জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল-জেএসডির পর মাহমুদুর রহমান মান্নার নাগরিক ঐক্যও বিএনপি থেকে সরে গেল। আসন সমঝোতা না হওয়ায় জেএসডি এককভাবে নির্বাচন করার ঘোষণা আগেই দিয়েছিল। এবার আসন সমঝোতার পরও ছাড় না দেওয়ায় বিএনপির দীর্ঘদিনের মিত্র মান্নার দল একই পথে হাঁটল। তাঁর নির্বাচনী আসন বগুড়া-২ এ ধানের শীষ প্রতীকে বিএনপি নেতা শাহে আলমকে মনোনয়ন দেওয়ায় এবং শেষ মুহূর্তে তা প্রত্যাহার না করায় এই বিভক্তির সৃষ্টি হয়।
এ নিয়ে বিএনপির শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে মাহমুদুর রহমান মান্না একাধিকবার যোগাযোগ করলেও কোনো ফল না আসায় গত সোমবার জরুরি সংবাদ সম্মেলন করে একলা চলো নীতি অবলম্বনের ঘোষণা দেন তিনি। এদিন সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, দলের সভাপতি মান্না ঢাকা-১৮ ও বগুড়া-২ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। এর বাইরে আরও ১০টি আসনে নিজেদের প্রার্থিতা ঘোষণা করা হয়।
গত ২৪ ডিসেম্বর সংবাদ সম্মেলনে ১০ নেতার নাম প্রকাশ করে তাদের সঙ্গে আসন সমঝোতার কথা বলেছিলেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। সেই ১০ জনের মধ্যে মান্নাও ছিলেন। তবে সম্প্রতি বগুড়া-২ আসনে শিবগঞ্জ উপজেলা বিএনপির নেতা শাহে আলমকে ধানের শীষ প্রতীক বরাদ্দ দেয় বিএনপি। শেষ দিনেও তিনি মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করেননি।
এ বিষয়ে মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, ‘আমি জানতাম, সমঝোতার ভিত্তিতে বগুড়া-২ আসনে কোনো প্রার্থী দেবে না বিএনপি। কিন্তু আমার আসনে বিএনপির প্রার্থী রয়ে গেছেন। এখন কোনো সমাধানের সুযোগ নেই। তারা তাদের প্রার্থীকে মনোনয়ন দিয়েছে; আমাকে ইগনোর করেছে। কিন্তু আমি তো রাজনীতি করব। রাজনীতির অংশ হিসেবে নির্বাচনও করব।’
এ বিষয়ে জানতে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
জেএসডির সঙ্গে আসন সমঝোতা না হওয়া এই দলও এককভাবে নির্বাচন করছে। গত ২৬ ডিসেম্বর দলটি এককভাবে নির্বাচনের ঘোষণা দেয়। দলের সভাপতি আ স ম আবদুর রব লক্ষ্মীপুর-৪ আসনে মনোনয়ন চেয়েছিলেন। ২০১৮ সালেও এই আসন থেকে তিনি জোটের প্রার্থী ছিলেন। কিন্তু বিএনপি এই আসনটি ছাড়তে অপারগতা প্রকাশ করায় জেএসডি সংবাদ সম্মেলন করে আলাদা নির্বাচন করার ঘোষণা দেয়।
আওয়ামী লীগ সরকারবিরোধী আন্দোলন নিয়ে ভিন্ন ভিন্ন প্ল্যাটফর্ম থেকে বিএনপির সঙ্গে মান্নার ঘনিষ্ঠতা ২০১৩ সালের পর থেকে স্পষ্ট হয়। ২০১৮ সালের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার পুনরুদ্ধার এবং ৭ দফা দাবি ও ১১ দফা লক্ষ্য নিয়ে বিএনপির নেতৃত্বে গঠিত জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের শরিক ছিল নাগরিক ঐক্য। ওই নির্বাচনে জোট প্রার্থী হিসেবে এ দলকে ৫টি আসনে ছাড় দেওয়া হয়েছিল। তারা প্রত্যেকে ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচন করেছিলেন। এর মধ্যে বগুড়া-২ আসনে নির্বাচনে লড়েছিলেন মান্না। তবে নির্বাচনের পর এই জোট তেমন কার্যকর ছিল না।
২০২২ সালের আগস্টে জেএসডি, নাগরিক ঐক্যসহ ৬টি দল মিলে গঠন করে গণতন্ত্র মঞ্চ। এই জোটকে সঙ্গে রেখেই বিগত দিনে সরকারবিরোধী যুগপৎ আন্দোলনে নেতৃত্ব দেয় বিএনপি। ওই সময়েই বিএনপির পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল– সমমনা মিত্র দলগুলোকে তারা মূল্যায়ন করবে। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের পরও দলটি একই আশ্বাস দিয়ে আসছিল। দলটি বলছে, আরপিও অনুযায়ী প্রতিটি দলকে নিজ প্রতীকে নির্বাচন করতে হবে। ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে অন্যদের নির্বাচন করার কোনো সুযোগ নেই। তবে জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম, গণসংহতি আন্দোলন, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি, নাগরিক ঐক্যকে ৮টি আসনে ছাড় দেওয়া হয়। কিন্তু শেষ মুহূর্তে নাগরিক ঐক্যের একমাত্র আসনেও নিজ দলের প্রার্থী দেয় বিএনপি।




