মঙ্গলবার, অক্টোবর ২৭, ২০২৬
প্রচ্ছদঅর্থ ও বানিজ্য সময়বাংলাদেশে ব্যবসা-বাণিজ্য অতিরিক্ত নিয়ন্ত্রণ ও জটিল অনুমতির ভারে জর্জরিত :

বাংলাদেশে ব্যবসা-বাণিজ্য অতিরিক্ত নিয়ন্ত্রণ ও জটিল অনুমতির ভারে জর্জরিত :

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, সরকারের হাতে অতিরিক্ত ক্ষমতা কোনো রাষ্ট্রের জন্য ভালো নয়; জনগণের ক্ষমতাই রাষ্ট্রকে শক্তিশালী করে। তার মতে, গণতন্ত্রের মূল লক্ষ্য হলো জনগণের ক্ষমতার মাধ্যমে সরকারের ক্ষমতার ভারসাম্য তৈরি করা। জনগণের ক্ষমতার ওপর ভিত্তি করেই একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র গড়ে তুলতে চায় বিএনপি।
তিনি বলেন, বাংলাদেশে ব্যবসা-বাণিজ্য অতিরিক্ত নিয়ন্ত্রণ ও জটিল অনুমতির ভারে জর্জরিত। একটি রেস্টুরেন্ট চালু করতে কোথাও ১৯টি, কোথাও ২১টি অনুমতি লাগে। পরিবেশ ছাড়পত্র পেতেই দুই মাস লেগে যায়। এই অতিরিক্ত নিয়ন্ত্রণ মূলত দুর্নীতিগ্রস্ত গোষ্ঠীর জন্য সুবিধাজনক হলেও সাধারণ ব্যবসায়ীদের জন্য তা বড় বাধা। তাই দুর্নীতি কমাতে সরকারি কর্মকর্তা ও নাগরিকদের মধ্যে ফিজিক্যাল কন্ট্যাক্ট (সরাসরি যোগাযোগ) ন্যূনতম পর্যায়ে নামিয়ে আনতে হবে।
সোমবার (২৩ ডিসেম্বর) নগরের রেডিসন ব্লু হোটেলের চট্টগ্রাম বিভাগীয় ব্যবসায়ী ফোরামের উদ্যোগে আয়োজিত ‘বাণিজ্য সংলাপ’-এ প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি। এতে চট্টগ্রাম বিভাগের বিভিন্ন জেলার ব্যবসায়ী প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
ব্যবসায়ীদের সঙ্গে ধারাবাহিক সংলাপের গুরুত্ব তুলে ধরে আমীর খসরু বলেন, গত ছয় মাস ধরে দেশের বিভিন্ন বিভাগে এ ধরনের সংলাপ করা হচ্ছে। আজ চট্টগ্রামে অনুষ্ঠিত হলো, কেবল ঢাকা বাকি। তিনি বলেন, ‘আমরা দীর্ঘদিন দেখেছি, ব্যবসায়ীরা নানা প্রয়োজনে রাজনীতিবিদ মন্ত্রী বা সংসদ সদস্যদের কাছে যান। এই প্রথা ভাঙতে চাই। আমাদের উদ্দেশ্য হলো রাজনীতিবিদরা ব্যবসায়ীদের কাছে আসবেন।
তিনি আরও বলেন, কেবল রাজনীতিতে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করলেই রাষ্ট্র গণতান্ত্রিক হয় না। গণতন্ত্রের অর্থ হলো সবার অধিকার সমুন্নত রাখা। সে জন্য প্রয়োজন উপযোগী পরিবেশ। ‘সিস্টেমিক ডি-রেভুলেশন’ করে দুর্নীতিবাজদের হাতে থাকা ক্ষমতা ভেঙে দেওয়ার লক্ষ্য আছে বলেও জানান তিনি।

তিনি বলেন, প্রতিটি বিষয় আমলাতন্ত্রের হাত থেকে ব্যবসায়ীদের হাতে দিতে চাই। এ জন্য ব্যবসায়ীদের সক্ষমতা বাড়াতে হবে। সব ক্ষেত্রে অটোমেশন করতে হবে। এতে একটি কনটেইনার আনতে যত কাজ করতে হয়, যত পারমিশন নিতে হয়, সব কটির জন্য ওয়ান-স্টপ সার্ভিস চালু করতে হবে।

বিগত ১৭ বছর চট্টগ্রামকে শুধু কাগজে-কলমে বাণিজ্যিক রাজধানী করা হয়েছে। এখন সময়ে এসেছে চট্টগ্রামকে বাস্তবে বাণিজ্যিক রাজধানী করার। এ ছাড়া চট্টগ্রাম বন্দরকে জাতীয়ভাবে গুরুত্ব দিতে হবে। পাশাপাশি চট্টগ্রামে আরও রপ্তানি প্রক্রিয়াজাতকরণ অঞ্চল (ইপিজেড) গড়ে তোলা দরকার। সেই সঙ্গে পণ্য পরিবহনে ঢাকা-চট্টগ্রাম আলাদা রেললাইন করতে হবে। মহাসড়কে ওজন স্কেলের বিষয়েও ব্যবসায়ীবান্ধব সিদ্ধান্ত নিতে হবে।

অনুষ্ঠানের শুরুতে বংশীবাদক ক্যউপ্রু মারমা বাঁশির সুরে জাতীয় সংগীত পরিবেশন করেন। শুরুতে বক্তব্য দেন চট্টগ্রাম উইমেন চেম্বারের সহসভাপতি সুলতানা নুরজাহান। তিনি নারী উদ্যোক্তা ও ব্যবসায়ী সমাজের নানা সমস্যার কথা তুলে দেন।

চট্টগ্রামকে বাস্তবে বাণিজ্যিক রাজধানী করার দাবি জানান বাংলাদেশ রিকন্ডিশন্ড ভেহিকেলস ইমপোর্টার্স অ্যান্ড ডিলারস অ্যাসোসিয়েশনের সাবেক মহাসচিব মোহাম্মদ হাবিবুর রহমান। আর ব্যবসায়ীদের সহজভাবে ব্যবসা পরিচালনার সুযোগ দেওয়ার দাবি জানান প্যাসিফিক জিন্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ মোহাম্মদ তানভীর।

বিজিএমইএর প্রথম সহসভাপতি সেলিম রহমান বলেন, ‘নানা প্রতিকূলতার কারণে চট্টগ্রামে তৈরি পোশাকের ক্রেতারা আসেন না। আশা করছি, এ সমস্যাগুলো সমাধান করা হবে। চট্টগ্রামে আরও ইপিজেড করা দরকার। যদি ইপিজেড করা হয়, তাহলে আমরা নতুন শিল্প গড়ে তুলব।

এশিয়ান-ডাফ গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এম এ সালাম বলেন, ব্যবসার পরিবেশ সহজ করতে হবে। আমরা আমাদের সমস্যার কথা বলার সুযোগ চাই।

সী কম গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ আমিরুল হক বলেন, বাংলাদেশের সিমেন্ট ও ইস্পাতশিল্প মরে যাচ্ছে। দেশের বিভিন্ন স্থানে রেললাইন স্থাপন করা হয়েছে। কিন্তু ঢাকা-চট্টগ্রাম মাত্র ৮০ কিলোমিটার কডলাইন গত ৫৩ বছরে স্থাপন করা যায়নি।

সংলাপে আরও বক্তব্য দেন বান্দরবান চেম্বারের সদস্য মো. জসিম উদ্দিন, চাঁদপুর চেম্বারের পরিচালক মানিক উর রহমান, রাঙামাটি চেম্বারের সভাপতি মামুনুর রশিদ, চট্টগ্রাম ফার্নিচার প্রস্তুতকারক সমিতির সভাপতি মাকসুদুর রহমান, খাতুনগঞ্জ ট্রেড অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজ অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মীর আব্দুস সালাম, বিজিএপিএমইএর প্রথম সহসভাপতি মো. শহীদ উল্লাহ চৌধুরী, আন্তজেলা বাস মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক কফিল উদ্দিন, চট্টগ্রাম সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মো. শওকত আলী প্রমুখ।

সংলাপ অনুষ্ঠানে চট্টগ্রাম চেম্বারের সাবেক সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার আলী আহম্মদের সভাপতিত্বে উপস্থিত ছিলেন বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা এসএম ফজলুল হক, বিএনপি নির্বাহী কমিটির সদস্য সরওয়ার জামাল নিজাম, সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি এসএম সাইফুল আলম।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ