সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরীর বিদেশে অবৈধ সম্পদ অর্জনের আরও চাঞ্চল্যকর তথ্য মিলেছে। যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র, দুবাই ও সিঙ্গাপুরে তাঁর সম্পদের প্রমাণ আগেই পাওয়া গিয়েছিল। এবার উদ্ধার হওয়া নথিতে দেখা গেছে—ভারত, থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়া, ফিলিপাইন, কম্বোডিয়ায়ও সাইফুজ্জামান চৌধুরীর মালিকানাধীন বিপুল পরিমাণ সম্পদ রয়েছে। রোববার দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) জনসংযোগ বিভাগের উপপরিচালক আকতারুল ইসলাম এ তথ্য জানিয়েছেন।
এর আগে দুদকের অনুসন্ধান টাস্কফোর্সের সদস্যরা জানিয়েছেন, শনিবার দিবাগত রাত ৪টা ১৫ মিনিটে (২১ সেপ্টেম্বর) চট্টগ্রামের কর্ণফুলী উপজেলার শিকলবাহা ইউনিয়নের একটি বাড়ি থেকে ২৩ বস্তা নথিপত্র উদ্ধার করা হয়।
দুদক সূত্র জানায়, এসব নথি আরামিট গ্রুপের মালিকানাধীন শিল্পপ্রতিষ্ঠান থেকে সরিয়ে সেখানে লুকিয়ে রাখা হয়েছিল। উদ্ধারের সময় স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান, কর্ণফুলী থানার পুলিশ এবং এলাকাবাসী উপস্থিত ছিলেন। প্রাথমিক পর্যালোচনায় দেখা গেছে, দেশি-বিদেশি বহু সম্পত্তি কেনা, ভাড়া বাবদ আয়, বাড়ি রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয়সহ বিভিন্ন তথ্য রয়েছে এসব নথিতে। তাতে বিদেশে বিপুল অর্থ পাচার তথা মানিলন্ডারিংয়ের প্রমাণও মিলেছে বলে জানিয়েছে টাস্কফোর্স।
টাস্কফোর্স কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এত বিপুল পরিমাণ নথি পর্যালোচনা করতে সময় লাগবে। ধাপে ধাপে সব যাচাই করে সুনির্দিষ্ট প্রমাণসহ প্রতিবেদন দুদকের কাছে জমা দেওয়া হবে।
দুদকের প্রধান কার্যালয়ের উপপরিচালক মশিউর রহমান জানান, সাবেক ভূমিমন্ত্রীর ঘনিষ্ঠ দুই সহযোগীর পাঁচ দিনের রিমান্ড চলছে। জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে, অনেক নথিপত্র গায়েব করা হয়েছে। এগুলো জাবেদের স্ত্রী রুকমিলা জামানের গাড়িচালক ইলিয়াসের বাসায় রাখা ছিল। গত শুক্রবার সেখানে অভিযান চালায় দুদক। কিন্তু আগেই তথ্য পেয়ে বস্তাগুলো সরিয়ে ফেলা হয়। ওই দিন ওই বাসার সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে দেখা যায়, দুদকের দল যাওয়ার আধা ঘণ্টা আগে আলামতগুলো সরিয়ে ফেলা হয়।
মশিউর রহমান বলেন, পরে আমরা একটি ছোট বাসা থেকে ২৩ বস্তা আলামত জব্দ করেছি। কয়েকটি বস্তা খুলে দেখা গেছে, বিদেশে সম্পদ অর্জনের ক্রয়সংক্রান্ত পেমেন্ট, বাড়ি ভাড়া আদায়ের তথ্য, বিভিন্ন বিল পরিশোধ, কোর্টের আদেশসংক্রান্ত ডকুমেন্টস রয়েছে।’




