আদালত প্রতিনিধিঃ (বিডি সময় ২৪ ডটকম)
যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর রায়ের কপি ফাঁস হওয়ায় বড় ধরনের বিনিয়োগ আছে বলে মন্তব্য করেছেন ট্রাইব্যুনাল। বুধবার বিচারপতি এটিএম ফজলে কবীরের নেতৃত্বে তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এ মন্তব্য করেন। ট্রাইব্যুনাল বলেন, ‘রায়ের কপি ফাঁস হওয়ার ঘটনায় মস্ত বড় ষড়যন্ত্র ও বড় ধরনের বিনিয়োগ আছে।’
এদিন ট্রাইব্যুনালের কার্যক্রমের শুরুতে চিফ প্রসিকিউটর গোলাম আরিফ টিপু রায়ের কপি ফাঁসের ঘটনা বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশের বিষয়টি আদালতের নজরে আনেন। তিনি এর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার আবেদন করেন। জবাবে ট্রাইব্যুনাল এ কথা বলেন।
উল্লেখ্য, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর বিরুদ্ধে যে ফাঁসির রায় দিয়েছেন তা ঘোষণার আগেই কয়েকটি অনলাইন সংবাদ মাধ্যমে ফাঁস হয়ে যায়। রায় ঘোষণার পর দেখা গেছে, ফাঁস হওয়া ওই কপির সঙ্গে ট্রাইব্যুনালের রায়ের মিল রয়েছে। তবে ট্রাইব্যুনাল ও সরকারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, বিষয়টি ষড়যন্ত্রমূলক ও সাজানো নাটক। রায়ের কপি ফাঁস করা অনলাইনগুলো দাবি করেছে, বেলজিয়ামভিত্তিক একটি ওয়েবসাইট (www.tribunalleaks.be) প্রথম সাকার রায়ের কপি ফাঁস করে।
একটি অনলাইন সংবাদ মাধ্যম সাকার বিরুদ্ধে চূড়ান্ত রায়ের ১৭২ পৃষ্ঠার মধ্যে ১৬৭টি পৃষ্ঠা প্রকাশ করেছে। সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, রায়ের ওই কপি আইনসচিব আবু সালেহ শেখ মো. জহিরুল হকের অফিসের কম্পিউটারে ছিল। ওই কপিতে সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর বিরুদ্ধে কোন কোন অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে তা লেখা থাকলেও কী দণ্ড দেয়া হয়েছে, তা উল্লেখ করা হয়নি।
রায় ঘোষণার পর সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর স্ত্রী ফারহাত কাদের চৌধুরী ফাঁস হওয়া ওই রায়ের কপি সাংবাদিকদের দেখিয়ে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন। সাকার রায়ের পর বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা খন্দকার মাহবুব হোসেনের করা মন্তব্যের বিষয়টি আদালতের নজরে এনে গোলাম আরিফ টিপু উপযুক্ত ব্যবস্থা নেয়ার আবেদন করেন। জবাবে ট্রাইব্যুনাল বলেন, ‘আপনারা লিখিত অভিযোগ করেন এরপর আমরা ব্যবস্থা নেবো।’
সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর মৃত্যুদণ্ডাদেশ দেয়ার পর সুপ্রিমকোর্ট আইনজীবী সমিতির মিলনায়তনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে খন্দকার মাহবুব হোসেন বলেন, ‘প্রহসনের বিচারে যারা সম্পৃক্ত ছিলেন, ইনশাহ আল্লাহ, বাংলার মাটিতে তাদের বিচার হবে। এটা রাজনৈতিক প্রতিহিংসার বিচার। ইনশাহ আল্লাহ, জাতীয়তাবাদী শক্তি যদি ক্ষমতায় যায়, সত্যিকার অর্থে যারা যুদ্ধাপরাধী তাদের বিচার হবে এবং প্রতিহিংসার জন্য যাদের বিচার করা হয়েছে, কাল্পনিক গল্প দিয়ে যে মামলা তৈরি করা হয়েছে, অবশ্যই সেটা চলে যাবে।’
উল্লেখ্য, ১৯৭১ সালে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে গত মঙ্গলবার বিএনপি নেতা সালাউদ্দিন কাদের (সাকা) চৌধুরীর বিরুদ্ধে ফাঁসির দণ্ডাদেশ দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১। সাকার বিরুদ্ধে গণহত্যা, হত্যা, অপহরণ ও নির্যাতনের ৯টি অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে। এর মধ্যে ৩, ৫, ৬ ও ৮ নম্বর অভিযোগে তাকে ফাঁসি দেয়া হয়েছে।




