স্পোর্টস ডেস্ক (বিডি সময় ২৪ ডটকম)
বাংলাদেশ : ১৩৮/৭, ২০ ওভার। ভারত : ১৪১/২, ১৮.৩ ওভার।
ফল : ভারত ৮ উইকেটে জয়ী। ম্যাচসেরা : রবিচন্দ্রন অশ্বিন।
এম. এম. কায়সার: ভারতের ম্যাচ মানেই সেই পুরনো কাহিনি।
প্রতিপক্ষের বোলচাল বন্ধ। সামান্য রানে গুটিয়ে পড়া এবং ভারতের হেসেখেলে সহজ জয়।
আরেকটি মিল আছে। বিরাট কোহলির ব্যাটে ধারাবাহিক রান। এমনসব মিল রেখে কাল বাংলাদেশের বিপক্ষেও ম্যাচটা জিতে নিল ভারত। আর ৮ উইকেটের এ জয়ে বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে পৌঁছে গেল মহেন্দ্র সিং ধোনির ভারত। এবং বাংলাদেশের বিদায়। পরের দুই ম্যাচ বাংলাদেশের জন্য এখন স্রেফ অংশগ্রহণ ছাড়া আর কিছু নয়।
টানা তিন ম্যাচ খুবই সহজ ভঙ্গিতে জিতে সবার আগে সেমিফাইনালে পৌঁছানো ভারতীয় দলের একটা ‘সমস্যা’ অবশ্য এ ম্যাচেও মিটল না-যুবরাজ সিংয়ের ফর্মে ফেরা! সারাক্ষণ বেচারা প্যাড পরে ডাগআউটে ব্যাট নিয়ে বসে রইলেন। দ্বিতীয় উইকেট জুটিতে পাক্কা ১০০ রান যোগ করে রোহিত শর্মা যখন আউট হলেন তখন ম্যাচ জিততে ভারতের প্রয়োজন ২৬ রান। যুবরাজকে বিশ্রামে রেখে ধোনি নিজেই ব্যাটিংয়ে এলেন। দলের আরও অনেকের মতো ম্যাচে ব্যাটিং অনুশীলন যে তারও প্রয়োজন!
পাকিস্তানের সঙ্গে অপরাজিত ৩৬। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ৫৪। কাল বাংলাদেশের বিপক্ষে হার না মানা ৫৭ রান। তিন ম্যাচে ১৪৭ রান করা বিরাট কোহলিকে পরের ম্যাচে ‘বিশ্রাম’ দিতেই পারে ভারত!
১৩০। ১২৯। কাল ১৩৮। পেছনের তিন ম্যাচে তিন প্রতিপক্ষের বিপক্ষে ভারত এ রান খরচ করে। তবে টি-টুয়েন্টিতে এ স্কোরকে ‘মামুলির’ চেয়ে বড় কিছু মানার উপায় নেই। তার ওপর ভারতের যে লম্বা ব্যাটিং লাইনআপ। তাতে এ স্কোর নিয়ে তাদের রুখে দেওয়ার স্বপ্ন দেখাটাও ঠিক কেমন কেমন যেন শোনায়! যাকে বলে হাত পাকিয়ে নেওয়া-ঠিক সেই ধরনের ব্যাটিং করেই এ ম্যাচ জিতল ভারত।
প্রতি ম্যাচে বাংলাদেশের ব্যাটিং নিয়েও সেই একই গল্প। সেই একই প্লট। সেই একইভাবে ধসে পড়া। মাঝে কিছুটা বিনির্মাণ। তারপর ইনিংস শেষে সামান্য কিছু জোগাড়। এবং বড় ব্যবধানে ম্যাচ হারা।
সুপার টেনের দ্বিতীয় ম্যাচেও বাংলাদেশ সমস্যার সেই পুরনো গর্তে রয়ে গেল।
এ ম্যাচেও ব্যাটিং শক্তিশালী করতে কিছুটা রদবদল আনা হয়। এক ম্যাচ বসিয়ে রাখার পর নাসির হোসেন কাল ফিরলেন সেরা একাদশে। ১৭ বলে করলেন ১৬ রান। টি-টুয়েন্টি ধাতের সঙ্গে এমন ব্যাটিং মানানসই কি না-আরেকবার সেই প্রশ্ন তোলার সুযোগ করে দিলেন নাসির।
ওপরের দিকের ব্যাটিংয়ে সাব্বির রহমানের জায়গায় এ ম্যাচে খেললেন শামসুর রহমান। টিকলেন মাত্র এক বল। বিশ্বকাপ ক্যারিয়ার তার শুরু হল শূন্য রানে!
সাকিব আগের ম্যাচে প্রথম বলে শূন্য রানে ফিরেছিলেন। কাল সব কিছুতে খানিকটা ‘উন্নতি’ হল তার। দুই বলে ১ রান। আউটের ধরন অবশ্য আগের ম্যাচের মতোই-বোল্ড।
তবে ব্যর্থতার বিচারে বাকি সবাইকে পেছনে ফেলে দিচ্ছেন তামিম ইকবাল। নিশ্চিত রান আউটে একবার জীবন পেলেন কাল। কিন্তু অশ্বিনের প্রথম ওভারেই সুরেশ রায়নাকে স্লিপে ক্যাচ অনুশীলন করালেন যেন! ১০ বলে ৬ রানে শেষ তামিমের এবারের বিশ্বকাপের আরেকটি ব্যর্থ ইনিংস। পরের বলেই শামসুর রহমান ফিরলেন, নেমেই ছক্কা মারার লোভে কাটা পড়ে। অশ্বিনের হ্যাটট্রিক বলটা ঠেকিয়ে দিলেন সাকিব। তবে ভুবনেশ্বর কুমারের পরের ওভারের প্রথম বলেই তিনিও বিদায় নিলেন। পাওয়ার প্লে তখনও শেষ হয়নি। বাংলাদেশ ২১ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে দিশা হারানো দল। একপাশ ধরে এনামুল হক যা একটু খেলে গেলেন। তাতেই স্কোর বোর্ডে জমা একটু একটু করে বাড়ল। মুশফিক শুরুটা করেছিলেন ভালো। কিন্তু ব্যর্থতার মিছিলে খানিকবাদে তিনিও যোগ দিলেন। ১৩ ওভারের মাথায় ৪৩ বলে ৪৪ রান করে এনামুল যখন পঞ্চম ব্যাটসম্যান হিসেবে ফিরছেন তখনও বাংলাদেশের স্কোর বোর্ডে একশ’ রান পুরো হয়নি।
টি-টুয়েন্টি ধাতের একটা মাত্র জুটিই এ ম্যাচে হল বাংলাদেশের। নাসির হোসেন ও মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের ষষ্ঠ উইকেটের সেই জুটিতে ৩৭ বলে ৪৯ রানের পুঁজিটাই এ ম্যাচে বাংলাদেশ ইনিংসের সেরা সময়। ২৩ বলে অপরাজিত ৩৩ রান করে মাহমুদউল্লাহ ব্যাটিং ফর্মে ফেরার স্বস্তিকর ঘোষণা দিলেন।
এবারের বিশ্বকাপের প্রায় প্রতিটি ম্যাচের শেষ ওভার নাটকীয়তা ছড়াচ্ছে। বাংলাদেশের ইনিংসের শেষ ওভারও তেমন উত্তেজনা ছড়াল কাল। অমিত মিশ্রর করা সেই শেষ ওভারের প্রথম দুই বলে ২ উইকেট হারাল বাংলাদেশ। তৃতীয় বল ডট হল। চতুর্থ বলে মাহমুদউল্লাহ ১ রান পেলেন। পঞ্চম বলে মাশরাফি ব্যাটই লাগাতে পারলেন না। শেষ বলে হাঁকালেন ছক্কা। তাতেই স্কোর পৌঁছল ১৩৮ রানে।
কী দারুণ মিল!
ভারতের ইনিংসও শেষ হল ছক্কা দিয়ে। পার্থক্য একটাই-ধোনির সেই ছক্কা ভারতকে সেমিফাইনালে পৌঁছে দিল।




