গত ৩১ অক্টোবর সহিংসতায় হতাহতের ঘটনায় জাতিসংঘ মানবাধিকার হাইকমিশনারের অফিস থেকে দেওয়া সাম্প্রতিক বিবৃতির প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ সরকার। যে বিবৃতি দেওয়া হয়েছে, সেটির ভুল তথ্যগুলো সঠিক তথ্য দিয়ে সংশোধন করা হবে বলে আশা প্রকাশ করে সরকার।
বুধবার (১ নভেম্বর) রাতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ওই বিবৃতির বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয় ‘দুঃখজনকভাবে জাতিসংঘ মানবাধিকার হাইকমিশনারের অফিস সম্ভবত বিএনপির অপপ্রচার প্রচারনার ফাঁদে পড়ে গেছে।’ বিবৃতিতে উল্লেখিত ‘মুখোশধারী ব্যক্তি’ মোটরসাইকেলে করে বা ‘যাদের মনে করা হচ্ছে’ সরকারি দলের সমর্থক, এমন ধরনের ধারণা সরকার প্রত্যাখ্যান করে।
বুধবার (১ নভেম্বর) জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী মিশন থেকে জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনারের কাছে এ সংক্রান্ত চিঠি পাঠানো হয়েছে। চিঠির সঙ্গে ২৮ অক্টোবরের সহিংসতার কিছু ছবি ও ভিডিও ফুটেজ যুক্ত করে দেওয়া হয়েছে।
এতে বলা হয়, বাস, ফায়ার সার্ভিসের ট্রাকসহ অন্যান্য গাড়িতে অগ্নিসংযোগ করা হয়, প্রধান বিচারপতি ও দেশের সর্বোচ্চ আদালতের অন্যান্য বিচারকদের বাসভবন ভাঙচুর করা হয়। পুলিশ হাসপাতাল চত্বর ও অ্যাম্বুলেন্সে আগুন দেওয়া হয় এবং বেশ কয়েকটি থানায় ভাঙচুর করা হয়, সাংবাদিক ও ক্যামেরাপারসনদের আক্রমণ করা হয়েছে। এমনকি বিএনপির এমন ক্রমাগত নৃশংসতার মুখেও সরকার এবং এর আইনশৃঙ্খলা বাহিনী অত্যন্ত সংযম ও ধৈর্য্য প্রদর্শন করেছে এবং আইনশৃঙ্খলা নিশ্চিত করতে সর্বোত্তম শক্তি প্রয়োগ করেছে।
আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে বিভ্রান্ত করতে এবং সহানুভূতি অর্জনের জন্য বিএনপি মিথ্যা তথ্য দিচ্ছে উল্লেখ করে চিঠিতে বলা হয়েছে, বিএনপি সদরদপ্তরে এক সংবাদ সম্মেলনে মার্কিন প্রেসিডেন্টের ভুয়া উপদেষ্টার পরিচয় দিয়ে জাতিকে বিভ্রান্ত করা হয়েছে। জনগণ ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে বিভ্রান্ত করার পেছনে বিএনপির উদ্দেশ্য হচ্ছে আগামী নির্বাচন ও সাংবিধানিক প্রক্রিয়াকে ব্যাহত করা। দুর্ভাগ্যবশত, ওএইচসিএইচআর বিএনপির মিথ্যা তথ্য প্রচারের জন্য বিভ্রান্ত হয়ে থাকতে পারে।
এতে আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়, ওএইচসিএইচআর বিশ্বব্যাপী মানবাধিকার প্রতিষ্ঠায় সমাদৃত। এর কাজ অবশ্যই বস্তুনিষ্ঠতা, নিরপেক্ষতার নীতিগুলো প্রতিফলিত করবে। ফলে কোনো বিবৃতি প্রকাশের আগে সঠিক তথ্য সংগ্রহ ও তা যাচাই করে পর্যালোচনা করা প্রয়োজন। বাংলাদেশ সরকার আশা করে গত ৩১ অক্টোবর ওএইচসিএইচআর যে বিবৃতি দিয়েছে বাস্তবতার নিরিখে তা সংশোধন করবে।
সরকার যে কোনো মূল্যে জনগণের ভোটাধিকার নিশ্চিত করতে এবং একটি অবাধ, সুষ্ঠু, বিশ্বাসযোগ্য ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য প্রতিশ্রুতিবদ্ধ উল্লেখ করে চিঠিতে বলা হয়, নির্বাচন কমিশন (ইসি) স্বাধীন সাংবিধানিক সংস্থা। আগামী সাধারণ নির্বাচনের আগে নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে তারা নিয়মিত সংলাপ করছে। ইসি স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে নির্বাচন প্রক্রিয়া পর্যবেক্ষণকে অত্যন্ত গুরুত্ব দেয়। এ বিষয়ে ইসি বাংলাদেশের আসন্ন দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন পর্যবেক্ষণের জন্য আন্তর্জাতিক নির্বাচন পর্যবেক্ষক ও বিদেশি গণমাধ্যমকে আমন্ত্রণ জানিয়েছে।




