সোমবার, অক্টোবর ২৬, ২০২৬
প্রচ্ছদআরো খবর......এবিএম মূসা প্রথম নামাজে জানাজা শেষে ল্যাবএইড হাসপাতালের হিমঘরে

এবিএম মূসা প্রথম নামাজে জানাজা শেষে ল্যাবএইড হাসপাতালের হিমঘরে

প্রথিতযশা সাংবাদিক এবিএম মূসার প্রথম নামাজে জানাজা শেষে তার মরদেহ রাজধানীর ল্যাবএইড হাসপাতালের হিমঘরে নেওয়া হয়েছে। বুধবার বাদ মাগরিব (মাগরিবের নামাজের পর) রাজধানীর মোহাম্মদপুরের ইকবাল রোডের মাঠে প্রথম নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। এরপর রাত সাড়ে আটটার দিকে এবিএম মূসার মরদেহ রাজধানীর ল্যাবএইড হাসপাতালের হিমঘরে নেওয়া হয়। রাতে মরদেহ সেখানেই রাখা হবে।

তার শেষ ইচ্ছানুযায়ী ফেনীর ফুলগাজী উপজেলার কুতুবপুর গ্রামে তার মায়ের কবরের পাশে শায়িত করা হবে। বৃহস্পতিবার প্রেসক্লাবে তৃতীয় নামাজে জানাজা শেষে প্রবীণ এ সাংবাদিকের মরদেহবাহী গাড়ি ফেনীর উদ্দেশ্যে রওনা দেবে।

মূসার মেয়ে পারভীন সুলতানা ঝুমা জানান, বাবার শেষ ইচ্ছে ছিল, মায়ের কবরের পাশে তাকে দাফন করা। আমরা পারিবারিকভাবে সেখানে দাফনের ব্যাপারেই সিদ্ধান্ত নিয়েছি। বৃহস্পতিবার দুপুরের মধ্যে ফেনীর উদ্দেশ্যে মরদেহবাহী গাড়ি রওনা হবে।  সবকিছু ঠিক থাকলে রাত দশটার মধ্যে তাকে দাফন করা হবে বলেও তার পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়।

লাইফ সাপোর্টে থাকা সাংবাদিক এবিএম মূসাকে বুধবার দুপুরে চিকিৎসকরা মৃত ঘোষণা করার পরই তাকে তার নিজ বাসভবন মোহাম্মদপুরের ইকবাল রোডে নিয়ে আসা হয়। সেখানে বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া, শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ, বিএনপি নেতা আবদুল্লাহ আল নোমান, সাংবাদিক মাহফুজ উল্লাহ, আবদুল হাই শিকদার, জাতীয় প্রেসক্লাব সভাপতি কামাল উদ্দিন সবুজ, প্রধানমন্ত্রীর তথ্য বিষয়ক উপদেষ্টা ইকবাল সোবাহান চৌধুরীসহ সর্বস্তরের সাংবাদিক, ভক্ত ও গুণগ্রাহী এই বরেণ্য সাংবাদিককে শেষবারের মতো একনজর দেখতে যান।

এবিএম মূসার ছেলে ডা. নাসিম মূসা জানিয়েছেন, তার বাবার মরদেহ বেলা ১২টায় নেওয়া হবে জাতীয় প্রেসক্লাবে। সেখানে বাদ জোহর দ্বিতীয় নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হবে।  দ্বিতীয় নামাজে জানাজা শেষে ফেনীর উদ্দেশে ছুটে যাবে বরেণ্য সাংবাদিক এবিএম মুসার মরদেহবাহী গাড়ি। বাদ মাগরিব ফেনীর মিজান ময়দানে ফেনী প্রেস ক্লাবের আয়োজনে তৃত্বীয় এবং তার নিজ গ্রামে চতুর্থ ও শেষ নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হবে।

রাজধানীর ল্যাবএইড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বুধবার দুপুর সোয়া একটায় ইন্তেকাল করেন এবিএম মূসা। গত সোমবার ল্যাবএইডে ভর্তি হন এবিএম মূসা। তিনি ব্লাড ক্যান্সারের মতো রোগ মাইলো ডিসপ্লাস্টিক সিনড্রোমে আক্রান্ত ছিলেন। এছাড়া দীর্ঘদিন ধরে তিনি বার্ধক্যজনিত রোগে ভুগছিলেন। অবস্থার অবনতি হলে মধ্যরাতে তাকে লাইফ সাপোর্টে নেওয়া হয়। তিনি হাসপাতালের সিনিয়র কনসালট্যান্ট ডা. বরেণ চক্রবর্তীর তত্ত্বাবধানে চিকিৎসাধীন ছিলেন। প্রবীণ এ সাংবাদিককে ফেরাতে সকল চেষ্টা করে যাচ্ছিলেন তার নেতৃত্বাধীন বিশেষ টিম। সব চেষ্টা ব্যর্থ করে দিয়ে বুধবার সোয়া একটায় জীবনপ্রদীপ নিভে আসে দেশ ও জাতির বিবেকসম এবিএম মূসার। এর পরই তার লাইফ সাপোর্ট খুলে দেওয়া হয়।

এবিএম মূসার বয়স হয়েছিল ৮৩ বছর। তিনি স্ত্রী সেতারা মূসা, এক ছেলে ডা. নাসিম মূসা এবং তিন মেয়ে শারমীন মুসা, মরিয়ম সুলতানা ও পারভীন সুলতানা ঝুমাসহ অসংখ্য ভক্ত ও গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ