রবিবার, আগস্ট ১৬, ২০২৬
প্রচ্ছদঅর্থ ও বানিজ্য সময়এক যুগ পর চট্টগ্রাম চেম্বারের নির্বাচন ।। প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারে তিনটি প্যানেল

এক যুগ পর চট্টগ্রাম চেম্বারের নির্বাচন ।। প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারে তিনটি প্যানেল

দেশের শতবর্ষী বাণিজ্য সংগঠন চট্টগ্রাম চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের নির্বাচনে পরিচালক পদে নির্বাচনের জন্য চারটি ক্যাটাগরিতে ৭১ জন ব্যবসায়ী মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। রোববার মনোনয়নপত্র জমাদানের শেষ দিনে প্রার্থীরা চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয়ে নির্বাচন কমিশনে এসব মনোনয়নপত্র জমা দেন।  এখন চলছে যাচাই-বাছাইয়ের কাজ। আগামী বৃহস্পতিবার নির্বাচন বোর্ড চূড়ান্ত প্রার্থীর তালিকা প্রকাশ করবে। ব্যবসায়ী মহলে ইতিমধ্যেই সম্ভাব্য প্যানেল ও প্রার্থীদের নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। ২০১৩ সালের পর এবারই সরাসরি ভোটে চেম্বারের নেতৃত্ব নির্বাচিত হতে যাচ্ছে।

চেম্বার সূত্র জানায়, ২৪টি পরিচালক পদের জন্য এবার মোট ৭১ জন প্রার্থী মনোনয়ন জমা দিয়েছেন। যাচাই-বাছাই শেষে প্যানেল ঘোষণা করা হবে। ব্যবসায়ী মহলে আলোচনায় আছে, এবার তিনটি প্যানেল প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারে।

দীর্ঘ এক যুগ পর অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে চট্টগ্রাম চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের নির্বাচন। নির্বাচনকে ঘিরে ব্যবসায়ী মহলে একদিকে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা বিরাজ করছে। অপর দিকে সরকার বদলের পরও চেম্বারকে পরিবারতন্ত্র থেকে বের করে আনা যাবে কি না, তা নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করছেন ব্যবসায়ীদের একাংশ। উঠেছে ভোটার তালিকা নিয়ে অভিযোগও। 

সম্ভাব্য দলনেতাদের মধ্যে আছেন এফবিসিসিআইয়ের সাবেক পরিচালক ও সিকম গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা আমিরুল হক, চট্টগ্রাম চেম্বার ও বিজিএমইএর সাবেক সহসভাপতি এস এম নুরুল হক এবং বিএসবিআরএ সভাপতি আমজাদ হোসাইন চৌধুরী। এর মধ্যে আমিরুল হকের সঙ্গে সবচেয়ে বেশি সংখ্যক ব্যবসায়ী মনোনয়ন জমা দিয়েছেন। আমিরুল হক টিম লিডার হিসেবে অর্ডিনারি ক্যাটাগরিতে ২২ জন, অ্যাসোসিয়েট ক্যাটাগরিতে ৮ জন এবং ট্রেড ও গ্রুপ ক্যাটাগরিতে ৬ জনের মনোনয়নপত্র জমা দেন।

আগামী ১ নভেম্বর চট্টগ্রাম ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারে হবে ভোট। এবার ভোটার সংখ্যা ৬ হাজার ৭৮০। এর মধ্যে সাধারণ সদস্য ৪ হাজার ১ জন, সহযোগী সদস্য ২ হাজার ৭৬৪ জন, ট্রেড গ্রুপ প্রতিনিধি ১০ এবং টাউন অ্যাসোসিয়েশন প্রতিনিধি ৫ জন। সবগুলো পদেই ভোট হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। নির্বাচন বোর্ডের চেয়ারম্যান স্থানীয় সরকার বিভাগের পরিচালক মনোয়ারা বেগম।

আমিরুল হকের নেতৃত্বে ৩৬ জন প্রার্থী একসঙ্গে মনোনয়ন দিয়েছেন। তাদের সম্ভাব্য প্যানেলের নাম হতে পারে ‘ওয়ান টিম’। এ প্যানেলে সাধারণ গ্রুপে ২২ জন, সহযোগী গ্রুপে ৮ জন এবং ট্রেড ও টাউন অ্যাসোসিয়েশন গ্রুপে ৬ জন প্রার্থী রয়েছেন। এই প্যানেলে আছেন মেরিডিয়ান ফুডসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এস এম কামাল, আটলান্টিক ট্রেডার্সের শওকত আলী, ওয়াইএনটির তওসিফ আহমেদ, ইস্টার্ন অ্যাপারেলসের নাসির উদ্দিন চৌধুরীসহ অনেকে। আমিরুল হক বলেন, “আমরা চাই প্রকৃত ব্যবসায়ীরা চেম্বারের নেতৃত্বে আসুক। অনেক দিন পর নির্বাচন হচ্ছে, সবাই উৎসাহ নিয়ে অপেক্ষা করছে। সুষ্ঠু ভোট হলে ব্যবসায়ী সমাজের আস্থা আরও বাড়বে।”

এস এম নুরুল হকের নেতৃত্বে চট্টগ্রামের সচেতন ব্যবসায়ী সমাজের নামে আরেকটি প্যানেল মনোনয়ন দিয়েছে। তবে তারা টাউন অ্যাসোসিয়েশন ও ট্রেড গ্রুপ শ্রেণিকে বাদ দিয়েছে। এই প্যানেল থেকে ১৮ পদের বিপরীতে ২৩ জন প্রার্থী মনোনয়ন জমা দিয়েছেন। এদের মধ্যে রয়েছেন শাহ আমানত করপোরেশনের আহমদুল আলম চৌধুরী, অ্যাকর্ড হোল্ডিংসের শাহজাহান মহিউদ্দিন, ডায়মন্ড গ্রুপের আজিজুল হক, খাতুনগঞ্জ ট্রেড অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজ অ্যাসোসিয়েশনের জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি আহমদ রশিদ আমু।

এস এম নুরুল হক বলেন, প্রাথমিক ভোটার তালিকা থেকে ট্রেড গ্রুপ ও টাউন অ্যাসোসিয়েশন বাদ পড়লেও জাল কাগজপত্র দিয়ে তাদের ভোটার বানানো হয়েছে। আমরা চাই স্বচ্ছ নেতৃত্ব। তাই দুটি শ্রেণি বাদ রেখে মনোনয়ন দিয়েছি।

আরেকটি প্যানেলের নেতৃত্বে থাকতে পারেন বিএসবিআরএ সভাপতি আমজাদ হোসাইন চৌধুরী। তবে তিনি এখনই প্যানেল নিয়ে কিছু প্রকাশ করতে চাননি। আমজাদ হোসেন রাইজিং গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক। গ্রুপটির ব্যবসা রয়েছে জাহাজভাঙা শিল্প, রপ্তানি খাত ও সিএনজি ফিলিং স্টেশনে। এগ্রুপের চেয়ারম্যান বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য মো. আসলাম চৌধুরী, যিনি আমজাদ হোসাইন চৌধুরীর বড় ভাই। তিনি বলেন, এখনো যাচাই-বাছাই চলছে। কতজন প্রার্থী হয়েছে সেটি বলতে চাই না। তবে এবার অনেক নথিপত্র দিতে হয়েছে, যা ব্যবসায়ীদের জন্য বেশ কঠিন।

নির্বাচনে ঋণখেলাপিদের প্রার্থী হওয়ার সুযোগ নেই। প্রার্থীদের কর, ভ্যাট, শুল্ক পরিশোধের সনদ, পুলিশ ক্লিয়ারেন্স ও চেম্বার মেম্বারশিপ সার্টিফিকেট জমা দিতে হয়েছে। এসব কাগজ ঠিক না হলে মনোনয়ন বাতিল হবে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গে যোগাযোগ করে প্রার্থীদের খেলাপি হওয়ার তথ্য যাচাই করছে নির্বাচন বোর্ড। কেউ খেলাপি প্রমাণিত হলে তিনি বাদ যাবেন। ফৌজদারি মামলায় দোষী সাব্যস্ত হয়ে পাঁচ বছর না পার হলেও প্রার্থী হওয়া যাবে না।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ