ্যে বলতে চাই বিরোধী দল মানে কি? সংসদীয় গণতন্ত্রে নির্বাচনে পরাজিত হয়ে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ সংখ্যক সদস্যদের দলই বিরোধী দল। দশম সংসদে বিরোধী দল আছে। কিন্তু কিছু কিছু লোক বিএনপি’র জন্য মায়া কান্না করে। বিদেশিরাও আমাদের ব্যাপারে নাক গলায়।

‘নবম সংসদের বিরোধী দল ৪১৮ কার্যদিবসের মধ্যে মাত্র ৭০ দিন উপস্থিত ছিলো। আর বিরোধী দলীয় নেত্রী মাত্র ১০ দিন উপস্থিত ছিলেন। এই দশ দিনে ৭ ঘণ্টার মতো আলোচনা করেছে। অর্থৎ যখনই সংসদে এসেছেন আমাদের অশ্রাব্য ভাষায় গালিগালাজ করে গেছেন। নিজের মনের ঝাল মিটিয়ে গেছেন। এই ধরনের বিরোধী দল যারা সংসদে উপস্থিত থাকতে চায় না তাদের জন্য মায়া কান্না কেন?’ বলে প্রধানমন্ত্রী  তিনি বলেন, বর্তমান বিরোধী দল সংসদে আছে। বিরোধী দল সরকারের ভুলত্রুটির সমালোচনা করবে এটাইতো হওয়ার কথা।

জিয়াউর রহমানের সমালোচনা করে তিনি বলেন, জিয়ার আমলে ১৯টা ক্যু হয়েছিলো। শত শত আর্মি অফিসারদের হত্যা করা হয়েছিলো। তার সময় ফায়ার স্কোয়াডে নিয়ে হত্যা করা হতো। জিয়া নাস্তার টেবিলে বসেও মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দিতো। এতে তার কিছুই হতো না। জিয়া বিমানবাহিনীর ৫৫৬ জন অফিসারকে হত্যা করেছিলো।

বাংলাদেশে নারী উন্নয়নের চিত্র তুলে ধরে তিনি বলেন, মাননীয় স্পিকার আপনি একজন নারী, আমিও একজন নারী, সংসদ উপনেতা ও বিরোধী দলীয় নেতা আমরা সকলেই নারী। পৃথিবীর কোথাও এটি নেই। কেউ পারবে কি না জানিও না।

দশম সংসদ নির্বাচন সফলভাবে সম্পন্ন করার জন্য  ভোটের নির্বাচনী কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আন্তরিক অভিনন্দন জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, বিএনপি-জামায়াতের শত উস্কানির মুখেও তারা ঐক্যবদ্ধ ছিলো। যে কারণে বাংলাদেশে গণতান্ত্রিক ধারাবাহিকতা অব্যহত রয়েছে।

এ সময় প্রধানমন্ত্রী বলেন, যে  কয়েকবার আমরা গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করি তখনই স্বাধীনতা বিরোধীরা আমাদের হাতে একটি হারিকেন ধরিয়ে দেয়। অনির্বাচিত সরকারকে ক্ষমতায় আনার চেষ্টা চলে।  ৫৬ মিনিটের দীর্ঘ বক্তৃতায় শেখ হাসিনা মহাজোট সরকারের বিগত আমলের উন্নয়ন চিত্র তুলে ধরেন। তিনি বলেন, আমরা নিজের পায়ে  দাঁড়াতে চাই। কারো কাছ থেকে ভিক্ষা নিয়ে চলতে চাই না।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ