বৃহস্পতিবার, ফেব্রুয়ারি ২৬, ২০২৬
প্রচ্ছদদেশজুড়েশিল্পকলায় নতুন অধ্যায়ের সূচনা

শিল্পকলায় নতুন অধ্যায়ের সূচনা

সরকার নতুন দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে বাংলাদেশের সংস্কৃতিকে দেশ-বিদেশে প্রচারের উদ্দেশ্যে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক (ডিজি) এবং চারজন পরিচালক নিয়োগ দিয়েছে। নবগঠিত পরিচালনা কাঠামো আধুনিক যুগের চাহিদা পূরণের জন্য শিল্পকলা একাডেমির পুনর্গঠনে কাজ করবে। এর মধ্যে রয়েছে—
– কার্যকর অনলাইন ও অফলাইন প্রশিক্ষণের মাধ্যমে স্থানীয় প্রতিভা লালন,
– দেশি-বিদেশি বিশেষজ্ঞ ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সহায়তায় নতুন কৌশল গ্রহণ,
– বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক সম্পদকে উপস্থাপনের পরিকল্পনা প্রণয়ন,
– জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক আইকন ও অনন্য ঘটনাবলি উদযাপন,
– এবং সঙ্গীত, নাটক, চলচ্চিত্র, নৃত্য, শিল্পকলা, আলোকচিত্র ও ক্রমবর্ধমান নতুন মিডিয়ার ক্ষেত্রে আগামী এক বছরের জন্য কিছু সুস্পষ্ট লক্ষ্য নির্ধারণ।

একাডেমি একইসাথে নতুন বিভাগ খোলার উদ্যোগ নেবে, যা শিল্পকলার গুরুত্বপূর্ণ শাখাগুলোকে অন্তর্ভুক্ত করবে। এশিয়ান আর্ট বায়েনাল পুনর্গঠনের পাশাপাশি শিল্পকলা একাডেমির পরিচালকরা আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন চলচ্চিত্র, নাটক, সঙ্গীত ও নৃত্য উৎসব আলাদাভাবে আয়োজনের পরিকল্পনা হাতে নেবেন।

আমাদের অনন্য সাংস্কৃতিক পরিচয় এক রঙিন মোজাইকের মতো। নতুন -কে উন্নয়ন ও নেতৃত্ব জুলাই-পরবর্তী বাংলাদেশে গড়ে ওঠা সেই দৃষ্টিভঙ্গিকে ধরে রাখবে, যেখানে কোনো ধর্মীয় বা জাতিগত পরিচয় অবহেলিত বা বঞ্চিত মনে করা হবে না। জুলাই-পরবর্তী বাংলাদেশ যে অন্তর্ভুক্তিমূলক সাংস্কৃতিক ধারা প্রত্যক্ষ করছে, তা আরও জোরদার হবে।বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি শিল্পী, সংস্কৃতিসেবী ও সৃজনশীল মেধাবীদের জন্য একটি প্রাণকেন্দ্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত ও বহাল থাকতে হবে।

নবনিযুক্ত মহাপরিচালক ও পরিচালকদের সংক্ষিপ্ত পরিচিতি নিম্নে পদত্ত হলো:

রেজাউদ্দিন স্টালিন, মহাপরিচালক : রেজাউদ্দিন স্টালিন একজন খ্যাতিমান বাংলাদেশি কবি, লেখক ও টেলিভিশন ব্যক্তিত্ব। তিনি আশির দশকের অন্যতম উল্লেখযোগ্য কবি। তাঁর প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থের সংখ্যা ৪৫। তাঁর কবিতা বহু ভাষায় অনূদিত হয়েছে। ২০০৬ সালে তিনি বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার লাভ করেন।

শাহীন দিল-রিয়াজ, পরিচালক, প্রশিক্ষণ বিভাগ : শাহীন দিল-রিয়াজ ইউরোপ ও এশিয়াভিত্তিক একজন বাংলাদেশি চলচ্চিত্র নির্মাতা, পরিচালক, প্রযোজক ও লেখক। তিনি বার্লিনের ফ্রাই ইউনিভার্সিটি এবং কনরাড উলফ ইউনিভার্সিটি অব ফিল্ম অ্যান্ড টেলিভিশন থেকে সিনেমাটোগ্রাফিতে স্নাতক সম্পন্ন করেন। তাঁর প্রথম চলচ্চিত্র Sand and Water মুক্তি পায় ২০০২ সালে। এরপর থেকে তিনি স্বাধীন চলচ্চিত্র নির্মাতা হিসেবে আন্তর্জাতিকভাবে কাজ করছেন এবং জার্মানির কনস্টান্স বিশ্ববিদ্যালয়ে ফেলো ও অতিথি শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি নতুন বিভাগ ও কর্মসূচি প্রতিষ্ঠা ও উন্নয়নে এবং বিএসএ-এর দীর্ঘমেয়াদি দৃষ্টিভঙ্গি বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবেন।

ড্যানিয়েল আফজালুর রহমান, পরিচালক, প্রযোজনা বিভাগ : ড্যানিয়েল রহমান ব্র্যান্ড এবং গণমাধ্যম বিশেষজ্ঞ, যাঁর রয়েছে দুই দশকেরও বেশি অভিজ্ঞতা। তিনি দেশের শীর্ষ এফএম রেডিও স্টেশনগুলো—যেমন রেডিও ফুর্তি, রেডিও এবিসি ইত্যাদি—প্রতিষ্ঠা বা পরিচালনায় যুক্ত ছিলেন। তিনি সমসাময়িক বাংলা সংগীতের স্বর্ণযুগের অন্যতম উদ্যোক্তা এবং দেশের অনেক শীর্ষ শিল্পীর প্রতিভা বিকাশে অবদান রেখেছেন। তাছাড়া, তিনি বাংলাদেশে ডিজিটাল মার্কেটিংয়ের পথিকৃৎ, ২০১০ সালে এর ভিত্তি স্থাপন করেন। তিনি মূলত আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বাংলাদেশের উৎসব ও সাংস্কৃতিক ঘটনাবলিকে বৈশ্বিক সাংস্কৃতিক সম্পদ হিসেবে প্রতিষ্ঠার দায়িত্বে থাকবেন।

সালমা জামাল মৌসুম, পরিচালক, গবেষণা ও প্রকাশনা বিভাগ : সালমা জামাল মৌসুম গিদ্রী বাওলি ফাউন্ডেশন অব আর্টসে গবেষণা ও পরিকল্পনা সমন্বয়ক হিসেবে কাজ করছেন, যেখানে তিনি সহযোগিতামূলক ও নির্দিষ্ট স্থানভিত্তিক আন্তর্জাতিক শিল্প প্রকল্প পরিচালনা করেন। তিনি ২০০৫ সাল থেকে ঢাকার জনশিল্প আন্দোলন ছবির হাট-এ সক্রিয় রয়েছেন। এর আগে তিনি অসলোভিত্তিক শান্তি গবেষণা প্রতিষ্ঠানে (PRIO) ডেটা বিশ্লেষক হিসেবে কাজ করেছেন। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও কোভেন্ট্রি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করেছেন। তাঁর গবেষণার বিষয়বস্তু হলো সমাজভিত্তিক শিল্প, সহযোগিতামূলক চর্চা এবং শিল্পভিত্তিক সামাজিক আন্দোলন। মৌসুম বিএসএ-র শিল্পকলা বিষয়ক কর্মসূচির পুনর্গঠন পরিকল্পনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবেন।

দীপক কুমার গোস্বামী, পরিচালক, নাটক ও চলচ্চিত্র বিভাগ: দীপক কুমার গোস্বামী একজন বাংলাদেশি নাট্য ও চলচ্চিত্র অভিনেতা, ভয়েস-ডাবিং শিল্পী এবং পরিচালক। তিনি তীরন্দাজ রিপার্টরি নাট্যদলের প্রধান। তিনি তালাশ ও লাল মোরগের ঝুঁটি চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন এবং উল্লেখযোগ্য বাংলা ডাবিং প্রজেক্ট পরিচালনা করেছেন। সম্প্রতি তাঁর নির্মিত প্রামাণ্যচিত্র Deepak Kumar Goswami Speaking: Being Hindu in Bangladesh is Not a Black and White Story ২০২৫ সালে যুক্তরাজ্যের হাউস অব কমন্স এবং লন্ডনের SOAS বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রদর্শিত হয়েছে। তিনি নাটক ও চলচ্চিত্র বিভাগকে পূর্ণাঙ্গ রূপে প্রতিষ্ঠিত না হওয়া পর্যন্ত এর দায়িত্ব পালন করবেন।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ