বৃহস্পতিবার, ফেব্রুয়ারি ২৬, ২০২৬
প্রচ্ছদফিচাররূপে গুণে অনন্য জমাটি আড্ডার মানুষটিকে আর দেখতে পাব না ভাবতেই পারছি...

রূপে গুণে অনন্য জমাটি আড্ডার মানুষটিকে আর দেখতে পাব না ভাবতেই পারছি না

একজন চমৎকার হৃদয়বান দরদী মানুষ চলে গেলেন। আড্ডাবাজ, দরবারি মানুষ ছিলেন। নানা বিষয়ে প্রচুর লেখাপড়া ছিলো তাঁর। কিন্তু সেজন্য তাঁর কোন পাণ্ডিত্যের অভিমান, নাক উঁচু স্বভাব ছিলো না। যে কোন সভা মজলিশে মধ্যমণি হয়ে গুলজার করে রাখতেন। কিছু কিছু মানুষ আছে, যাঁদেরকে দেখলে মন ভালো হয়ে যায়। তিনি তেমনই একজন মন ভালো করা মানুষ ছিলেন। আহা ! অমন দীর্ঘদেহী সুন্দর সুপুুরুষটিকে আর দেখতে পাবো না, এটা ভাবতেই পারছি না। এসব কথা চট্টগ্রামে শুধু একজনকে নিয়েই বলা যায়। তিনি অধ্যক্ষ শায়েস্তা খান।

অধ্যক্ষ প্রফেসর শায়েস্তা খান চট্টগ্রামের একটি আলোকিত বাতিঘর ছিলেন। সেই বাতিঘর গতকাল নিভে গেছে। তিনি বহুমুখী প্রতিভার অধিকারী একজন বৈশিষ্টপূর্ণ মানুষ ছিলেন। তিনি একাধারে শিক্ষাবিদ, লেখক, রাজনীতিবিদ, সাংবাদিক এবং ক্রীড়া সংগঠক ও ক্রীড়া লেখক-ভাষ্যকার ছিলেন। অধ্যক্ষ রেজাউল করিম সাহেবের কিছু গুণ শায়েস্তা খান সাহেব পেয়েছিলেন। তিনিও অধ্যক্ষ রেজাউল করিম সাহেবের ন্যায় শিক্ষা সংগঠক ছিলেন। ২০০০ খ্রিস্টাব্দে সরকারি শিক্ষা বিভাগের চাকরি থেকে অবসর গ্রহণের পরও প্রফেসর শায়েস্তা খান চট্টগ্রাম মহানগরের শিক্ষা সম্প্রসারণ ও খেলাধুলার উন্নয়নে নিজেকে নিয়োজিত রাখেন। তিনি চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন কমার্স কলেজ ও ছোটদের উদয়ন স্কুল প্রতিষ্ঠা করেন।
অধ্যক্ষ শায়েস্তা খান ক্রিকেটের ভাষ্যকার এবং কলামিস্ট ছিলেন। খেলাধুলার জগত ছাড়াও প্রফেসর শায়েস্তা খান চট্টগ্রামের দৈনিক পত্রিকাগুলোতে কলাম লেখা শুরু করেছিলেন। ব্যবসায় শিক্ষার ডিগ্রি অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীদের জন্য তাঁর লেখা ‘বাণিজ্য ও শিল্প আইন’ বইটি ছাত্রদের মাঝে সমাদৃত হয়েছে।
প্রফেসর শায়েস্তা খান স্বাধীনতার পর নন্দনকানন থেকে দৈনিক মিছিল নামে একটি পত্রিকা প্রকাশ করেছিলেন। তিনি পত্রিকাটির সম্পাদনায় দায়িত্ব পালন করেন। বায়তুশ শরফের প্রতিষ্ঠাতা পীর মওলানা আখতার সাহেবের জামাতা বিশিষ্ট ব্যবসায়ী কুদ্দুস সাহেব মিছিল প্রকাশে শায়েস্তা খান সাহেবকে সহযোগিতা করেছিলেন। খাতুনগঞ্জের শরীয়তুল্লাহ সওদাগরের পুত্র আওয়ামী লীগ নেতা শাহ বদিউল আলমও মিছিল প্রকাশনার সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন। মিছিল পত্রিকায় যারা কাজ করতেন, তাদের মধ্য থেকে উত্তরকালে অনেক বিশিষ্ট সাংবাদিক, লেখক, ছড়াকার এবং নাট্যকার বেরিয়ে এসেছিলেন। দু’একজনের নাম এখানে উল্লেখ করা যেতে পারে, আ জ ম ওমর, স্বপন মহাজন, শামসুল হক হায়দরী, ছড়াশিল্পী খন্দকার আখতার আহমদ, খ ম বশির, আমি নিশ্চিত নই, তবে নুর মুহম্মদ রফিকও সম্ভবত মিছিলে ছিলেন। এদিক থেকে বিচার করলে দেখা যাবে অধ্যক্ষ শায়েস্তা খান চট্টগ্রামে সাংবাদিকতার বিকাশেও অবদান রেখেছেন।
অধ্যক্ষ শায়েস্তা খান ষাটের দশকে একজন বিশিষ্ট ছাত্রনেতা ছিলেন। ৬২’র ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম নেতা তিনি। ৬২’র ১৭ সেপ্টেম্বর ডাকসু ও সর্বদলীয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ হরতাল আহবান করেছিলো। অধ্যক্ষ শায়েস্তা খান ও কফিল উদ্দিন (পরবর্তীকালে এমপি) মাইক দিয়ে সেই হরতালের প্রচারণা চালিয়েছিলেন ঘোড়ার গাড়িতে করে। হরতালের দিন তিনি পিকেটিং করেন জুবিলি রোডে কো-অপারেটিভ বুক সোসাইটি ভবন, দারুল ফজল মার্কেট ও শাহ আমানত মার্কেটের সম্মুখে। তাঁদের সাথে পুলিশের ব্যাপক সংঘর্ষ হয়েছিলো। পুলিশ প্রথমদিকে লাঠিচার্জ করে যখন ছাত্রদের বিক্ষোভ থামাতে ব্যর্থ হয়, তখন তারা কাঁদানে গ্যাস ছোঁড়ে। চট্টগ্রাম শহরে আগে কখনও কাঁদানে গ্যাস ছোঁড়েনি পুলিশ। সেই প্রথম চট্টগ্রামের মানুষ কাঁদানে গ্যাস দেখল এবং যাদের নাকে মুখে এই গ্যাস ঢুকেছিলো, তারা শুধু পানির জন্য দৌড়াচ্ছিলো। নাকে মুখে একটু পানির ছিটা দিতে পারলে আরাম লাগতো। ছাত্রদের ছোঁড়া পাথর ও পুলিশের টিয়ার সেলের মধ্যে অনেক্ষণ ধরে যুদ্ধ চলছিলো।
সাবেক মন্ত্রী ডা. আফছারুল আমীনের চাচা চট্টগ্রাম কলেজের ছাত্র আবুল কালাম আজাদ লালদিঘি ও নিউ মার্কেটে এলাকায় পিকেটিং করার সময় পুলিশের হামলায় আহত হয়েছিলেন। নিউ মার্কেটের দিক থেকে মিছিল নিয়ে আসা একজন ছাত্র শায়েস্তা খান সাহেবকে আবুল কালাম আজাদের রক্তমাখা শার্টটা উচিয়ে ধরে বিক্ষোভ করার জন্য বলেন। তিনি একটি বাঁশের মাথায় রক্তমাখা শার্টটা বেঁধে মাথার উপর তুলে ধরে মানুষকে সরকারের বিরুদ্ধে উত্তেজিত করে তোলার চেষ্টা চালাচ্ছিলেন। নন্দন কানন অপর্ণা চরণ স্কুলের রাস্তার পূর্বদিকে এখন যেখানে শাহ আমানত মার্কেট সেখানে তখন একটি পুকুর ছিলো। ১৯৬১ খ্রিস্টাব্দে পুকুরটি চারদিক থেকে ঘেরাও করে পুকুরের পাড়ে একটি লেডিস পার্ক তৈরি করা হয়েছিলো। শায়েস্তা খান সাহেব সে পার্কে ঢুকে পুলিশকে পাথর ছুঁড়ে মারছিলেন। এক পর্যায়ে একজন পুলিশ দেখে ফেললে তিনি ধরা পড়েন। তাঁকে পুলিশ বেধড়ক পিটিয়েছিলো। শায়েস্তা খান সাহেব পরবর্তীকালে পূর্বদেশে ষাট দশকের ছাত্র রাজনীতি দিয়ে লেখা তাঁর কলামে লিখেছিলেন, “অমাবস্যা পূর্ণিমার সময় সারা জীবন তিনি সেই মারের ব্যথা অনুভব করেছেন”।
১৭ সেপ্টেম্বরের হরতাল পালনের পর শায়েস্তা খান সাহেব ছাত্রলীগে যোগদান করেন। মুসলিম হলের মাঠে এমএ মান্নান, শহীদ মুরিদুল আলম ও ফেরদৌস কোরেশী তাঁকে ছাত্রলীগ করার জন্য উদ্ধুদ্ধ করেন। ১৯৬২ খ্রিস্টাব্দে শহীদ মুরিদুল আলম, এমএ মান্নান, ফেরদৌস কোরেশী ও আবু ছালেহ ছাত্রলীগ পুনরুজ্জীবনের উদ্যোগ নিয়েছিলেন। তখন ছাত্রলীগের দুটি সভা হয়েছিলো—একটি হেমসেন লেনের মুখে এডভোকেট রফিকুল আনোয়ারের বাসায়, আরেকটি নন্দনকানন হরিশ দত্ত লেনে। রফিকুল আনোয়ার ১৯৫৭ খ্রিস্টাব্দ থেকে চট্টগ্রাম জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি ছিলেন, তাঁর বাড়ি ফটিকছড়ি। নন্দনকাননে যে সম্মেলন হয়েছিলো তাতে ফেরদৌস কোরেশীকে আহবায়ক এবং শায়েস্তা খান ও বখতেয়ার কামালকে (তাঁর বাড়ি পেকুয়া) যুগ্ম আহবায়ক করে চট্টগ্রাম জেলা ছাত্রলীগের আহবায়ক কমিটি গঠন করা হয়। পরে ফেরদৌস কোরেশীকে সভাপতি ও শায়েস্তা খানকে সাধারণ সম্পাদক করে চট্টগ্রাম জেলা ছাত্রলীগ কমিটি (১৯৬২-৬২) গঠিত হয়। ১৯৬৩-৬৫ খ্রিস্টাব্দে শায়েস্তা খান জেলা ছাত্রলীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি নির্বাচিত হন।
তিনি ১৯৬২ খ্রিস্টাব্দে শরীফ শিক্ষা কমিশনের রিপোর্ট বাতিলের দাবিতে গঠিত ৯ সদস্য বিশিষ্ট ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের অন্যতম সদস্য ও ১৯৬৩ খ্রিস্টাব্দের তৎকালীন ঘউঋ এর প্রধান নেতা পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর আগমন উপলক্ষে গঠিত সর্বদলীয় অভ্যর্থনা কমিটির অন্যতম সদস্য ছিলেন। ১৯৬৫ খ্রিস্টাব্দের আইয়ুব খান বনাম ফাতেমা জিন্নাহ প্রেসিডেন্ট নির্বাচন উপলক্ষে চট্টগ্রাম স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত প্রজেকসন মিটিং-এ সংগঠিত গোলযোগের কারণে ‘আলীমুল্লাহ মার্ডার কেস’ সহ ৬টি মামলার অন্যতম আসামি ছিলেন। ১৯৬৯ খ্রিস্টাব্দে বাদি এই মামলা প্রত্যাহার করেন।
শিক্ষাবিদ হিসেবে শায়েস্তা খান খুবই জনপ্রিয় শিক্ষক ছিলেন। তাঁর অধ্যাপনা জীবন পরিপূর্ণরূপে সাফল ও সার্থক হয়েছিলো। তিনি একাধারে চট্টগ্রাম সরকারী বাণিজ্য কলেজের ছাত্র ও শিক্ষক ছিলেন। তাঁর ছাত্ররা অনেকেই শিক্ষাবিদ হিসেবে প্রতিষ্ঠা লাভ করেছেন। বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের সাবেক চেয়ারম্যান ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক আবদুল মান্নান, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়, প্রিমিয়ার বিশ্ববিদ্যালয় ও আন্তর্জাতিক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য্য অধ্যাপক আনোয়ারুল আজিম আরিফ, হাজী মহসিন কলেজ, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ ও আরো বিভিন্ন কলেজে যিনি অধ্যক্ষতা করেছেন, সেই অধ্যক্ষ ফজলুল হক এবং প্রিমিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক শেখ মোহাম্মদ ইব্রাহিম, ষাটের দশকের ছাত্রনেতা এমএ হাশেম ও আবুল হাশেম অধ্যক্ষ শায়েস্তা খানের উজ্জ্বল ছাত্র।
অধ্যক্ষ শায়েস্তা খান ১৯৪৫ খ্রিস্টাব্দের ১০ জুন চট্টগ্রাম শহরের আলকরণে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতা আজিজউল্লাহ খান, মাতা মোহসেনা বেগম। তাঁর পৈতৃক নিবাস চান্দগাঁও এলাকার হায়দর আলী নাজির বাড়ি। তাঁর পিতা প্রথমে সরকারি চাকরিজীবী, পরে নিজেকে ব্যবসায় নিয়োগ করেন। শেষ জীবনে তিনি চট্টগ্রাম মিউনিসিপ্যাল পাবলিক লাইব্রেরির লাইব্রেরিয়ান ছিলেন।
শায়েস্তা খান ১৯৬০ খ্রিস্টাব্দে চট্টগ্রাম কলেজিয়েট স্কুল থেকে ম্যাট্রিকুলেশন, চট্টগ্রাম সরকারি কমার্স কলেজ থেকে ১৯৬২ খ্রিস্টাব্দে আই.কম. ও ১৯৬৫ খ্রিস্টাব্দে বি.কম. (অনার্স), ১৯৬৬ খ্রিস্টাব্দে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এম.কম. পাস করেন।
কর্মজীবনে তিনি সরকারি কমার্স কলেজের লেকচারার (১৯৬৭-৭৪), সহকারী অধ্যাপক (১৯৭৪-৮৪), অধ্যাপক (১৯৯২-৯৪), অধ্যক্ষ (১৯৯৪-১৯৯৬), হাজী মুহাম্মদ মহসিন কলেজের সহযোগি অধ্যাপক (১৯৮৪-৯২), ঢাকা সরকারি শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজের অধ্যক্ষ (১৯৯৬-২০০০) এবং চট্টগ্রাম সরকারি মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ (২০০০-২০০২) ছিলেন।
শায়েস্তা খান ছাত্রজীবনে কমার্স কলেজ ছাত্র সংসদের ক্রীড়া সম্পাদক (১৯৬১-৬২), সহ সভাপতি (১৯৬০-৬৪) ছিলেন। ১৯৬৭-১৯৮৩ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত তিনি কুমিল্লা শিক্ষাবোর্ডের অধীনে চট্টগ্রাম আঞ্চলিক আন্তঃকলেজ ক্রীড়া সাংগঠনিক কমিটির সাধারণ সম্পাদক ও কুমিল্লা শিক্ষাবোর্ড কেন্দ্রীয় ক্রীড়া সংস্থার সদস্য, ১৯৮০-৮২ পর্যন্ত জাতীয় যুব ক্রিকেট ও যুব ফুটবল প্রতিযোগিতায় কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ড দলের ম্যানেজার ছিলেন। ১৯৯০ খ্রিস্টাব্দ থেকে মৃত্যুর পূর্ব পর্যন্ত তিনি চট্টগ্রাম মহানগরী ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক, সম্পাদক- সাংগঠনিক কমিটি, দশম জাতীয় হ্যান্ডবল প্রতিযোগিতা (পুরুষ) (১৯৯৪-৯৫), সদস্য-সাংগঠনিক কমিটি, ন্যাশনাল ব্যাংক প্রথম জাতীয় যুব হ্যাণ্ডবল চ্যাম্পিয়নশিপ, ২০০০। এছাড়াও তিনি চট্টগ্রাম জেলা ক্রীড়া সংস্থার নির্বাহী কমিটির সদস্য, চট্টগ্রাম জেলা ক্রিকেট দলের ম্যানেজার (১৯৮৬) ছিলেন। সংগঠনিক কমিটির সদস্য হিসেবে তার নেতৃত্বে ১৯৮৪ সালে আয়োজন করা হয় পুরুষদের দশম জাতীয় হ্যান্ডবল প্রতিযোগিতা ।
শায়েস্তা খান একজন সুখ্যাত ক্রীড়া লেখকও ছিলেন। ১৯৮১ খ্রিস্টাব্দ থেকে মৃত্যুর পূর্ব পর্যন্ত তিনি চট্টগ্রাম ক্রীড়া লেখক সমিতির সভাপতি ছিলেন। খেলাধুলা নিয়ে জাতীয় ও স্থানীয় পত্র-পত্রিকায় তিনি নিয়মিত আলোচনা ও ভাষ্য রচনা করতেন। ১৯৮৭’র বিশ্বকাপের সময় চট্টগ্রামের শীর্ষস্থানীয় পত্রিকা দৈনিক আজাদীতে ধারাবাহিক কলাম লেখেন। লেখাগুলো দারুণ সমাদৃত হয়। তবে নিয়মিত লেখালেখি শুরু করেন ২০০৫ সাল থেকে। তখন থেকে তিনি ‘স্মৃতির জানালা খুলে চেয়ে দেখি শিরোনামে দৈনিক সুপ্রভাত বাংলাদেশ-এ (২০০৫-২০০৭), ‘দেখা শোনা ভাবা শিরোনামে দৈনিক আজাদী-তে (২০০৭-২০১২) এবং ‘৬০ দশকের ছাত্ররাজনীতি এবং আমি’ শিরোনামে দৈনিক পূর্বদেশ-এ (২০১৩-২০১৫) ধারাবাহিক কলাম লেখেন। কলাম লেখক হিসেবে তাঁর লেখা পাঠকপ্রিয় হয়। আবার এর মাঝে ফুটবল ও ক্রিকেট বিশ্বকাপের সময়ও ক্রীড়া লেখক হিসেবে লেখালেখি চালিয়ে যান ।
তিনি ১৯৮০ খ্রিস্টাব্দে সরকারি কমার্স কলেজের বার্ষিকী ‘কর্ণফুলী’ সম্পাদনা করেন, ১৯৯২ খ্রিস্টাব্দে চট্টগ্রাম মহানগরী ক্রীড়া সংস্থার দ্বিবার্ষিক প্রকাশনী ‘সৃষ্টি সুখের উল্লাসে’ ছাড়াও নগরীর বিভিন্ন ক্রিকেট ও অ্যাথলেটিক প্রতিযোগিতার বিভিন্ন স্যুভেনির ও স্মরণিকা সম্পাদনা করেন।
তিনি বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও শিক্ষামূলক প্রতিষ্ঠানের সাথেও সম্পৃক্ত ছিলেন। তন্মধ্যে সেন্ট প্লাসিডস হাইস্কুল ও অপর্ণাচরণ গার্লস হাই স্কুলের ম্যানেজিং কমিটির সদস্য ছিলেন। লায়ন্স ক্লাবের চট্টগ্রাম সেন্ট্রালের তিনি সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট ছিলেন।
এছাড়া তিনি মা ও শিশু হাসপাতাল এবং চট্টগ্রাম সমিতি-ঢাকার জীবন সদস্য ছিলেন। তিনি চট্টগ্রাম মহানগরী ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক, বাংলাদেশ ক্রীড়া লেখক সমিতি চট্টগ্রাম শাখার সভাপতি, চট্টগ্রাম হ্যান্ডবল রেফারিজ সমিতির উপদেষ্টা, ঈযরঃঃধমড়হম ঊফঁপধঃরড়হ ধহফ জবংবধৎপয ঋড়ঁহফধঃরড়হ-এর চেয়ারম্যান ছিলেন। অন্যদিকে পেশাগতভাবে তিনি চিটাগাং মেট্রোপলিটন কমার্স কলেজ এর অধ্যক্ষ, প্রস্তাবিত ইধপ ট্রাস্ট ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ চট্টগ্রাম এর ট্রেজারার ছিলেন।
শায়েস্তা খান ২০১৭ খ্রিস্টাব্দে ঢাকার ইত্যাদি গ্রন্থ প্রকাশ থেকে তাঁর লেখা গ্রন্থ ‘পঞ্চাশ দশকের চট্টগ্রাম এবং আমার ছেলেবেলা’ প্রকাশিত হয়।
শিক্ষা ও ক্রীড়ার উন্নয়নে অসামান্য অবদানের জন্য ‘শ্রেষ্ঠ গুণীজন’ হিসেবে প্রফেসর শায়েস্তা খানকে ২০০৪ সালে সংবর্ধনা দেয় চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাব। এর আগে ২০০১ সালে তাঁকে বর্ষসেরা ক্রীড়া সংগঠক নির্বাচিত করে বাংলাদেশ ক্রীড়া লেখক সমিতি ।
অধ্যক্ষ শায়েস্তা খান এক পুত্র (চট্টগ্রামের ডায়াবেটিক বিশেষজ্ঞ ডা. ইশতেয়াক আজিজ খান) ও এক কন্যার (ফারজানা জেসমিন খান) জনক। তাঁর স্ত্রী মমতাজ বেগম আদর্শ সহধর্মিণী হিসেবে সবসময় প্রফেসর শায়েস্তা খানের সমস্ত সৃজনশীল কর্মকাণ্ডে সহায়তা করেন।

লেখক : নাসিরুদ্দিন চৌধুরী, সিনিয়র সাংবাদিক।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ