দেশে দুর্নীতিতে ছেয়ে গেছে। ঠিক করতে সময় লাগবে। আশা করি নতুন বাংলাদশ তৈরিতে সবাই পাশে থাকবেন। রোববার (১৮ আগস্ট) ঢাকায় নিযুক্ত বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত ও মিশন প্রধানদের এসব কথা বলেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস।
তিনি বলেন, ছাত্র আন্দোলনে শত শত মানুষ মারা গেছে। হাজারো মানুষ আওয়ামী লীগ ও তার দলবলের দ্বারা আহত হয়েছে। অনেক ছাত্র চোখে গুলি খেয়েছে, আমি তাদের দেখতে গিয়েছিলাম। আমরা জানি না ওদের কি হবে।
ড. ইউনূস বলেন, ক্ষমতায় টিকে থাকতে শেখ হাসিনা সব প্রতিষ্ঠানকে ধ্বংস করেছে। এই সরকারের অগ্রাধিকার হলো আইন শৃংখলা বাহিনীর দ্বারা সমাজে শান্তি ফিরিয়ে আনা। তিনি আরও বলেন, পৃথিবীর কোনো দেশের ছাত্রদেরকে এত ত্যাগ করতে হয়নি। পৃথিবীর কোথাও নাগিরকেরা এতটা মানবাধিকার বঞ্চিত হয়নি।
প্রধান উপদেষ্টা বলেন, বাংলাদেশের বন্ধু রাষ্ট্রের কাছে কৃতজ্ঞ, সংকটকালীন তারা আমাদের সহায়তা করেছে। বর্তমানে একটি চ্যালেঞ্জিং সময় পার করছি। দুই সপ্তাহ হলো বাংলাদেশে দ্বিতীয় বিপ্লব সাধিত হয়েছে। হাজার হাজার মানুষ স্বৈরশাসক শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলেছে। তিনি দেশ থেকে পালিয়ে গেছেন।
তিনি বলেন, সাধারণ মানুষের স্বাধীনতার জন্য ছাত্রজনতা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। শত শত মানুষ মারা গেছে, হাজার হাজার মানুষ আহত। আমি আশা করি- আপনারা আমাদের সহায়তা করতে পারেন। অনেক শিক্ষার্থী বুলেটের আঘাতে আহত হয়েছেন। অনেকের রাবার বুলেট চোখে লেগেছে।
ড. ইউনূস বলেন, আমি তরুণদের সম্মান জানাই, যারা দেশের জন্য আত্মত্যাগ করেছেন। গণতান্ত্রিক মতপ্রকাশের জন্য তারা আত্মত্যাগ করেছেন। বৈষম্যহীন, বন্ধুত্বপূর্ণ দেশ চায় তরুণ সমাজ।
উল্লেখ্য, ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মুখে ৫ আগস্ট প্রধানমন্ত্রীর পদ ছেড়ে দেশত্যাগ করেন শেখ হাসিনা। ওই আন্দোলনে ঢাকাসহ সারাদেশে কয়েকশ মানুষের প্রাণহানি হয়। সরকার পতনের পর ড. ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকার গঠন করা হয়। এরপর উপদেষ্টারা বিভিন্ন দলের নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেন। সংখ্যালঘুদের ওপর হামলার অভিযোগ ও বিক্ষোভের মধ্যে ঢাকেশ্বরী মন্দির পরিদর্শন করে তাদের নেতাদের সঙ্গে কথা বলেন ড. ইউনূস।




