নগরীর বাণিজ্যকেন্দ্র বলে পরিচিত চাক্তাই-খাতুনগঞ্জের চলমান জলাবদ্ধতা নিরসনে সাত দফা দাবি দিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। শনিবার সকাল ১১টা থেকে ১২টা পর্যন্ত ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রেখে খাতুনগঞ্জে মানববন্ধন ও সমাবেশ করেন ব্যবসায়ীরা। চাক্তাই-খাতুনগঞ্জ আড়তদার সাধারণ ব্যবসায়ী কল্যাণ সমিতি’র ব্যানারে অনুষ্ঠিত এই কর্মসূচিতে সাত দফা দাবি ঘোষণা করেন সমিতির সভাপতি সোলায়মান বাদশা।
ব্যবসায়ীদের সাত দফা দাবি হলো, কর্ণফুলী নদীতে ড্রেজিং করে নাব্যতা ফেরানো ও নদী থেকে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ, স্থায়ী প্রতিরক্ষা বাঁধ নির্মাণ, পণ্যবাহী ট্রলার ও নৌকা প্রবেশ করতে পারে এমন পদ্ধতিতে খালের মুখে স্লুইস গেইট স্থাপন, জঙ্গিবাদ থেকে চাক্তাই-খাতুনগঞ্জকে রক্ষা, গণশৌচাগার স্থাপন, কমিউনিটি হল নির্মাণ ও নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করা।
সমাবেশে সভাপতির বক্তব্যে সমিতির সভাপতি সোলায়মান বাদশা বলেন, ‘জলাবদ্ধতার কারণে ব্যবসায়ীদের কোটি টাকার পণ্য নষ্ট হয়। এর ফলে ব্যাংকের দেনা শোধ করতে না পেরে কোনো কোনো ব্যবসায়ী দেউলিয়া হয়ে যায়। এভাবে চলে আসছে। এখানকার ব্যবসায়ীরা ভোগ্যপণ্য আমদানি-রপ্তানিতে জড়িত হলেও পুরোপুরি বঞ্চিত। তিনি জলাবদ্ধতা নিরসনে ঐক্যবদ্ধভাবে কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা দেওয়ার হুমকি দেন।
এদিকে ব্যবসায়ীদের কর্মসূচির শেষের দিকে দুপুর ১২টায় সমাবেশে যোগ দেন সিটি মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দিন। পরে তিনি সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন। প্রধান অতিথির বক্তব্যে সিটি মেয়র বলেন, ব্যবসায়ীদের দাবি ন্যায্য ও যৌক্তিক। অতীতে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা না নেওয়ায় আজ এ সমস্যা প্রকট হয়েছে।চাক্তাই খাল খনন করলেই জলাবদ্ধতা সমস্যার সমাধান হবে না উল্লেখ করে মেয়র বলেন, এখন কম পানিতে জলাবদ্ধতা হচ্ছে, তখন বেশি পানিতে হবে।
তবে পানি সম্পদমন্ত্রী কর্ণফুলী নদীর তীরে বেড়িবাঁধ নির্মাণ প্রকল্পে রাজি হয়েছেন উল্লেখ করে মেয়র বলেন, দেড় মাসের মধ্যে এর ডিপিপি চূড়ান্ত হবে। পাঁচ মাসের মধ্যে প্রকল্পের চূড়ান্ত অনুমোদন হবে।ওই প্রকল্পের অধীনে নগরীর ২৬টি খালের মুখে স্লুইস গেইট হবে।সর্বসাকুল্যে দুই মাসের মধ্যে কর্ণফুলীতে ড্রেজিংও শুরু হবে।
সমাবেশে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন মীর গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবদুস সালাম, চট্টগ্রাম চেম্বারের সাবেক পরিচালক আলমগীর পারভেজ, বক্সিরহাট ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর জামাল হোসেন, ব্যবসায়ী নেতা জাহাঙ্গীর আলম, নুরুদ্দিন ও মো. সাহাবুদ্দিন।




