ষ্টাফরিপোর্টার (বিডিসময়২৪ডটকম)
যুদ্ধাপরাধী গোলাম আযমের ৯০ বছরের কারাদণ্ডের রায় প্রত্যাখ্যান করে তার ফাঁসির দাবিতে মঙ্গলবার সারাদেশে সকাল-সন্ধ্যা ডেকেছে আন্দোলনরত ১০ ছাত্র সংগঠন।
সোমবার দুপুরে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল রায় ঘোষণার পর বিকেলে ১০ সংগঠনের পক্ষে এই হরতালের ডাক দেন বাংলাদেশ ছাত্রমৈত্রীর সভাপতি বাপ্পাদিত্য বসু।
এই হরতালের সমর্থনে থাকা অন্য ছাত্র সংগঠনগুলো হলো- বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন, বাংলাদেশ ছাত্রমৈত্রী, জাসদ ছাত্রলীগ, সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্ট (খালেকুজ্জামান), ছাত্রফ্রন্ট (মবিনুল হায়দার), ছাত্র আন্দোলন, ছাত্র সমিতি, বিপ্লবী ছাত্র সংহতি, ছাত্রঐক্য ফোরাম।
মানবতাবিরোধী অপরাধের মূল পরিকল্পনাকারী, ষড়যন্ত্রকারী, উস্কানিদাতা, প্ররোচনাকারী ও সম্পৃক্ততাকারী হিসেবে পাঁচ ধরনের ৬১টি অভিযোগে গোলাম আযমকে সোমবার বিভিন্ন মেয়াদে মোট ৯০ বছর বা আমৃত্যু কারাদণ্ডের রায় দেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।
বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় এর বিরোধিতারী রাজনৈতিক দল জামায়াতে ইসলামীর আমির ছিলেন গোলাম আযম।
এই রায়ে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ সন্তোষ প্রকাশ করলেও প্রসিকিউশন আপিলের কথা জানিয়েছে।
অন্যদিকে গোলাম আযমের পক্ষেও আপিল করা হবে বলে জানিয়েছেন তার আইনজীবী।
রায় ঘোষণার পর থেকেই তা প্রত্যাখ্যান করে গণমাধ্যম ও সোশ্যাল মিডিয়ায় তাদের ‘দুঃখ’ ও ‘ক্ষোভ’ প্রকাশ করে চলেছেন দেশের সাধারণ মানুষ।
আর এদিকে গোলাম আযমের রায়ের পর তার মুক্তি দাবিতে মঙ্গলবার সকাল-সন্ধ্যা হরতাল ডেকেছে জামায়াতে ইসলামী।
সোমবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে দলের ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান এ কর্মসূচি ঘোষণা করেন।
এতে বলা হয়, প্রসিকিউশন তার বিরুদ্ধে আনীত ৬১টি অভিযোগের একটিও প্রমাণ করতে পারেনি। এটা রাষ্ট্রপক্ষের চরম ব্যর্থতা। রায়ে জামায়াত সম্পর্কে বক্তব্য প্রদান সম্পূর্ণ অপ্রাসঙ্গিক, অনভিপ্রেত ও বেআইনি। এর থেকেই প্রমাণিত হয়, রাজনৈতিক বিবেচনায় সরকারের ইচ্ছা বাস্তবায়নের জন্য এ রায় প্রদান করা হয়েছে।
গোলাম আযমের বিরুদ্ধে পাঁচটি অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হলেও বয়স ও শারীরিক অবস্থা বিবেচনায় তাকে ৯০ বছর কারাদণ্ড দেয়া হয়।
জামায়াতে ইসলামীর সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে গোলাম আযমের বিরুদ্ধে তোলা অভিযোগ মানবতাবিরোধী অপরাধের সংজ্ঞায় পড়ে না বলে দাবি করা হয়।
দলটি বলছে, শুধু পত্রিকার খবর ছাড়া রাষ্ট্রপক্ষ অন্য কোন স্বাক্ষ্য প্রমাণ উপস্থাপন করতে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে। ট্রাইব্যুনাল তাদের রায়ে অপ্রাসঙ্গিকভাবে জামায়াতকে টেনে এনে অধ্যাপক গোলাম আযমের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগসমূহ রাষ্ট্রপক্ষ প্রমাণে ব্যর্থ হওয়া সত্ত্বেও অধ্যাপক গোলাম আযমকে ৯০ বছরের সাজা দিয়ে ভুল ও অন্যায় করেছে। ট্রাইব্যুনালের এ রায় ভ্রান্ত ও ন্যায়ভ্রষ্ট। জনগণ এ রায় প্রত্যাখ্যান করেছে।




