রবিবার, অক্টোবর ২৫, ২০২৬
প্রচ্ছদটপফরিদপুরে জোড়া মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় শিক্ষিকার স্বামী আটক

ফরিদপুরে জোড়া মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় শিক্ষিকার স্বামী আটক

ফরিদপুরে দুই সরকারি কর্মকর্তার মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় নিহত সাজিয়া বেগমের স্বামী শহিদুল ইসলামকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করেছে পুলিশ। এছাড়া তৃতীয় কোনো পক্ষ খুনের ঘটনাটি ঘটিয়েছে কিনা তাও গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করছে পুলিশ। ০৭ মে সকালে ঝিলটুলি এলাকা থেকে শহিদুল ইসলামকে আটক করা হয়। ফরিদপুর কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এএফএম নাসিম জানান, পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে তাদের মধ্যে পুরানো যোগাযোগ অথবা প্রেমের সম্পর্ক ছিল এই বিষয়টি অনেকটাই নিশ্চিত হওয়া গেছে।

ওসি জানান, ‘মরদেহ যেভাবে পাওয়া গেছে তাতে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হয়েছে সাজিয়াকে খুন করে ব্যাংক কর্মকর্তা ফারুক হাসান আত্মহত্যা করেছেন। আবার এতোবড় ঘটনায় ওই ফ্ল্যাটের দরজা খোলা পাওয়ায় দু’জনকেই খুন করে থাকতে পারে। এই দুই ক্লুতেই তদন্ত করছে পুলিশ। ঘটনাস্থল থেকে একটি রক্তমাখা ছুরিও উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় থানায় মামলা প্রক্রিয়ধীন রয়েছে। বিকেল তিনটায় এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত মরদেহ দু’টির ময়নাতদন্ত চলছিল।

এর আগে রোববার (০৬ মে ) দিবাগত রাতে শহরের ঝিলটুলি এলাকার একটি ফ্ল্যাট থেকে সরকারি সারদা সুন্দরী মহিলা কলেজের শিক্ষিকা সাজিয়া বেগম ও সোনালী ব্যাংক কর্মকর্তা ফারুক হাসানের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। সাজিয়া বেগম ওই কলেজের গার্হস্থ্য অর্থনীতি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ছিলেন। তিনি রাজধানীর সূত্রপুরের বানিয়ানগর এলাকার শাহজাহান শেখের মেয়ে এবং ওই এলাকার মোটরপার্টস ব্যবসায়ী শহিদুল ইসলামের স্ত্রী। চাকরির সুবাদে শহরের দক্ষিণ ঝিলটুলী এলাকার প্রবাসী নুরুল ইসলামের বাড়ির নিচতলার একটি ফ্ল্যাটে ছোট ছেলে রিশাদকে (৫) নিয়ে তিনি ভাড়া থাকতেন। বড় ছেলে তাসিম (১১) ঢাকায় তার বাবার কাছে থাকে।

এদিকে এ ঘটনার সময় ওই বাড়িতেই ছিলেন স্বামী শহিদুল ইসলাম ও সাজিয়ার ফুপু আফসারী আহম্মেদ। বাড়ির মালিকের ছেলে মাহমুদুল হাসান ডেভিড জানান, নিহত ফারুক হোসেন নিজেকে ফরিদপুরের সোনালী ব্যাংকের প্রিন্সিপাল শাখায় বদলি হয়ে এসেছেন বলে দাবি করে বাসাটি ভাড়া নেন। একমাস আগে ভাড়া নিলেও বাসায় ওঠেন গত বৃহস্পতিবার। তিনি তার বাড়ি রাজধানীর আগারগাঁওয়ের বাসা নং ৩৮ বলে জানিয়েছিলেন।

এদিকে ফারুক হোসেন ব্যাংকের ফরিদপুরের কোনো শাখায় কর্মরত ছিলেন না দাবি করেন সোনালী ব্যাংকের ফরিদপুর প্রিন্সিপাল শাখার ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার মো. শামসুল হক। তিনি জানান, ফারুক হোসেনের ছবি দেখে যোগাযোগ করে নিশ্চিত হওয়া গেছে তিনি সোনালী ব্যাংক প্রধান কার্যালয়ে লিগ্যাল মেটারস ডিভিশনে প্রিন্সিপাল অফিসার হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তার গ্রামের বাড়ি যশোর জেলায়।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ