মঙ্গলবার, অক্টোবর ২৭, ২০২৬
প্রচ্ছদচট্রগ্রাম প্রতিদিনপদ্মা অয়েল সিবিএ সেক্রেটারির অবৈধ সম্পদ ।। নিরাপত্তা কর্মী থেকে কোটিপতি

পদ্মা অয়েল সিবিএ সেক্রেটারির অবৈধ সম্পদ ।। নিরাপত্তা কর্মী থেকে কোটিপতি

মাত্র ২৩০ টাকা বেতনের পিয়নের চাকরিতে যোগদান করে সময়ের ব্যবধানে কোটিপতি হয়েছেন পদ্মা অয়েল কোম্পানি লিমিটেড ওয়ার্কার্স ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দিন। চড়েন ২৪ লাখ টাকা দামের গাড়িতে। অভ্যস্ত হয়ে উঠেছেন বিলাসী বেশভুষায়। নামে-বেনামে গড়েছেন অবৈধ সম্পদ। সম্প্রতি দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) অনুসন্ধানে নামলে খোঁজ মেলে তাঁর কোটি কোটি টাকার সম্পদের। জানা যায়, পদ্মা অয়েল কোম্পানি ওয়ার্কার্স ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দিন কোম্পানির পতেঙ্গা গুপ্তখাল ডিপোতে সুপারভাইজর (ভেল্ট ফিলিং) হিসেবে কর্মরত আছেন। তিনি অস্থায়ী ‘সিকিউরিটি গার্ড’ পদে পদ্মা অয়েল কোম্পানিতে যোগদান করেন। পরে তিনি ১৯৮৬ সালের ২৩ আগস্ট ২৩০ টাকা বেসিক বেতনে ‘পিয়ন’ হিসেবে চাকরি নিয়মিত হন । চতুর্থ শ্রেণীর ওই পদে যোগদান করলেও প্রতিষ্ঠানটির সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবুল খায়েরের মেয়াদকালে ফুলে ফেঁপে উঠে নাছিরের সম্পদ। ২০১৪ সালের ‘ট্যাংকলরী হেলপার’ থেকে ‘চেকার’, পরের ছয় মাসের মাথায় ‘সুপারভাইজর’ পদোন্নতি পান।

সূত্রে জানা গেছে, ২০১৭ সালের নভেম্বর মাসে জমা হওয়া এক অভিযোগ অনুসন্ধানে নামে দুদক। দুদক প্রধান কার্যালয়ের নির্দেশে চট্টগ্রাম সমন্বিত জেলা কার্যালয়-১ এর অনুসন্ধানকারী কর্মকর্তা অভিযোগ অনুসন্ধানে নেমে নাছির উদ্দিনের অবৈধ সম্পদের বিষয়ে জানতে পারেন। অনুসন্ধান পরবর্তী প্রতিবেদন দেয়ার পর দুদক চেয়ারম্যানের নেতৃত্বে কমিশনের বৈঠকে নাছির উদ্দিনের সম্পদ অনুসন্ধানের বিষয়ে অনুমোদন দেয় প্রধান কার্যালয়। ২০১৯ সালের ২৫ এপ্রিল সম্পদ বিবরণী জমা দেয়ার নোটিশ জারি করে দুদক।
গত বছরের মাঝামাঝিতে দুদকে নিজের সম্পদ বিবরণী জমা দেন নাছির উদ্দিন। এই সিবিএ নেতা শেয়ার ব্যবসায়ে বিনিয়োগ করেছেন ৪০ লাখ টাকা, ২৪ লাখ টাকার প্রাইভেট কার রয়েছে তার। তার ব্যাংক হিসেবে রয়েছে ৩৬ লাখ টাকা। ঘোষিত সম্পদের তালিকায় তার নামে ৫০ ভরি স্বর্ণ থাকার কথা উল্লেখ করেছেন। এসব স্বর্ণের মূল্য দেখানো হয়েছে মাত্র এক লাখ ৭০ হাজার টাকা। ২৫ লাখ টাকা বিনিয়োগ রয়েছে কমিউনিটি সেন্টারে। সম্পদ বিবরণীতে দায় দেনা হিসেবে ব্যাংক থেকে প্রায় ৫০ লাখ ঋণের কথাও উল্লেখ করেছেন তিনি। চট্টগ্রামের আনোয়ারা চাতরি চৌমুহনীর সন্নিকটে পিএবি সড়কের পাশেই শশী কমিউনিটি সেন্টার। নাছির উদ্দিনের মালিকানাধীন জমিসহ ওই কমিউনিটি সেন্টারের মূল্য কয়েক কোটি টাকা। অথচ তাঁর সম্পদ বিবরণীতে কমিউনিটি সেন্টারে বিনিয়োগ হিসেবে দেখানো হয়েছে মাত্র ২৫ লাখ টাকা। ৫০ ভরি স্বর্নের মূল্য ১ লাখ ৭০ হাজার টাকা দেখালেও বর্তমান বাজার মূল্য প্রায় ৩০ লাখ টাকা।

এদিকে নাছির উদ্দিনের জমা দেয়া সম্পদ বিবরণী যাচাই শুরু করে দুদক। এ সিবিএ নেতার নামে-বেনামে অর্জিত সম্পদ যাচাইয়ের জন্য ইতোমধ্যে দেশের প্রত্যেকটি সাব-রেজিস্ট্রার অফিস, বিআরটিএ ও তফসিলী ব্যাংকগুলোতে চিঠি দিয়েছে দুদক। একইসাথে তার স্ত্রী ইয়াছমিন আখতার, মেয়ে নুসরাত জাহান নিশি, ছেলে শাহরিয়ার নওশাদ, ইশরাত আবেদীনের ব্যাংক হিসাব তলব করেছে দুদক। ইতোমধ্যে বাংলাদেশ ব্যাংকে চিঠি দেয়া হয়েছে। সিবিএ সাধারণ সম্পাদকের নিজে ও স্ত্রী-সন্তানের নামে কোন ব্যাংক হিসাব রয়েছে কিনা, থাকলে ব্যাংক লেনদেনের তথ্য, এ সময়ে কোন হিসাব বন্ধ করলে তার তথ্যও দুদকের পক্ষ থেকে চাওয়া হয়েছে।

এব্যাপারে জানতে চাইলে নাছির উদ্দিন বুধবার রাতে বলেন, শশী কমিউনিটি সেন্টারটি আমার। এটি ২০ বছর আগে করেছিলাম। আমার আয়কর বিবরণীসহ সবকিছু ঠিক আছে। এবিষয়ে জানতে চাইলে দুদকের উপ-সহকারি পরিচালক হোসাইন শরীফ বলেন, ‘পদ্মা অয়েলের সিবিএ সেক্রেটারি নাছির উদ্দিনের সম্পদ বিবরণী যাচাই করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে সরকারি নানা দপ্তরে পত্র দেয়া হয়েছে। সহসাই এ বিষয়ে পরবর্তী পদক্ষেপ নেয়া হবে।’

আরও পড়ুন

সর্বশেষ