ষ্টাফ রিপোর্টার (বিডিসময়২৪ডটকম)
প্রধান নির্বাচন কমিশনার কাজী রকিবউদ্দীন আহমদ বড় দুই রাজনৈতিক দলকে সমঝোতার আহ্বান জানিয়ে বলেন, সহিংসতা গণতন্ত্রের ভাষা নয়। সহিংসতার পথ পরিহার করে শান্তির পথে আসার জন্য তিনি তাদের আহ্বান জানান। রবিবার দুপুরে নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ে সাংবাদিকদের তিনি একথা বলেন।
সরকারী দল উৎসব মুখর পরিবেশে মনোনয়নপত্র বিল করছেন আর বিরোধীদল কারাগারে বিষয়টিকে আপনারা কিভাবে দেখছেন এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, দুই দলের সমঝোতার বিষয়টি নির্বাচন কমিশনের দায়িত্বের মধ্যে পড়ে না। আইন অনুযায়ী নির্বাচন অনুষ্ঠান সম্পন্ন করা নির্বাচন কমিশনের দায়িত্ব। দেশ বাসি চায় শান্তিপূন্য নির্বাচন। সবাই সবার প্রতি যত্নবান হতে হবে। তাই আমি সবার প্রতি আবারো আহহ্বান জানবো অরাজকতার পথ পরিহার করে শান্তির পথে আসুন।
তিনি বলেন, তফসিল ঘোষণার পর কমিশন সকল দল ও প্রার্থীকে সামন সুযোগ দেয়ার জন্য লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরি করবো। আর ৪০-৪৫দিন সময় হাতে রেখে তফসিল ঘোষণা করা হবে। তিনি বলেছেন,সহিংস রাজনৈতিক হরতালের মতো কার্যকলাপে যাতে আসন্ন নির্বাচন বাঁধাগ্রস্ত এবং গণতন্ত্র যাতে বিনষ্ট না হয় সে জন্য দেশবাসীকে সজাগ থাকতে বলেছেন তিনি।
তিনি আরো বলেন, দেশবাসি চায় একটি শান্তিপূর্ণ নির্বাচন। সহিংসতা নয়। তিনি দৃঢ়ভাবে বলেন , সহিংসতা গণতন্ত্রের ভাষা নয়। সকলের অংশগ্রহণে একটি শান্তিপূর্ণ নির্বাচন হোক এটাই আশা করে ইসি।
সিইসি গণতন্ত্রের স্বার্থে সকল রাজনৈতিক দলকে সমঝোতায় আসার আহ্বান জানান। একটি শান্তিপূর্ণ , সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের জন্য প্রয়োজনে শেষ মুর্হুত পর্যন্ত অপেক্ষা করতে রাজি আছে নির্বাচন কমিশন। প্রধান নির্বাচন কমিশনার বলেছেন, কার্ট অব ডেটে তফসিল ঘোষণা করা হবে। নির্ধারিত সময় ৪৫ দিনের আগে আরো কিছুটা নিরাপদ সময় হাতে রেখেই ঘোষিত হবে তফসিল।
সাংবিধানিক নিয়ম অনুযায়ী নির্ধারিত সময়ে নির্বাচন অনুষ্ঠিত করার প্রত্যয় ঘোষণা করে ফের সিইসি জানালেন, এরই মধ্যে বিরোধি দল এবং সরকারের মধ্যে সমঝোতা হবে এমনটিই আশা করেন তিনি। তিনি জোর দিয়ে বলেন, জনগণ শান্তিপূর্ণ নির্বাচন চায়। নির্বাচন কমিশনও একটি শান্তিপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠানে সকল দলের সহযোগিতা চায়।
কাজী রকিব উদ্দিন আহমদ বলেন, উচ্চ আদালতের রায়ে জামায়ত অবৈধ ঘোষিত হয়েছে । ওই রায় এখন কার্যকর। যে কারণে জামায়ত আসন্ন নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে পারবেনা। তবে এরই মধ্যে যদি জামায়ত আপীল আদালতে এই রায়ের বিরুদ্ধে আপীল করে এবং পূর্ণাঙ্গ রায়ের বিকল্প কিছু রায় হয় সে ক্ষেত্রে পরবর্তী পদক্ষেপ নেবে ইসি। নয়তো উচ্চ আদালতের রায় ছাড়া আরো কিছু পদক্ষেপ থাকলে জামায়াতের বিরুদ্ধে সেটাই নেবে ইসি।
নির্বাচনী আচারণ বিধি বিষয়ে মাঠ পর্যায় থেকে মতামত নেওয়ার সময় শেষ হয়েছে শনিবার। যারা ইমেইল, চিঠির মাধ্যমে মতামত দিয়েছেন তাদের সেই মতামত পর্যালোচনা করা হচ্ছে। তফসিল ঘোষণার আগেই আচারণবিধি চূড়ান্ত করে প্রকাশ করা হবে। সিইসি আশা করেন রাজনৈতিক সমঝোতার মাধ্যমে সকলের অংশগ্রহনে একটি শান্তিপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।
আরপিও অনুসারে রায়েরে বিষয়ে জেট প্রকাশ করার নির্দেশ থাকলেও কমিশন জামাতের নিবন্ধনের বাতিলের বিষয়ে গেজেট প্রকাশ করবেনা তা সুস্পষ্ট ভাবে কিছুই বলেনি। তবে জামায়াত যদি হাইকোর্টে রায়ের বিরুদ্ধে সুপ্রিমকোর্টে আপিল করে তারপর কোর্টের রায়ের ভিত্তিতে কমিশন সিদ্ধান্ত নিবে। অর্থাৎ কমিশন সুপ্রিম কোর্টের রায় পর্যন্ত বিষয়টি দেখবে । আর যদি সুপ্রিম কোর্ট হাইকোর্টের রায় বহাল রাখে তাহলে জামাত নির্বাচনে অংশ গ্রহণ করতে পারবে না।




