নবনির্বাচিত সরকার গঠনের প্রাক্কালে তড়িঘড়ি করে বিতর্কিত ডিজিটাল ব্যাংক লাইসেন্স প্রদানের লক্ষ্যে পর্ষদ সভা স্থগিত চেয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক অফিসার্স ওয়েলফেয়ার কাউন্সিল। সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কার্যালয়ে বেলা সাড়ে ১১টায় কাউন্সিল এর পক্ষ থেকে এক সংবাদ সম্মেলনে করে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানানো হয়।
বাংলাদেশ ব্যাংক অফিসার্স ওয়েলফেয়ার কাউন্সিলের সাধারণ সম্পাদক গোলাম মোস্তফা শ্রাবণ সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ‘গত ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার পর নবনির্বাচিত জনপ্রতিনিধিগণের শপথ গ্রহণ ও নতুন সরকার গঠনের প্রক্রিয়া চলমান। ঠিক সেই মুহূর্তে ডিজিটাল ব্যাংকের লাইসেন্স প্রদানের উদ্দেশ্যে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর কর্তৃক অদ্য ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে বাংলাদেশ ব্যাংকের পর্ষদের এক জরুরি পর্ষদ সভা আহ্বান করা হয়েছে। ক্রান্তিকালীন সময়ে জরুরি ভিত্তিতে এ ধরনের লাইসেন্স প্রদান কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কার্যক্রমের স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে পারে।’
তিনি আরও বলেন, ‘বিশেষ করে, যে গোষ্ঠী বা গ্রুপকে এই ডিজিটাল ব্যাংকের লাইসেন্স প্রদানের তোড়জোড় চলছে, গভর্নর মহোদয় ইতঃপূর্বে সেই একই গোষ্ঠীর একটি ব্যাংকে চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। কাজেই, নিজের পূর্বতন কর্মস্থল বা সংশ্লিষ্ট গোষ্ঠীকে সুবিধা প্রদানের উদ্দেশ্যে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে মর্মে সহজেই অনুমেয়। এখানে, সরাসরি স্বার্থের সংঘাত রয়েছে বলে কেন্দ্রীয় ব্যাংকারগণ মনে করেন।’
গোলাম মোস্তফা আরও বলেন, ‘দেশের ব্যাংকিং খাতের বর্তমান নাজুক পরিস্থিতিতে যেখানে সমস্যাগ্রস্ত কতিপয় ব্যাংক আমানতের সুরক্ষা দিতে হিমশিম খাচ্ছে, সেখানে নতুন করে কোনো বিশেষ গোষ্ঠীর স্বার্থ রক্ষায় ডিজিটাল ব্যাংকের লাইসেন্স প্রদান অর্থনীতির জন্য কতটুকু আবশ্যক তা অধিকতর পর্যালোচনার দাবি রাখে।’
নবনির্বাচিত সরকার গঠনের প্রাক্কালে তড়িঘড়ি করে বিতর্কিত ডিজিটাল ব্যাংক লাইসেন্স প্রদানের লক্ষ্যে পর্ষদ সভা আহ্বান করার প্রতিবাদ জানিয়ে আহ্বানকৃত পর্ষদ সভা স্থগিতকরণের জন্য গভর্নরের নিকট দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাক অফিসার্স ওয়েলফেয়ার কাউন্সিল। তাদের দাবি, যথাযথ মূল্যায়ন ও স্বচ্ছ প্রক্রিয়া অনুসরণ ছাড়া চুক্তিবদ্ধ সকল উপদেষ্টা, পরামর্শক ও কর্মকর্তার নিয়োগ বাতিল করতে হবে।
কাউন্সিল নেতারা বলেন, লাইসেন্স প্রদানের প্রক্রিয়ায় নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং এ বিষয়ে কোনো ধরনের প্রশ্ন বা বিতর্কের অবকাশ থাকা উচিত নয়। একই সঙ্গে নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে ব্যক্তিগত পরিচয় বা প্রভাবের বিষয় থাকলে তা খতিয়ে দেখার প্রয়োজন রয়েছে বলেও তারা মত দেন।
তারা আরও উল্লেখ করেন, ব্যাংক কোম্পানি আইন ও বিদ্যমান বিধান অনুযায়ী মালিকানা কাঠামো ও শেয়ার ধারণ সংক্রান্ত বিষয়গুলো যথাযথভাবে পর্যালোচনা করা প্রয়োজন। রাজনৈতিক অন্তর্বর্তী সময়ে বড় ধরনের নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে সতর্কতা অবলম্বন করা উচিত বলেও তারা মনে করেন।




