সোমবার, অক্টোবর ২৬, ২০২৬
প্রচ্ছদটপএভিয়েশন খাতের পলিসি প্রনয়ণয় প্রয়োজন

এভিয়েশন খাতের পলিসি প্রনয়ণয় প্রয়োজন

স্বাধীনতার ৪৭ বছর পার হলোও দেশের এভিয়েশন খাত নিয়ে কোন পলিসি নেই। ফলে দেশের এভিয়েশন খাত যথাযথ ভাবে এগিয়ে যেতে পারছে না। একই সঙ্গে অবকাঠামোগত সমস্যা,  জ্বালানী তেলের অতিরিক্ত মূল্যসহ অন্যান্য বিষয়ে সরকারের যথাযথ উদ্যোগ না হলে দেশের এভিয়েশন খাতের উন্নয়ন সম্ভব হবে না। বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষকে জবাবদিহিতার আওতায় আনা জরুরি।  সোমবার বিকেলে রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনে (ঃ  আইইবি) নেপালে  ইউএস বাংলার বিমান দূঘটনায় পরবর্তী করণীয়  শীর্ষক গোল টেবিল বৈঠকে বক্তরা এসব কথা বলেন।  আইইবি’র ৭০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে বৈঠকের আয়োজন করা হয়।

অনুষ্ঠানে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের সাবেক চেয়ারম্যান এয়ার কমান্ডার (অব.) ইকবাল হোসেন  বলেন, বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ একই সঙ্গে রেগুলেটরি প্রতিষ্ঠান আবার অন্যদিকে সেবাপ্রদানকারী সংস্থা। একই সংস্থা দুটি কাজ করার ফলে সেবার বিষয়ে গাফলতি হলে রেগুলেটর হিসেবে কোন ব্যবস্থা নেওয়া হয় না। দ্রুত সময়ের মধ্যে বলেন, বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের রেগুলেটরি বডি ও সেবাপ্রদানকারী অংশ পৃথক করা জরুরি।

 বিমান দূর্ঘটনার মোকাবিলার প্রস্তুতি প্রসঙ্গে ইকবাল হোসেন  বলেন,  দেশের  সকল বিমানবন্দরেেআগুন নিভোনোর পর্যাপ্ত সুবিধা আছে কিনা দেখা প্রয়োজন।  একই সঙ্গে কোন দূঘটনা ঘটলে কোন হাসপাতালে কিভাবে  আহতদের দ্রুত নেওয়া যাবে সে বিষয়ে উদ্যোগ দরকার। ঢাকার যানজটের যে পরিস্থিতি তাতে আহত  ব্যক্তিকে সময় মতো হাসপাতালে নেওয়া সম্ভব হবে না। দূঘটনা ঘটলে সার্বিক পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য একটি কোর্ডনেশন সেলও গঠন করা প্রয়োজন।

একই সঙ্গে বিমানবন্দরে কর্মরত সকল সংস্থাকে  বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে সমন্বয় ও জবাবদিহিতা  আওতায়  আনার প্রয়োজন বলেও মত দেন ইকবাল হোসেন  ।

গ্যালাক্সি ফ্লাইং একাডেমি লিমিটেডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা উইং কমান্ডার (অব.) এটিএম নজরুল ইসলাম বলেন,  ৪৭ বছর পার হয়ে গেলেও দেশে এভিয়েশন খাত নিয়ে কোন পলিসি নেই। কিভাবে দেশের এ খাত এগিয়ে যাবে এজন্য পলিসি থাকা  প্রয়োজন। দেশের এভিয়েশন খাতে নানা রকম সমস্যা রয়েছে। বিশেষ করে প্রাইভেট এয়ারলাইন্সগুলো গত ২০ বছর ধরে নানা প্রতিবন্ধকতার মধ্যে  রয়েছে।

 ফ্লাইট সেফটি প্রসঙ্গে এটিএম নজরুল ইসলাম বলেন,  নিরাপদ অপারেশনের জন্য এয়ারক্রাফট মেরামত জরুরি। অথচ দেশের বেসরকারি এয়ারলাইন্সগুলোর কোন হ্যাঙ্গার নেই।  হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের  ইন্সুটেমেন্ট ল্যান্ডিং সিস্টেমের লিমিটেশন আছে। বাংলাদেশে খারাপ আবহাওয়া কম ভিজিভিলিটিতে এয়ারক্রাফট ল্যান্ড করতে না পেরে কলকাতায় চলে যায়। আবহাওয়াগত দূযোগ বাড়লে এসমস্যা আরও প্রকট হবে, এজন্য দ্রুত সমস্যা সমাধানের উদ্যোগ নিতে হবে।

নজরুল ইসলাম বলেন,  বাংলাদেশের জ্বালানী তেলের মূল্য অন্য দেশের তুলনায় অনেক বেশি। এভিয়েশন খাতের ডিমান্ড বাড়লেও  এসব জটিলতায় ক্যাপাসিটি বাড়ানো যাচ্ছে না।  ইউএস বাংলা এয়ারলাইন্সের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ইমরান আসিফ বলেন,  যে কোন এয়ারক্রাফট দূঘর্নায় আগুনে পোড়া ও অর্থপেডিক ক্যাজুয়ালিটি বেশি হয়।  আমাদের দেশে বিমানবন্দরের কাছে হাসপাতালে রুগি নেওয়া হলে এসব বিষয়ে দ্রুত চিকিৎসা  প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা দরকার।  নেপাল দূর্ঘটনার পর ২৩টি লাশ একদিনে এসছিলো, কিন্তু  বিমানবন্দরে এত এম্বুলেন্স সেই। আমারা ভাড়া করে এম্বুলেন্স এনেছিলাম, যেগুলো এম্বুলেন্সের ১০ হাজারের  বেশি হওয়ার কথা নয়, কিন্তু আমাদের ১ লাখ টাকা ভাড়া দিতে  হয়েছে।

 অনুষ্ঠানে বেসামরিক বিমান চলাচল ও পর্যটনমন্ত্রী  এ কেএম শাহজাহান কামাল বলেন,  আমি মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছি বেশি দিন হয়নি।  আপনারা আমাকে সময় দিন।  আমরা বিমানবন্দরগুলো সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছি। শাহজালালের ৩য় টার্মিনাল নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। শাহজাহান কামাল বলেন,   আপানাদের সুপারিশ  আমাকে দিন। আমি এসব বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর কাছে উপস্থাপন করবো।

 অনুষ্ঠানে ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টির্টিউশনের প্রেসিডেন্ট প্রকৌশর্ণী মো. আবদুস সবুর, সাধারণ সম্পাদক প্রকৌশলী খন্দকার মনজুর মোর্শেদ, ভাইস-প্রেসিডেন্ট (প্রশাসন ও অর্থ) প্রকৌশলী মো. নুরুজ্জামান , ভাইস প্রেসিডেন্ট প্রকৌশলী মিজানুর রহমান, সহকারী সাধারণ সম্পাদক প্রকৌশলী কাজী খায়রুল বাশার প্রমুখ।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ