বৃহস্পতিবার, ফেব্রুয়ারি ২৬, ২০২৬
প্রচ্ছদজাতীয়লিবিয়া উপকূলে ২৬ বাংলাদেশি নিয়ে নৌকাডুবি, ৪ জনের মরদেহ উদ্ধার

লিবিয়া উপকূলে ২৬ বাংলাদেশি নিয়ে নৌকাডুবি, ৪ জনের মরদেহ উদ্ধার

উত্তর আফ্রিকার দেশ লিবিয়ার আল-খোমস উপকূলে ২৬ বাংলাদেশিকে নিয়ে একটি নৌকা ডুবে গেছে। এতে চারজন বাংলাদেশি নিহত হয়েছেন। একই সঙ্গে একই উপকূলে পৃথকভাবে আরও একটি নৌকাডুবির ঘটনা ঘটে, যেটিতে ৬৯ জন অভিবাসী ছিল, কিন্তু ওই ঘটনায় কেউ মারা যায়নি।

স্থানীয় সময় শনিবার (১৫ নভেম্বর) সন্ধ্যায় লিবিয়ান রেড ক্রিসেন্ট সংস্থা এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। রোববার (১৬ নভেম্বর) সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়, ডুবে যাওয়া প্রথম নৌকাটিতে ছিলেন বাংলাদেশি ২৬ অভিবাসী। তাদের মধ্যে চারজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।

লিবিয়ান রেড ক্রিসেন্ট জানিয়েছে, দ্বিতীয় নৌকাটিতে ৬৯ অভিবাসী ছিলেন। তাদের মধ্যে দুজন মিশরীয় ও কয়েকজন সুদানী নাগরিক ছিলেন। ওই নৌকায় আট শিশুও ছিল। তবে তাদের ভাগ্যে কী ঘটেছে নির্দিষ্ট করে বলা হয়নি।
 
প্রতিবেদনে বলা হয়, লিবিয়ার রাজধানী ত্রিপোলি থেকে প্রায় ১১৮ কিলোমিটার পূর্বে আল-খুমস উপকূলের কাছে এই ‍দুটি নৌকাডুবির ঘটনা ঘটে।
 
এক বিবৃতিতে রেড ক্রিসেন্ট জানিয়েছে, কোস্টগার্ড ও আল-খুমস বন্দর নিরাপত্তা সংস্থা উদ্ধার অভিযানে অংশ নিয়েছে। শহরের পাবলিক প্রসিকিউশনের নির্দেশে মরদেহগুলো সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্ত করা হয়েছে।
 
গত বুধবার আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম) জানিয়েছে, লিবিয়ান উপকূলের উত্তর-উত্তর-পশ্চিমে অবস্থিত একটি অফশোর সুবিধা আল বুরি তেলক্ষেত্রের কাছে একটি নৌকা ডুবে যাওয়ার পর কমপক্ষে ৪২ জন অভিবাসী নিখোঁজ হয়েছেন। একইসঙ্গে নৌকায় থাকা সবার মৃত্যু হয়েছে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
 
গত অক্টোবরের মাঝামাঝিতে ত্রিপোলির পশ্চিম উপকূলে ৬১ জন অভিবাসীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছিল। সেপ্টেম্বরে আইওএম জানিয়েছে, লিবিয়ার উপকূলে ৭৫ জন সুদানী শরণার্থী বহনকারী একটি জাহাজে আগুন লাগার পর কমপক্ষে ৫০ জন মারা গেছেন।

মানবাধিকার সংস্থাগুলি আরও জানিয়েছে, ইউরোপীয় দেশগুলো ধাপে ধাপে রাষ্ট্রীয় উদ্ধার অভিযান বন্ধ করার কারণে ভূমধ্যসাগরে নৌযাত্রা আরও বিপজ্জনক হয়ে উঠেছে। পাশাপাশি উদ্ধার কাজে নিয়োজিত দাতব্য সংস্থাগুলোও বিভিন্ন রাষ্ট্রের দমনমূলক পদক্ষেপের সম্মুখীন হচ্ছে।

ভূমধ্যসাগরের এই রুটে প্রতি বছর অসংখ্য অভিবাসীর প্রাণহানি ঘটে, যা লিবিয়াকে ইউরোপগামী অভিবাসীদের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ প্রধান ট্রানজিট রুট হিসেবে পরিচিত করে তুলেছে। গত সপ্তাহে জেনেভায় অনুষ্ঠিত জাতিসংঘের এক বৈঠকে যুক্তরাজ্য, স্পেন, নরওয়ে ও সিয়েরা লিওনসহ বেশ কয়েকটি দেশ লিবিয়াকে অভিবাসী ও শরণার্থীদের আটক কেন্দগুলো বন্ধ করার আহ্বান জানিয়েছে।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ