চট্টগ্রাম রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চলে (সিইপিজেড) প্যাসিফিক জিন্স গ্রুপের সহযোগী প্রতিষ্ঠান প্যাসিফিক ক্যাজুয়ালস লিমিটেড তাদের দুটি ইউনিট অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করায় শ্রমিকদের বিক্ষোভ থেকে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।
এতে অন্তত ১৫-২০ জন শ্রমিক আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে কয়েকজনকে সিইপিজেড এলাকার বেপজা হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
রোববার (৯ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় এক নোটিশের মাধ্যমে ইউনিট-১ ও ইউনিট-২ বন্ধের ঘোষণা দেয় কারখানা কর্তৃপক্ষ। কারখানার মানবসম্পদ ও প্রশাসন বিভাগের সিনিয়র ম্যানেজার স্বাক্ষরিত ওই নোটিশে বলা হয়েছে, ইপিজেড শ্রম আইন ২০১৯-এর ১২(১) ধারা অনুযায়ী এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
নোটিশে আরও উল্লেখ করা হয়, শ্রমিকরা অবৈধভাবে উৎপাদন বন্ধ করে দিয়েছেন এবং অযৌক্তিক দাবি তুলেছেন, যা কারখানার স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত করছে। এ কারণে ১২ ফেব্রুয়ারি (সোমবার) থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য ইউনিট দুটি বন্ধ থাকবে।
প্যাসিফিক জিন্স গ্রুপের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, গত এক মাস ধরে শ্রমিকরা নাস্তা ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধার দাবিতে অসন্তোষ প্রকাশ করছিলেন। তবে মজুরি বা ভাতার সঙ্গে এই অসন্তোষের কোনো সম্পর্ক নেই বলে তিনি দাবি করেন।
তিনি আরও জানান, ম্যানেজমেন্ট এর আগে শ্রমিকদের বেশ কয়েকটি দাবি মেনে নিয়েছিল। কিন্তু রোববার সকালে আবারও শ্রমিকরা বিক্ষোভ শুরু করেন, যা শেষ পর্যন্ত উত্তেজনাকর পরিস্থিতি তৈরি করে। পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় দুপুর ২টার দিকে কারখানা বন্ধ করে দেওয়া হয়।
এভাবে চলতে থাকলে কর্তৃপক্ষ সব কারখানা বন্ধ করে দিতে বাধ্য হবে। শুধু এই দুটি ইউনিটে প্রায় ৬-৭ হাজার শ্রমিক কাজ করেন বলে জানান তিনি।
বিশ্বস্ত সূত্র জানিয়েছে, প্যাসিফিক জিন্স গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ মোহাম্মদ তানভীর ইউনিট-১ ও ইউনিট-২ অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করলেও গ্রুপের অন্যান্য কারখানা চালু রেখেছেন। এতে বন্ধ কারখানার শ্রমিকদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দেয় এবং তারা অন্যান্য কারখানার শ্রমিকদেরও কাজ বন্ধ করতে বলেন।
এনিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা বাড়তে থাকলে অন্যান্য কারখানার শ্রমিকরা লাঠিসোঁটা নিয়ে বন্ধ কারখানার শ্রমিকদের ওপর হামলা চালান,ফলে দু’পক্ষের একাধিকজন আহত হন।
বিষয়টি নিশ্চিত করে চট্টগ্রাম শিল্প পুলিশের এএসপি জসিম উদ্দিন বলেন, “আজ (সোমবার) সকালে বন্ধ কারখানার শ্রমিকরা এসে একই মালিকানাধীন অন্যান্য কারখানার শ্রমিকদের বের করার চেষ্টা করেন। এতে উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়।
তিনি আরও বলেন, অন্য কারখানার শ্রমিকরা বলছেন, তাদের কারখানা তো বন্ধ ঘোষণা করা হয়নি, তাহলে তারা কেন কাজ বন্ধ করবেন না? এ নিয়েই দু’পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া হয়। পরে আমরা ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনি। বর্তমানে এএসপি সাইদুর রহমান ঘটনাস্থলে রয়েছেন, এবং পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।
এদিকে বন্ধ কারখানার শ্রমিকদের অভিযোগ, বহিরাগত সন্ত্রাসীদের দিয়ে আমাদের ওপর হামলা চালানো হয়েছে।
এ বিষয়ে মন্তব্যের জন্য প্যাসিফিক জিন্স গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ মোহাম্মদ তানভীরের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি সাড়া দেননি।
সিইপিজেডের নির্বাহী পরিচালক আবদুস সোবহান বলেন, আমি ঘটনাটি শুনেছি, তবে এখনো বিস্তারিত জানি না। এটা সত্য যে, কারখানা বন্ধের ঘোষণার পর অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটেছে।