রবিবার, অক্টোবর ২৫, ২০২৬
প্রচ্ছদচট্রগ্রাম প্রতিদিনসাবেক হুইপ সামশুল হকের পরিবারের ব্যাংক একাউন্ট জব্দ, ক্যাসিনো কেলেঙ্কারির ফের তদন্ত

সাবেক হুইপ সামশুল হকের পরিবারের ব্যাংক একাউন্ট জব্দ, ক্যাসিনো কেলেঙ্কারির ফের তদন্ত

চট্টগ্রাম-১২ (পটিয়া) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও জাতীয় সংসদের হুইপ সামশুল হক চৌধুরী এবং তার পরিবারের ছয় সদস্যের ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধ করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। অবৈধ সম্পদ অর্জন, ক্যাসিনো ব্যবসায় সংশ্লিষ্টতা এবং অর্থপাচারের অভিযোগে চলমান তদন্তের অংশ হিসেবে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

দুদক সূত্রে জানা গেছে, গত বছরের ২ অক্টোবর এই তদন্ত প্রক্রিয়া আবারও সক্রিয় হয়, যা এখন নতুন মাত্রা পেয়েছে। এর আগেও সামশুল হকের বিরুদ্ধে একই ধরনের অভিযোগে অনুসন্ধান হলেও তিনি একাধিকবার দায়মুক্তি পেয়েছেন।

শনিবার (১২ এপ্রিল) দুদক চট্টগ্রাম জেলা কার্যালয়-২ এর উপ-পরিচালক মো. আতিকুল আলম জানান, সামশুল হক চৌধুরী ও তার পরিবারের ছয় সদস্যের একাধিক ব্যাংক হিসাব ফ্রিজ করা হয়েছে। তবে কোন ব্যাংকে কত অর্থ রয়েছে তা বিস্তারিত জানাতে পারেননি।

দুদকের পাঠানো চিঠির ভিত্তিতে যাদের হিসাব অবরুদ্ধ করা হয়েছে তারা হলেন সামশুল হক চৌধুরী (সাবেক এমপি ও হুইপ), তার স্ত্রী কামরুন নাহার চৌধুরী, ছেলে নাজমুল করিম চৌধুরী শারুন, দুই মেয়ে তাকলিমা নাছরিন চৌধুরী ও তাহমিনা নাসরিন চৌধুরী, দুই বছরের ভাই ফজলুল হক চৌধুরী মহব্বত ও মজিবুল হক চৌধুরী নবাব।

২০১৯ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর দেশজুড়ে শুরু হওয়া ক্যাসিনোবিরোধী অভিযানের পরই সামশুল হক চৌধুরীর নাম আলোচনায় আসে। অভিযোগ ছিল, তিনি চট্টগ্রামে ক্যাসিনো ব্যবসায় জড়িত এবং ক্ষমতার অপব্যবহার করে বিপুল অবৈধ সম্পদ অর্জন করেছেন।

২০১৯ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর দুদক তার বিরুদ্ধে অনুসন্ধান শুরু করে এবং একই বছরের ২৩ অক্টোবর ২২ জনের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা জারি করে, যার মধ্যে সামশুল হকও ছিলেন।

তবে চার বছর পর, ২০২৩ সালের ৮ মে দুদকের তৎকালীন সচিব মাহবুব হোসেন স্বাক্ষরিত এক আদেশে তাকে অভিযোগ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। দাবি করা হয়, তার বিরুদ্ধে অভিযোগের সুনির্দিষ্ট প্রমাণ মেলেনি।

দুদকের আগের অনুসন্ধান নিয়ে প্রচুর  সমালোচনা আছে। অভিযোগ রয়েছে, প্রভাবশালীদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা না নিয়ে অভিযোগপত্র দাখিল ছাড়াই তদন্ত বন্ধ করে দেওয়া হয়। কোন কোন ক্ষেত্রে অভিযুক্তদের দায়মুক্তিও দিয়েছেন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, সামশুল হকের মতো প্রভাবশালী রাজনীতিকদের জিজ্ঞাসাবাদ না করেই দায়মুক্তি দেওয়া প্রশ্নবিদ্ধ। এদিকে, তার বিরুদ্ধে তথ্য দেওয়া পুলিশেরই একজন কর্মকর্তা—পরিদর্শক সাইফ আমিন পরে আদালতে দণ্ডপ্রাপ্ত হন, যা বিষয়টিকে আরও জটিল করেছে।

আত্মগোপনে সাবেক এমপি ও পরিবার
সর্বশেষ তথ্যমতে, সামশুল হক চৌধুরীর ছেলে নাজমুল করিম চৌধুরী শারুন ইতোমধ্যে দুবাই পালিয়ে গেছেন। অন্যদিকে, পরিবারের অন্যান্য সদস্য—স্ত্রী, দুই মেয়ে এবং দুই ভাই যশোর সীমান্ত এলাকার বিভিন্ন স্থানে আত্মগোপনে রয়েছেন বলে গোয়েন্দা সূত্র জানিয়েছে।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ