পরিকল্পনা কমিশনের প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটির (পিইসি) সভায় অনুমোদন পেয়েছে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের ৬৪০ কোটি ৪৯ লাখ টাকার এলইডি লাইটিং প্রকল্প। আজ সোমবার কমিটির সভায় প্রকল্পটি উপস্থাপিত হলে সংশ্লিষ্ট পক্ষের সর্বসম্মতিক্রমে তা অনুমোদন লাভ করে। স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন লাভের পর প্রকল্পটির এবার প্রি-একনেক হলো।
পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি ব্যবহার করে ট্রাফিক ও পথচারীদের জন্য টেকসই আলোকায়ন নিশ্চিত এবং রাতের বেলায় নগরের সৌন্দর্য, ব্যবসায়িক সুবিধা ও সামাজিক নিরাপত্তা বৃদ্ধির লক্ষ্যে এই প্রকল্প গ্রহণের উদ্যোগ নেয় স্থানীয় সরকার। বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী এই প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে প্রতি বছর প্রায় ৬৯ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ কম খরচ হবে। এতে করে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের বিদ্যুৎ বিল প্রায় অর্ধেকের কোটায় নেমে আসবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
এ ব্যাপারে সিটি মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন বলেন, প্রকল্পটি আগামীতে একনেক সভায় উপস্থাপন করা হবে। সেখানে অনুমোদন লাভের পর তা বাস্তবায়ন শুরু হবে। আগামী ২০২০ সালের জুনের মধ্যে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের মেয়াদ নির্ধারিত রয়েছে।
চসিক সূত্রে জানা গেছে, প্রতি বছর চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের আলোকায়ন খাতে বিদ্যুৎ খরচ হয় ১৩৬ মেগাওয়াট। সেক্ষেত্রে প্রতি বছর সংস্থাটিকে কোটি টাকা বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ করতে হয়। গত ২০১৭-১৮ অর্থ বছরে কর্পোরেশনকে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও পানি বিল পরিশোধ বাবদ ৩৪ কোটি ৭০ লাখ টাকা ব্যয় করতে হয়েছে। নগরীর ৪১টি ওয়ার্ড এলাকায় এলইডি আলোকায়ন প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে সেক্ষেত্রে কর্পোরেশনের বিদ্যুৎ খরচ হবে ৬৯ মেগাওয়াট। প্রায় ৬৭ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ কম খরচ হবে।
এ ব্যাপারে চসিক প্রধান প্রকৌশলী লে. কর্ণেল মহিউদ্দিন আহমেদ বলেন, প্রকল্পটি একনেকে পাস হওয়ার পর তা বাস্তবায়নের কার্যক্রম শুরু হবে। আজ প্রি-একনেক হয়েছে। বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী এ প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে নগরীর সৌন্দর্য বৃদ্ধি, জননিরাপত্তা নিশ্চিতসহ ব্যবসা বান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত হবে।
প্রকল্পটির পরিকল্পনা প্রস্তাবনা (ডিপিপি) পর্যবেক্ষণে জানা যায়, নগরের ১ হাজার ৩’শ কিলোমিটার সড়কে ৬৪ হাজার ৩১১টি পুলে ৬৪ হাজার ৬৮৩টি এলইডি বাতি স্থাপন করা হবে। এতে ব্যয় করা হবে ৬০৩ কোটি ২৫ লাখ টাকা। বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম ও অফিস স্টেশনারী, বৈদ্যুতিক নিরাপত্তা সরঞ্জাম ও বৈদ্যুতিক পরিমাপক যন্ত্র ক্রয়ে ১ কোটি ২১ লক্ষ ৯২ হাজার টাকা, সড়কবাতি রক্ষণাবেক্ষণ কাজের জন্য ৫টি এরিয়াল লিফ্টার ক্রয়ে সাড়ে ৬ কোটি টাকা, ইন্সপেকশন গাড়ি ক্রয়ে ৪ কোটি ১১ লক্ষ টাকা, সিসি ও আরসিসি ঢালাই এবং স্থাপন ও পিডিবি, টিএন্ডটি, অন্যান্য পুল স্থানান্তর ও ট্রেনিংয়ে ১২ কোটি ৮৫ লক্ষ টাকা এবং আনুষঙ্গিক খরচ বাবদ ১২ কোটি ৫৫ লক্ষ ৮৬ হাজার টাকা ব্যয় নির্ধারণ করা হয়েছে।
প্রকল্পের আওতায় লাইট কন্ট্রোল ও ডাটা কন্ট্রোল ইউনিট এবং লাইট ম্যানেজম্যান্ট, সফটওয়্যার ৬৬ হাজার ৩১৪টি, ইলেকট্রিক্যাল ক্যাবল ও তার ৩ হাজার ৮৭৭ কি.মি, কন্ট্রোল সুইচ বক্স ১ হাজার ৬১৭টি, ব্রেকেট ৬৪ হাজার ৫৬৮টি, সিসি আরসিসি কাজ ৩ হাজার ৮৭৭ সেট করা হবে।




