নগরীর বিভিন্ন থানায় দায়েরকৃত ‘গায়েবি’ মামলায় গত ১০ দিনে দেড়শতাধিক দলীয় নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সভাপতি ডা. শাহাদাত হোসেন। নাসিমন ভবনস্থ দলীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ অভিযোগ করেন তিনি। ‘গায়েবি মামলা ও গণপ্রেপ্তারের প্রতিবাদ, গ্রেপ্তারকৃত নেতাকর্মীদের মুক্তি এবং দলীয় চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার নি:শর্ত মুক্তি ও সুচিকিৎসার দাবিতে আগামী ৪ অক্টোবর নগরীর লালদীঘি মাঠে জনসমাবেশ করারও ঘোষণা দেয়া হয়েছে সংবাদ সম্মেলন থেকে। এদিকে লালদীঘি মাঠের মালিক ‘গর্ভমেন্ট মুসলিম হাই স্কুল’ থেকে লালদীঘি মাঠ ব্যবহারের অনুমতি নিয়েছে নগর বিএনপি। তবে এ ক্ষেত্রে স্কুল কর্তৃপক্ষ শর্ত দিয়েছে, ‘পুলিশ প্রশাসনের লিখিত পূর্বানুমতি প্রাপ্তির পরই কেবল মাত্র মাঠ ব্যবহারের অনুমতি কার্যকর হবে। অবশ্য নগর বিএনপির সহ-দপ্তর সম্পাদক মো. ইদ্রিস আলী লালদীঘি মাঠ ব্যবহারের অনুমতি চেয়ে সিএমপির নগর বিশেষ শাখার উপ-পুলিশ কমিশনার বরাবর আবেদন করেছেন। তবে গতরাত ১১ টায় এ রির্পোট লেখা পর্যন্ত পুলিশ অনুমতি দেয় নি।
সংবাদ সম্মেলনে স্বাগত বক্তব্য রাখেন চট্টগ্রাম মাহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবুল হাশেম বক্কর। এ সময় অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মাহবুবের রহমান শামীম, চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি আবু সুফিয়ান, সহ- সভাপতি এম এ আজিজ, মোহাম্মদ মিয়া ভোলা, অধ্যাপক নুরুল আলম রাজু। সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করে ডা. শাহাদাত বলেন, মিথ্যা মামলায় শুধু গ্রেপ্তার করা হচ্ছে না। দলের নেতাকর্মীদের চরিত্র হননের চেষ্টাও করছে। এ জন্য আমাদের নেতাকর্মীদের ইয়াবা মামলায় ফাঁসানোর চেষ্টা করেছে। আবুল হাশেম বক্কর বলেন, ‘আমাদের কোন নেতাকর্মী বাসায় যেতে পারছে না। মিথ্যা মামলা আছেই। বাসায় অভিযান চালিয়ে হয়রানি করা হচ্ছে। এসব কেন? তা জনগণের কাছে স্পষ্ট। এর মধ্য দিয়ে ৫ জানুয়ারির মত আরেকটি নির্বাচনের দিকে এগুচ্ছে সরকার।
এদিকে লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, ‘বিনাভোটে স্বনির্বাচিত সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পর থেকে বিএনপি নেতাকর্মীদের গুম, খুন, মামলা হামলার পর এখন নতুন এক কৌশলে গায়েবী মামলা দিয়ে হয়রানির পথ বেছে নিয়েছে। প্রতিহিংসার বশবর্তি হয়ে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রনোদিত এক সাজানো মামলায় ৩ বারের প্রধানমন্ত্রী বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়াকে মিথ্যা অভিযোগে অন্যায়ভাবে সাজা দিয়ে নির্জন কারাগারে বন্দি করে রাখা হয়েছে। অসুস্থ দেশনেত্রীর সুচিকিৎসার ব্যবস্থা না নিয়ে সরকার তাকে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দিচ্ছে। সর্বোচ্চ আদালত থেকে জামিন পাওয়ার পরও সরকারী নির্দেশে তাকে মুক্তি দেয়া হচ্ছে না।
লিখিত বক্তব্যে আরো বলা হয়, ‘সাবেক প্রধান বিচারপতি এসকে সিনহাকে হুমকির মুখে পদত্যাগ ও দেশত্যাগে বাধ্য করে গোটা বিচার বিভাগকে অনুগত করার অভিযোগে আজ বর্তমান সরকার দেশবাসীর কাছে অভিযুক্ত। সরকারের অন্যায় অত্যাচারের বিরুদ্ধে কথা বলা কিংবা লেখালেখি আজ বিরোধী দল ও সচেতন জনগণ এমনকি লেখক সাংবাদিকদের জন্য শাস্তিযোগ্য অপরাধ। সরকার আসন্ন নির্বাচনের আগে তাদের এমপি মন্ত্রীদের বিভিন্ন অনিয়ম দুর্নীতি ও লুটপাটের কাহিনী প্রকাশ করতে না পারার জন্য দুরভিসন্ধিমূলকভাবে গণমাধ্যমকে নিয়ন্ত্রণ করতে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন পাশ করেছে। এই আইনের মাধ্যমে সরকার গণমাধ্যমের টুটি চেপে ধরেছে। লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, চট্টগ্রামের প্রতিটি থানায় মিথ্যা কাল্পনিক ও ভিত্তিহীন মামলা দিয়ে নেতাকর্মীদের গ্রেফতার এখনো অব্যাহত রেখেছে। গত ১০ দিনে শুধু চট্টগ্রামে ২০ টির অধিক নতুন মামলা দায়ের করা হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলন থেকে দাবি করা হয়েছে, ‘বিদেশে অবস্থানরত বাংলাদেশি, হজ পালনরত ব্যক্তি, প্যারালাইসিস রোগী ও মৃত ব্যক্তিকেও মামলার আসামী করা হয়েছে। আকবর শাহ থানা বিএনপি নেতা মীর জাহাঙ্গির আলমের বাসায় পুলিশ তল্লাশি করে তাকে না পেয়ে তার কলেজ পড়ুয়া নিরপরাধ সন্তান মীর আবদুল্লাহ আল আরাফাতকে গ্রেফতার করে নাশকতার মামলায় কারাগারে পাঠিয়ে দিয়েছে। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে ২১ আগস্টের গ্রেনেড হামলা মামলায় ফাঁসানোর অপচেষ্টা অব্যাহত রেখেছে। এই ঘটনার সাথে তারেক রহমানকে জড়ানোর জন্য আওয়ামী মদদপুষ্ট অবসরপ্রাপ্ত সাবেক এক গোয়েন্দা কর্মকর্তাকে পুনরায় চাকুরীতে পুনর্বহাল করে তার মাধ্যমে সম্পূরক চাজীশীটে তার নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয় বলেও দাবি করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে অন্যান্যের মধ্যে সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক এস এম সাইফুল আলম, যুগ্ম সম্পাদক কাজী বেলাল উদ্দিন, ইসকান্দর মির্জা, ইয়াসিন চৌধুরী লিটন, আব্দুল মান্নান, জাহাঙ্গীর আলম দুলাল, আনোয়ার হোসেন লিপু, সাংগঠনিক সম্পাদক কামরুল ইসলাম, বাণিজ্য সম্পাদক হেলাল চৌধুরী, থানা বিএনপির সভাপতি মঞ্জুর রহমান চৌধুরী, মোশারফ হোসেন ডিপ্তী, মামুনুল ইসলাম হুমায়ুন, সাইফুর রহমান বাবুল, কাউন্সিলর মুহাম্মদ আজম, মোঃ হানিফ সওদাগর, সরফরাজ কাদের রাসেল, নগর বিএনপির সহ দপ্তর সম্পাদক মোঃ ইদ্রিস আলী, নগর মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদক জেলী চৌধুরী, থানা বিএনপির সম্পাদক হাজী মোঃ বাদশাহ মিয়া, আব্দুল কাদের জসিম, রোকন উদ্দিন মাহমুদ, নগর সেচ্ছাসেবক দলের সাংগঠনিক সম্পাদক জিয়াউর রহমান জিয়া, তাঁতী দলের সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম প্রমূখ উপস্থিত ছিলেন।
এদিকে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে আটক নেতাদের মুক্তির দাবিতে কোর্টহিল চত্বরে বিক্ষোভ করেছে বিএনপি নেতারা। সেখানে দাবি করা হয়, পরশুদিন বিএনপি নেতা আফতাবুর রহমান শাহীন, সেলিম উদ্দীন রাসেল, আলিফ উদ্দিন রুবেল, আব্দুল কাদের, সাহজিদ চৌধুরি চিশতি মোহাম্মদ জাবেদ, মোঃ. জয়নাল আব্দুল হাকিমকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বিক্ষোভ সমাবেশে চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সভাপতি ও কেন্দ্রীয় বিএনপি’র সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ডা. শাহাদাত হোসেন বলেছেন, এই অবৈধ সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকে বিএনপি নেতা কর্মীদের গুম, খুন নির্যাতন চালিয়ে একের পর এক গায়েবী মামলা দিয়ে যাচ্ছে। এই ফ্যাসিষ্ট স্বৈরাছার সরকার ক্ষমতায় মোহে অন্ধ হয়ে আবারো ৫ জানুয়ারীর মত আরো একটি ভোটারবিহীন এক দলীয় নির্বাচনের দিকে যাচ্ছে। এ সময় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি আলহাজ্ব আবু সুফিয়ান, সহ-সভাপতি অধ্যাপক নুরুল আলম রাজু, সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক এস এম সাইফুল আলম, যুগ্ন সম্পাদক আনোয়ার হোসেন লিপু, সাংগঠনিক সম্পাদক কামরুল ইসলাম, আইন বিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী, সহ আইন বিষয়ক সম্পাদক নেজাম উদ্দিন, অ্যাডভোকেট তুহিন, সহ প্রচার সম্পাদক মোঃ শাহজাহান, পাঁচলাইশ থানা বিএনপির সভাপতি মামুনুল ইসলাম হুমায়ুন, কোতয়ালী থানা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জাকির হোসেন, অ্যাডভোকেট আব্দুল মান্নান, নগর যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক মোশারফ হোসেন, নগর স্বেচ্ছাসেবক দলের সাংগঠনিক সম্পাদক জিয়া রহমান জিয়া, বিএনপি নেতা কাজী শামসুল আলম, আব্দুল্লাহ আল সগীর, হাসান ওসমান প্রমুখ।




