বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেন, বিএনপি ক্ষমতায় গেলে ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে শহীদ ও আহতদের বিষয় নিয়ে কাজ করতে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীনে একটি পৃথক বিভাগ গঠন করা হবে।
রোববার (১৮ জানুয়ারি) রাজধানীর খামারবাড়িতে কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশ (কেআইবি) মিলনায়তনে জুলাই আন্দোলনে শহীদ ও আহতদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এ কথা বলেন।
বিগত সরকারের আমলে গুম, খুন ও নির্যাতনের বিষয়ে তিনি বলেন, দীর্ঘ দেড় দশকের ফ্যাসিবাদ বিরোধী আন্দোলনে হাজার হাজার মানুষ গুম, খুন ও নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। শুধু জুলাই গণঅভ্যুত্থানেই দেড় হাজারের বেশি মানুষ শহীদ এবং প্রায় ৩০ হাজার মানুষ আহত হয়েছেন। অনেকেই চিরতরে পঙ্গুত্ব বরণ করেছেন। এ হত্যাকাণ্ডকে এক কথায় গণহত্যা বলা যায়।
তিনি বলেন, ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থান কোনো দল বা গোষ্ঠীর আন্দোলন নয়; এটি ছিল দল-মত-ধর্ম নির্বিশেষে সাধারণ মানুষের গণআন্দোলন। এ আন্দোলনের লক্ষ্য ছিল জনগণের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অধিকার নিশ্চিত করা।
আগামী জাতীয় নির্বাচনকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ উল্লেখ করে বিএনপির চেয়ারম্যান বলেন, একটি নিরাপদ ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়তে হলে সুষ্ঠু নির্বাচন অপরিহার্য। জনগণের রায়ে বিএনপি রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পেলে শহীদ ও আহতদের প্রতি দেওয়া প্রতিশ্রুতি পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়ন করা হবে।
তিনি আরও বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে যারা শহীদ হয়েছেন এবং যারা আহত হয়েছেন, তারা সবাই মুক্তিযোদ্ধা। যেমনভাবে ১৯৭১ সালে মুক্তিযোদ্ধারা দেশের স্বাধীনতা অর্জন করেছিলেন, ঠিক তেমনি ২০২৪ সালে জুলাই যোদ্ধারা দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা করেছেন।
মতবিনিময় সভায় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীসহ দলের শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে বিএনপি চেয়ারপারসনের সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমানও অংশ নেন।
সভায় জুলাই আন্দোলনে নিহত আনাসের মা আবেগঘন কণ্ঠে বলেন, আগামী নির্বাচনে তারেক রহমান রাষ্ট্রক্ষমতায় এলে সব শহীদ হত্যার বিচার হবে এ বিশ্বাস তাদের রয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন, অন্তর্বর্তী সরকার গঠনের মূল উদ্দেশ্য এখনো বাস্তবায়িত হয়নি এবং তার সন্তানের হত্যাকারীদের এখনো গ্রেপ্তার করা হয়নি।
শহীদ জাহিদের মা ফাতেমাতুর জোহরা কান্নাজড়িত কণ্ঠে সন্তানের স্মৃতিচারণ করে বলেন, আমার জিসান না থাকলে এই দুনিয়ায় আমার আর কেউ নেই। বড় ছেলে আমাকে ‘আম্মু, মা’ বলে ডাকতো। আজ ১৭ মাস ধরে আর কেউ সে নামে ডাকে না।
তিনি বলেন, এই কঠিন সময়ে বিএনপির সহযোগিতা না পেলে তার সন্তানের চিকিৎসা সম্ভব হতো না। অনেকেই পাশে না দাঁড়ালেও বিএনপি তাদের পরিবারের পাশে ছিল বলে জানান তিনি।
শেষে তিনি তারেক রহমানের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, বিএনপি ক্ষমতায় এলে শহীদদের হত্যার বিচার অগ্রাধিকার ভিত্তিতে হবে এই বিশ্বাস তিনি রাখেন। একই সঙ্গে তারেক রহমান ও তার পরিবারের জন্য দোয়া করেন তিনি।




