সাবেক মন্ত্রী, জাতির জনকের ঘনিষ্ঠ সহচর, মহান মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক মরহুম জহুর আহমেদ চৌধুরী স্ত্রী, শহীদ জননী, চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা মাহতাব উদ্দিন চৌধুরীর মাতা জাহানারা বেগম মঙ্গলবার ভোর সাড়ে ছ’টায় নগরীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ইন্তেকাল করেছেন। ( ইন্না ইলাহে….ওয়া ইন্না ইলাহে রাজেউন)। জাহানারা বেগম দীর্ঘদিন ধরে বার্ধক্যজনিত রোগে ভুগছিলেন। মৃত্যুর সময় তিনি দু’পুত্র, নাত, নাতনীসহ অসংখ্য আত্মীয় শুভাকাঙ্ক্ষী রেখে যান। যাবার সময় তাঁর বয়স হয়েছিল ৯৫ বছর। আজ বাদ আছর নগরীর জাতীয় মসজিদ দামপাড়া জমিয়তুল ফালাহ ময়দানে মরহুমার নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হবে।
জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর পাশে থেকে আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে স্বাধীনতা ছিনিয়ে আনার দুঃসাহসী অভিযাত্রী সাবেক মন্ত্রী ও চট্টল অহঙ্কার জহুর আহমেদ চৌধুরীর জীবন সঙ্গিনী হচ্ছেন জাহানারা বেগম। মরহুম চৌধুরী শুধু বঙ্গবন্ধুর বিশ্বস্ত সহচর ছিলেন না, চট্টগ্রামের গণ মানুষের বিপদ- আপদে সবচে’ বিশ্বস্থ ভরষার ঠিকানাও ছিলেন। জাহানারা বেগমের মত সর্বংসহা অসাধারণ একজন জীবনসঙ্গিনী পাশে থাকায় তিনি চট্টগ্রাম তথা দেশের মুক্তি ও গণ মানুষের জন্য অকাতরে জীবন বিলিয়ে দিতে পেরেছেন। জাহানারা বেগমের তিন পুত্রের প্রথম হচ্ছেন, চট্টগ্রামের কিংবদন্তীতুল্য অসম সাহসী শহীদ মুক্তিযোদ্ধা সাইফুদ্দিন খালেদ চৌধুরী। সিটি কলেজ ছাত্র সংসদের এজিএস সাইফুদ্দিন ছিলেন মুক্তিযুদ্ধের সূচনায় ছুটন্ত উল্কাপিন্ড! পুরো চট্টগ্রমজুড়ে হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে চোরাগোপ্তা ঝটিকা হামলায় নেতৃত্ব দেন তিনি। ছিপছিপে খাপখোলা খন্জরতুল্য মাত্র ২২ বছরের এই তরুণের দুর্দান্ত সাহস ও বীরত্ব আজকের তারুণ্যের কাছে দেশপ্রেম ও বীরত্বের অজেয় উৎস হিসাবে টিকে থাকবে হাজার বছর! তাঁর দ্বিতীয় পুত্র মাহতাবউদ্দিন চৌধুরীও একজন দুঃসাহসী মুক্তিযোদ্ধা এবং জনকের ছায়ায় বেড়ে উঠা নিবেদিত রাজনীতিক। চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতির বিশাল দায়িত্ব সামলাচ্ছেন তিনি।
শহীদ সাইফুদ্দিন চৌধুরী মুক্তিযুদ্ধের সবচে’ ভয়াল সূচনা পর্বেই ৭১ সালের ১৩ এপ্রিল রাউজানের সাবেক ইন্জিনিয়ারিং কলেজের সামনের সড়কে সর্বাধুনিক অস্ত্রসজ্জিত পাকি বাহিনীর সাথে মুখোমুখি যুদ্ধে ৫ সহযোদ্ধাসহ শহীদ হন।




