বুধবার, অক্টোবর ২৮, ২০২৬
প্রচ্ছদচট্রগ্রাম প্রতিদিনপটিয়ায় আরও ১০ করোনা পজিটিভ

পটিয়ায় আরও ১০ করোনা পজিটিভ

চট্টগ্রামের পটিয়ায় একদিনে আরও ১০ জনের করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। ৬ জুন রাতে সিভিল সার্জন ডা. শেখ ফজলে রাব্বি নতুন এসব আক্রান্ত রোগীর তথ্য নিশ্চিত করেছেন। এদের মধ্যে একই পরিবারের শিশুসহ ৫ জন ছাড়াও পটিয়া হাসপাতালের একজন নমুনা সংগ্রহকারী, একজন ডাক্তার রয়েছেন। পটিয়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডাক্তার মো. জাবেদ জানান, ২ জুন পটিয়া হতে ৩০ জনের নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য ল্যাবে পাঠানো হয়। এদের মধ্যে শনিবার রাতে ১০ জনের রিপোর্টে করোনা পজেটিভ আসে।

নতুন শনাক্ত হওয়া রোগীদের নিয়ে পটিয়ায় করোনা আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ১৬৮ জনে। বর্তমানে ১০ জন করোনা আক্রান্ত রোগী বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ও অন্যরা বাড়িতে কোয়ারেন্টাইনে আছেন। এখন পর্যন্ত ৫৯ সুস্থ হয়েছেন, হাসপাতালে আইসোলেশনে আছেন ৩ জন এবং ৫ জন করোনা আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন।

জানা যায়, গত ৩১ মে পটিয়া পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের সবজার পাড়ার ৫০ বছর বয়সী এক লোক রাতে করোনা উপসর্গ নিয়ে চমেক হাসপাতালে ভর্তি হন। সেখানেই চিকিৎসাধীন অবস্থায় ভোর ৫টার দিকে তার মৃত্যু হয়। ১ জুন দুপুর ১২টার সময় পটিয়া পৌরসভার বাড়িতে মৃত করোনা রোগীর জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করেন গাউসিয়া কমিটির সদস্যরা। তবে মারা যাওয়ার পরও কেন তার নমুনা সংগ্রহ করা হয়নি এ বিষয়ে চমেক হাসপাতালে যোগাযোগ করা হলে তারা কিছুই জানাতে পারেননি।

এদিকে, মৃত ব্যক্তির পরিবারের লোকজনের নমুনা সংগ্রহ করা হয় ২ জুন। রির্পোটে ওই পরিবারের ৩, ৮, ১৩, ১৫ ও ৪২ বছরের নারী, শিশু, কিশোর ও কিশোরীর শরীরে করোনা পজিটিভ আসে। এছাড়া, ২৮, ৩০ বছর বয়সী দুই যুবক ও ৮০ বছরের একজন বৃদ্ধের শরীরে করোনা পজিটিভ আসে।

পটিয়া হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডাক্তার রাজিব দে বলেন, এ পর্যন্ত আমরা ৪৯০টি নমুনা সংগ্রহ করেছি । বর্তমানে চট্টগ্রাম সিভিল সার্জনের নির্দেশনায় প্রতিদিন ৩০টি বেশি নমুনা সংগ্রহ করতে পারছি না। নমুনা সংগ্রহ করে ফৌজদারহাট বিআইটিআইডিতে পাঠানো হয়। উনারা আমাদের পরীক্ষার পর রিপোর্ট জানিয়ে থাকেন। চট্টগ্রামের ১৪ উপজেলার স্যাম্পল যেহেতু উনারা সংগ্রহ করে পরীক্ষা করে থাকেন তাই তাদের সক্ষমতা অনুযায়ী রিপোর্ট দিতে সময় নিয়ে থাকেন। তাই আমরা বেশি স্যাম্পল পাঠালে রিপোর্ট পেতে সময় লেগে যায়। তাই সার্বিক দিক বিবেচনা করে হাসপাতালে স্যাম্পল সংগ্রহ করতে হয়। নমুনা সংগ্রহে রোগীকে কোন খরচ বহন করতে হয় না। বহির্বিভাগে ১১০ নং রুমে ( ফ্লু- কর্ণার) জ্বর, সর্দি- কাশি ও করোনা উপসর্গ নিয়ে আসলে আমরা প্রয়োজন অনুযায়ী চিকিৎসা ও পরীক্ষার উপদেশ দিয়ে থাকি। সবাই সচেতন থাকলে আশা করি খুব দ্রুততম সময়ে এ সংকট কাটিয়ে উঠতে পারবো।

এ ব্যাপারে পটিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফারহানা জাহান উপমা বলেন, শনিবার ১০ জনের করোনা পজিটিভ রির্পোটে একই পরিবারের শিশুসহ ৫ জনের করোনা পজিটিভ আছে। এই পরিবারটিকে বাড়িতে হোম আইসোলেশনে থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

পটিয়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা যায়, কোভিড-১৯ বাংলাদেশে সংক্রমণের শুরু থেকে উপজেলা প্রশাসনের সাথে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে করোনা মোকাবেলায় কাজ করছে । তারই অংশ হিসেবে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ২টি কেবিনে ৪টি বেডকে আইসোলেশন বেড হিসেবে প্রস্তুত করা হয় এবং টেলিমেডিসিন সেবা শুরু করা হয়। বর্তমানে পটিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের অধীনে ১৩৯ জন করোনা পজিটিভ রোগীদের চিকিৎসা সেবা দেওয়া হচ্ছে। যাদের মধ্যে ৫৯ জন এরই মধ্যে সুস্থ হয়েছেন। ভর্তি আছেন ৩ জন আর অন্যদের উপসর্গ উন্নতির দিকে হওয়ায় তাদের হোম আইসোলেশনে থেকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের নিবিড় তত্ত্বাবধানে চিকিৎসা চলছে। এরই মধ্যে একজন পজিটিভ রোগীকে গত ২৭ মে-৩০ মে পর্যন্ত আইসোলেশন ইউনিটে রেখে চিকিৎসা সেবা দেওয়া হয়েছে । পরবর্তীতে তার অবস্থার উন্নতি না হলে তাকে চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালে উন্নত চিকিৎসার জন্য পাঠানো হয়। বর্তমানে তিনি সুস্থতার পথে। এছাড়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আইসোলেশন ওয়ার্ডে ১ জন করোনা পজিটিভ পুলিশ সদস্য ও ১ জন করোনা উপসর্গ নিয়ে ভর্তি আছেন।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ