আনোয়ারা উপজেলার কর্ণফুলী থানার সিইউএফএল সংলগ্ন ডাই অ্যামোনিয়া ফসফেট (ডিএপি) প্ল্যান্টের অ্যামোনিয়া রিজার্ভ ট্যাংকে লিকেজের কারণে গ্যাস ছড়িয়ে পড়ার ঘটনা তদন্তে ১০ সদস্যের কমিটি করেছে বাংলাদেশ কেমিকেল ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশন (বিসিআইসি)। ২৩ আগস্ট দুর্ঘটনাকবলিত ডিএপি প্ল্যান্ট পরিদর্শন শেষে বিসিআইসির চেয়ারম্যান মো. ইকবাল সাংবাদিকদের এ কথা জানান।
তিনি বলেন, বিসিআইসির পরিচালককে (কারিগরি এবং প্রকৌশল) প্রধান করে প্রকৃত কারিগরি ত্রুটি নির্ণয়ের লক্ষ্যে এ কমিটি করা হয়েছে। বুয়েটের বিশেষজ্ঞ, বিসিআইসির সাবেক প্রকৌশলীদের কমিটিতে রাখা হয়েছে। তিন দিনের মধ্যে অন্তর্বর্তীকালীন রিপোর্ট দেওয়ার জন্য কমিটিকে বলা হয়েছে। সেই রিপোর্টের ভিত্তিতে প্রাথমিকভাবে অনুমান করতে পারবো কী ঘটেছে।
তিনি জানান, যে কোম্পানি ট্যাংক ও ডিএপি-১ প্লান্ট তৈরি করেছে তাদের সঙ্গে যোগাযাগ করেছি। পুনরাবৃত্তি যাতে না ঘটে সেজন্য সব ধরনের প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেব। যদি কর্মকর্তাদের কারও দায়িত্বে অবহেলা বা গাফিলতি থাকলে তবে তার বিরুদ্ধে কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অ্যামোনিয়া ট্যাংক লিকেজকে ‘নিছক একটি দুর্ঘটনা’ উল্লেখ করে বিসিআইসি চেয়ারম্যান বলেন, এ কারখানায় সর্বাধুনিক ডিসিএস সিস্টেমে ডাটা নেওয়া হয়। ঝুঁকি আছে কিনা, জনস্বাস্থ্যের জন্যে হুমকি আছে কিনা তা আমরা প্রতিনিয়ত মনিটরিং করি। দুর্ঘটনার পর পৃথিবীতে যে প্রসেস ফলো করা হয়, এখানেও তাই করা হয়েছে। কৃত্রিম বৃষ্টির মাধ্যমে অ্যামোনিয়া বাতাসে ছড়ানোর পথ রুদ্ধ করা হয়েছে।
এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, সার কারখানা হচ্ছে অনেক প্রসেসের সমাহার। ইউটিলিটি সার্ভিস আছে। প্রসেস আছে। সার উৎপাদন অনেক জটিল ব্যবস্থা। বাংলাদেশকে সার উৎপাদনের স্বয়ংসম্পূর্ণ করার জন্যে ১৯৮০ সাল থেকে কাজ করছে বিসিআইসি। এর আগে যেখানেই দুর্ঘটনা হয়েছে সেখানে প্রতিবেশীকে ছেড়ে যায়নি আমরা। এক্ষেত্রেও ব্যতিক্রম হবে না। এখানে বাতাস ও পানির কোয়ালিটি মনিটরিং করা হচ্ছে। যে পানি নালা দিয়ে ছাড়া হচ্ছে তার সঙ্গে কেমিকেল মেশানো হচ্ছে যাতে শোধন হয়। অপরিশোধিত পানি নদী বা সাগরে যাবে না এটি আমি নিশ্চিত করছি।
ডিএপি কারখানার বিষাক্ত পানি নদীতে যাবে না বলে নিশ্চিত করেন বিসিআইসি চেয়ারম্যান। তিনি গুজব না ছড়ানোর জন্য জেলা প্রশাসন, ফায়ার সার্ভিস, পুলিশ ও মিডিয়াকে ধন্যবাদ জানান। পরিদর্শনকালে ফায়ার সার্ভিসের মহাপরিচালক বিগ্রেডিয়ার আলী আহমদ খান, জেলা প্রশাসক মেজবাহ উদ্দিন প্রমুখ ছিলেন। ২২ আগস্ট রাতে ডিএপি কারখানার অ্যামোনিয়া ট্যাংকে লিকেজ হয়। এরপর অর্ধশতাধিক মানুষ শ্বাসকষ্ট নিয়ে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হন। ফায়ার সার্ভিসের ছয়টি ইউনিট পানি ছিটিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। তবে এখনো দুর্ঘটনাস্থলে স্বাভাবিক চলাফেরা করতে পারছে না মানুষ।




