পাকিস্তানের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থগিতের দাবিতে বৃহস্পতিবার বিকালে গণজাগরণ মঞ্চের মিছিলে পুলিশ লাঠিপেটা করে। এতে মঞ্চের মুখপাত্র ইমরান এইচ সরকারসহ বহু নেতাকর্মী আহত হয়েছেন।
ঘটনাস্থল থেকে বেশ কয়েকজন নেতাকর্মীকেও আটক করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন মঞ্চের সদস্যরা। পরে গুলশানেই এক সংবাদ সম্মেলনে নতুন কর্মসূচির ঘোষণা করেন মঞ্চের অন্যতম সমন্বয়ক মারুফ রসুল। মিছিলে কর্মীদের হাতে থাকা জাতীয় পতাকার অবমাননা করায় পুলিশের তীব্র সমালোচনা করা হয় সংবাদ সম্মেলনে।
মারুফ বলেন, গণজাগরণ মঞ্চের শান্তিপূর্ণ ও অহিংস কর্মসূচিতে পুলিশ ‘হামলা’ চালিয়েছে। এতে ইমরান এইচ সরকার, মাহমুদুল হক মুনশী ও আরিফ নূরসহ শতাধিক নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। এছাড়া মঞ্চের ২০ জনেরও বেশি নেতাকর্মীকে আটক করেছে পুলিশ।
“তাদের মুক্তির দাবিতে ও জাতীয় পতাকার অবমাননার প্রতিবাদে আগামীকাল শুক্রবার শাহবাগের প্রজন্ম চত্বরে বিক্ষোভ সমাবেশ হবে। আজকের মধ্যে আটক নেতাকর্মীদের মুক্তি না দিলে আগামীকালের সমাবেশ থেকে কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।”
কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করতে সরকারকে বেঁধে দেয়া ২০ ঘণ্টা সময় পার হওয়ার পর মঞ্চের কর্মীরা বৃহস্পতিবার বিকালে গুলশান-২ নম্বরের তাহের টাওয়ারের নিচে অবস্থান নেন।
বিকাল ৩টা ৫মিনিটে পুলিশ তাদের সেখান থেকে সরিয়ে দেয়ার চেষ্টা করলে দুই পক্ষের মধ্যে ধস্তাধস্তি হয়।এ সময় পুলিশের লাঠিপেটায় ইমরান, মুক্তিযোদ্ধা আবুল কালাম আজাদসহ (বীরপ্রতীক) নেতাকর্মীরা আহত হন। ইমরান ও আজাদকে প্রথমে ল্যাবএইড হাসপাতালে এবং ইমরানকে সেখান থেকে ইউনাইটেড হাসপাতালে পাঠানো হয়।
মঞ্চের কর্মীরা ল্যাবএইড হাসপাতালের সামনে জড়ো হয়ে শ্লোগান দিতে শুরু করে সেখানে তৃতীয় দফা লাঠিপেটা করে পুলিশ। গুলশানের ওসি রফিকুল ইসলাম পরে বলেন, ঘটনাস্থল থেকে পাঁচজনকে আটক করা হলেও পরে থানা থেকে তাদের ছেড়ে দেয়া হয়েছে।
গুলশান পুলিশের উপ কমিশনার খন্দকার লুৎফুল কবির বলেন, ভিয়েনা কনভেনশন অনুসারে কূটনীতিক এলাকায় মিছিল-মিটিং নিষেধ। এ কারণেই গণজাগরণ মঞ্চের কর্মীদের সরিয়ে দেয়া হয়েছে।




