জেদ্দায় অনুষ্ঠিত হজ সম্মেলন ও প্রদর্শনীতে (৯-১২ নভেম্বর) হজ ও ওমরাহ পালনকারীদের সুবিধার্থে নতুন প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনী ধারণা উপস্থাপন করছেন তরুণ উদ্ভাবকেরা। তাদের প্রস্তাবগুলোর মধ্যে রয়েছে-শারীরিকভাবে দুর্বল,অসুস্থ ও প্রবীণ হাজিদের নিরাপদে মিনায় শয়তানকে পাথর নিক্ষেপের স্থানে পৌঁছে দিতে ক্যাবল কার প্রকল্প।
তার তথ্যমতে, হজযাত্রীরা যদি মুজদালিফা থেকে মিনা পর্যন্ত হাঁটেন, তবে প্রায় ৩০ মিনিট সময় লাগে। বাসে গেলে সময় লাগে প্রায় ১৫ মিনিট, আর ট্রেনে লাগতে পারে মাত্র ৭ মিনিট। কিন্তু তার প্রস্তাবিত ক্যাবল কার চালু হলে এই পথ অতিক্রম করতে সময় লাগবে মাত্র ৪ মিনিট। তার মতে, এই ক্যাবল কার ব্যবস্থা হবে স্মার্ট, টেকসই এবং হাজিদের ভিড় এড়াতে অত্যন্ত কার্যকর একটি সমাধান।
এছাড়া প্রদর্শনীতে হাজিদের ডিজিটাল অভিজ্ঞতা আরও উন্নত করতে বিভিন্ন নতুন প্রযুক্তি তুলে ধরা হয়েছে।‘হাদি’ নামের একটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তানির্ভর মোবাইল অ্যাপ হাজিদের জন্য রেজিস্ট্রেশন থেকে শুরু করে যাতায়াত ও নির্দেশনা-সব সেবা এক প্ল্যাটফর্মে সরবরাহ করবে। এটি বিমানবন্দর থেকে মক্কা পর্যন্ত কীভাবে ভ্রমণ করতে হবে তা জানাবে, ভিড়ের সময় এড়িয়ে কখন ইবাদত করা উত্তম সেটি পরামর্শ দেবে এবং কেউ হারিয়ে গেলে তাকে নিজের অবস্থান শনাক্ত করে গন্তব্যে পৌঁছাতে সহায়তা করবে।
আরেকটি প্রযুক্তি হলো পবিত্র স্থানে ভিড় গণনার স্মার্ট সিস্টেম। এটি রিয়েল-টাইমে হাজিদের সংখ্যা গণনা করে কর্তৃপক্ষ ও ব্যবস্থাপনায় নিয়োজিতদের সহায়তা করবে, যাতে যেকোনো এলাকায় অতিরিক্ত ভিড়ের ঝুঁকি কমানো যায়।
ইন্দোনেশিয়ার উদ্ভাবন ‘পিলগ্রিম প্যাল’ অ্যাপ হজযাত্রার পুরো ব্যবস্থাপনাকে সহজ করবে। এতে হাজিদের বাসস্থান, আর্থিক লেনদেন, যাত্রাব্যবস্থা, অবস্থান ট্র্যাকিং, জরুরি সহায়তা এবং হজ-ওমরাহর ভার্চুয়াল সিমুলেশনসহ প্রয়োজনীয় সব সুবিধা একত্রে পাওয়া যাবে।
অন্যদিকে ‘মাই উজু কম্প্যানিয়ন’ হলো একটি বিশেষ নকশার পানি সাশ্রয়ী অজুর বোতল, যা ভিড় বা পানি সংকটের পরিস্থিতিতেও হাজিদের সহজে অজু করতে সহায়তা করবে।




