রবিবার, আগস্ট ১৬, ২০২৬
প্রচ্ছদঅর্থ ও বানিজ্য সময়করপোরেট ট্যাক্স যথেষ্ট না কমালে ব্যাংক ঋণের সুদ সিঙ্গেল ডিজিটে আনা সম্ভব...

করপোরেট ট্যাক্স যথেষ্ট না কমালে ব্যাংক ঋণের সুদ সিঙ্গেল ডিজিটে আনা সম্ভব হবে না

Kalil-KDSকরপোরেট ট্যাক্স যথেষ্ট না কমালে ব্যাংক ঋণের সুদ সিঙ্গেল ডিজিটে আনা সম্ভব হবে না উল্লেখ করে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (সিএমসিসিআই) সভাপতি খলিলুর রহমান বলেছেন, সুদহার সিঙ্গেল ডিজিটে না এলে বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানের সুযোগও বাড়বে না। তিনি বলেন, ব্যাংকিং খাতে সরকারের নজরদারি যথেষ্ট নয় বলে অনিয়ম বাড়ছে। এর ফলে বার বার মূলধন ঘাটতি পূরণে বরাদ্দ রাখা অগ্রহণযোগ্য। ৭ জুন অর্থমন্ত্রীর বাজেট ঘোষণার পর তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় সিএমসিসিআই সভাপতি এসব কথা বলেন।

অগ্রসরমান অর্থনীতির সঙ্গে তাল মিলিয়ে অর্থমন্ত্রী কর্তৃক দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় ৪ লাখ ৬৪ হাজার ৫৭৩ কোটি টাকার সাহসী বাজেট উপহার দেওয়ার জন্য ধন্যবাদও জানান সিএমসিসিআই সভাপতি। শিল্পপতি খলিলুর রহমান বলেন, সংশ্লিষ্ট সব সরকারি সংস্থা  কর্তৃক এডিবি বাস্তবায়নের হার শতভাগ সম্পন্ন করার পদক্ষেপ নেওয়া কাম্য। এডিবি শতভাগ বাস্তবায়ন হলে, দেশে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ, যোগাযোগ ব্যবস্থা ও বন্দর উন্নয়ন হলে বৈদেশিক বিনিয়োগ, শিল্পায়ন ও কর্মসংস্থান বাড়লেই জিডিপি অর্জন অর্থবহ হবে।

তিনি বলেন, দেশীয় শিল্প সুরক্ষায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের কোনো বিকল্প নেই। উন্নত এবং অনুন্নত সব দেশেই বর্তমানে এ বিষয়ে অতিমাত্রায় সতর্ক। এ অবস্থায়, অবাধ এবং অপ্রয়োজনীয় আমদানি নিরুৎসাহিত করতে আমাদের আরও বেশি সতর্কতার সঙ্গে চলতে হবে। একই সময়ে আমাদের রপ্তানি পণ্যের নানামুখী প্রতিবন্ধকতা দূরীকরণে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে না পারলে প্রস্তাবিত বাজেটের সুফল অর্জন সম্ভব হবে না। বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান বৃদ্ধি আমাদের মূল চ্যালেঞ্জ। এ অবস্থায় দক্ষ জনবল তৈরি করতে বরাদ্দকৃত বাজেট পূর্ণমাত্রায় বাস্তবায়ন না করা গেলে সামগ্রিক অগ্রগতি বাধাগ্রস্ত হবে। কর্মসংস্থানের বেলায় দেশীয় জনবল নিয়োগে, সরকারি নীতিমালা কঠোরভাবে অনুসরণের বাধ্যবাধকতা আবশ্যক। এ খাতে নজরদারির অভাবে অতি সাধারণ এবং অপ্রয়োজনীয় পদেও বিদেশি নিয়োগের নজির দেখা যায়। দেশের বিরাজমান অবস্থায় এমনটি কাম্য নয়।

বিড়ি-সিগারেটের ওপর কর বৃদ্ধির প্রস্তাব সময়োপযোগী উল্লেখ করে সিএমসিসিআই সভাপতি বলেন, কোনো কোনো ক্ষেত্রে আনুমানিক কর নির্ণয় করা হয়েছে, যেমন: সিঅ্যান্ডএফ ব্যবসা। উৎসে কর কর্তন করা হয় কিন্তু এ খাতে ব্যবসায়ীদের বছরে বড় অঙ্কের বিল অনাদায় থেকেই যায়। কারণ ৪-৫ মাস পর বিল আদায় হলে অথবা অনেক ক্ষেত্রে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ী বিল না দিলে সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট ক্ষতিগ্রস্ত হয়। আমরা প্রস্তাব করছি যে, সিঅ্যান্ডএফ ব্যবসায়ীর আয়ের ওপর কর নির্ধারণ হওয়া কাম্য।

কৃষি, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, যোগাযোগ ও জ্বালানি খাতে বরাদ্দ বাড়ানোয় সরকারকে ধন্যবাদ জানিয়ে খলিলুর রহমান বলেন, আমরা মনে করি এ খাতে আরও বরাদ্দ বাড়লে দেশের খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতাসহ শিল্পায়ন ও কর্মসংস্থান বৃদ্ধি পেয়ে আমরা মধ্যম আয়ের দেশে পদার্পণ সহজ হবে। কৃষি খাতে উৎপাদন খরচ নিশ্চিত করতে অবাধ এবং শুল্কমুক্ত আমদানি অগ্রহণযোগ্য। কৃষিপণ্য বিক্রি করে উৎপাদন খরচ না পোষালে কৃষক নিরুৎসাহিত হবে, যা কাম্য হতে পারে না। বিরাজমান অবস্থা বিবেচনা করার বিকল্প নেই।

তিনি বলেন, বাজেট ঘাটতি পূরণের লক্ষ্যে বিদেশ থেকে ৫০ হাজার ১৬ কোটি এবং অভ্যন্তরীণ সম্পদ থেকে ৭১ হাজার কোটি টাকা ধার করার প্রস্তাব করা হয়েছে। এ ক্ষেত্রে আমাদের পরামর্শ, অতি সামান্য সুদহারে বৈদেশিক ঋণের পরিবর্তে দেশীয় ঋণের সুদের বোঝা অনেক বড়। এ অবস্থায় দেশীয় স্বার্থ প্রাধান্য পাওয়া কাম্য। বাজেটে ৩ লাখ ৩৯ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব আদায়ের মধ্যে ২ লাখ ৯৬ হাজার কোটি টাকা জাতীয় রাজস্ব বোর্ড আদায়ের বিষয় তুলে ধরে তিনি বলেন, নতুন কোনো কর আরোপ না হলেও বাস্তবতার আলোকে বিষয়টি হওয়া উচিত বলে আমরা মনে করি।

অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির কারণে ইতিমধ্যে সম্পদের মূল্যবৃদ্ধি পেয়েছে, যা সব ক্ষেত্রে করদাতার আয় বৃদ্ধি নয়। তাই সম্পদ করসীমা বর্তমানে ২ কোটি ২৫ লাখ থেকে বাড়িয়ে ৩ কোটিতে উন্নীত করার প্রস্তাব দেন সিএমসিসিআই সভাপতি। বিলাসবহুল হোটেল ছাড়া সাধারণ হোটেল, রেস্তোরাঁর ওপর সমহারে এবং সহনশীল মাত্রায় কর-ভ্যাট নির্ধারিত হলে ফাঁকি দেওয়ার প্রবণতা কমবে এবং রাজস্ব আদায় বহুগুণ বাড়বে বলে মনে করেন খলিলুর রহমান।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ