ষ্টাফ রিপোর্টার (বিডিসময়২৪ডটকম)
খালেদা জিয়াকে পাকিস্তানে চলে যাওয়ার পরামর্শ দিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বক্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ ও নিন্দা জানিয়েছেন বিএনপির আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ড. আসাদুজ্জামান রিপন।
রোববার সন্ধ্যায় রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপি কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন। সম্প্রতি গাইবান্ধা সফরে এক জনসভায় বক্তৃতা দানকালে প্রধানমন্ত্রী এ দেশ ভালো না লাগলে খালেদা জিয়াকে পাকিস্তানে চলে যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছিলেন।
আসাদুজ্জামান রিপন বলেন, প্রধানমন্ত্রীর এমন বক্তব্য সাধারণ মানুষ আশা করে না। প্রধানমন্ত্রীর এ ধরনের বক্তব্যর জন্য আমরা তাকে ভারতে চলে যেতে বলছি না। কারণ তিনি এদেশের নাগরিক। এ দেশেরই সন্তান। তিনি এদেশের জন্য রাজনীতি করেন। রাজনীতিতে মত পার্থক্য থাকতে পারে এ জন্য কাউকে এ ধরনের কটাক্ষ আগামী দিনের রাজনীতির জন্য শুভ ফলাফল বয়ে আনবে না। তাই প্রধানমন্ত্রীকে এ ধরনের সংস্কৃতি থেকে সরে আসার আহ্বান জানান রিপন।
বিএনপির এই ভারপ্রাপ্ত দপ্তর সম্পাদক বলেন, ‘তিনি (খালেদা জিয়া) কেন পাকিস্তানে যাবেন। বাংলাদেশটা খালেদা জিয়ারও, এই দেশটার জন্য তারও ত্যাগ রয়েছে। একটা গান আছে না, দিল মি হিন্দুস্তান। তবে আমরা বলছি না শেখ হাসিনাকে দিল্লী চলে যেতে। তার বক্তব্যে জবাবে বলছি, আপনি (প্রধানমন্ত্রী) বাংলাদেশে থাকুন। দেশের জনগণকে শান্তি দিন। প্রতিহিংসার রাজনীতি বন্ধ করুন।’
রিপন বলেন, ‘বৃহত্তর একটি রাজনৈতিক দলের নেত্রীর বিরুদ্ধে দায়িত্বশীল কারো এই ধরনের কথা কী মানায়? তাকে কড়জোরে অনুরোধ করছি, বাংলাদেশের মানুষকে শান্তিতে থাকতে দিন। এমনিতেই ৫ শতাংশের মানুষের কম ভোটে ক্ষমতায় বসেছেন। বিদেশি বন্ধুরা বলছে, সংলাপ করে একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের ব্যবস্থা করুন। তার মানে নতুন নির্বাচনের জন্য চাপ রয়েছে।’
বিরোধী দলের নেতা কর্মীদের হত্যা,গুম ও মিথ্যা মামলার কথা উল্লেখ করে আসাদুজ্জামান রিপন বলেন, সারাদেশে বিচার বর্হিভূত হত্যাকাণ্ড বেড়েই চলছে। লাশের মিছিল বাড়ছে।এটা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। যৌথবাহিনী বিরোধীজোটের নেতাকর্মীদের আটক করার কিছুক্ষণ পরই তাদের লাশ রাস্তায়, ডোবায় ও পুকুরে পাওয়া যায়। এ ধরনের হত্যা এখনই বন্ধ করার অনুরোধ জানান আসাদুজ্জামান রিপন।
রিপন বলেন, ‘সরকার দেশটা আজ বিভাজন করে ফেলেছে। এই বিভক্তি ছড়িয়ে পড়েছে গ্রাম পর্যায়ে। সরকারি দলের ক্যাডারদের সহায়তায় যৌথবাহিনীর অভিযান চলছে। মুক্তিযুদ্ধের সময় আল বদর, রাজাকাররা যেভাবে পাক হানাদেরদের মুক্তিযোদ্ধাদের বাড়ি দেখিয়ে দিতো, এখন সেই একই ভূমিকায় আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা।’
যা দেশের জন্য মঙ্গলজনক নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি। এছাড়া সাভারের রানা প্লাজা ট্রাজেডির পর কোন কোন খাতে দেশি বিদেশি কত টাকার সহায়তা পাওয়া গেছে এবং কোথায় কোথায় তা ব্যয় করা হয়েছে সরকারের পক্ষ থেকে তার একটি শ্বেতপত্র প্রকাশ দাবি করেন রিপন।
পাশাপাশি অর্থের অভাবে চিকিৎসা করতে না পেরে আত্মহত্যার বিষয়টি খুবই উদ্বেগের বিষয় বলেও উল্লেখ করেন তিনি।একই সঙ্গে সাম্প্রতিক সময়ে ক্রিকেট কেন্দ্রিক যে সব বক্তব্য উঠে আসছে, সে সব বিষয়ে সরকার ও ক্রীড়ামন্ত্রীর সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা দাবি করেন এই নেতা।
তিনি বলেন, ক্রিকেট নিয়ে তরুণদের আবেগকে আমরা স্বাগত জানাই। তাদের আবেগের প্রতি বিএনপির সমর্থন ও সহমর্মিতা রয়েছে বলেও মন্তব্য করেন রিপন।
সংবাদ সম্মেলনে আরো উপস্থিত ছিলেন বিএনপির প্রশিক্ষণ বিষয়ক সম্পাদক কাজী আসাদ, সহ-দপ্তর সম্পাদক আবদুল লতিফ জনি, আসাদুল করিম শাহীন, যুবদলের সিনিয়র সহ-সভাপতি এডভোকেট আবদুস সালাম আযাদ ও নির্বাহী কমিটির রফিক শিকদার প্রমুখ।




