যুদ্ধাপরাধী সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী ও আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদের ফাঁসি কার্যকরকে কেন্দ্র করে চট্টগ্রাম নগরীতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করা হয়েছে। জেলায়ও পুলিশকে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় থাকার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। নিরাপত্তা নিয়ে শনিবার বিকেল তিনটায় জরুরি বৈঠক ডেকেছেন সিএমপি কমিশনার মোহা.আব্দুল জলিল মন্ডল। সেখানে শীর্ষ পুলিশ কর্মকর্তাদের পাশাপাশি ১৬ থানার ওসিকেও উপস্থিত থাকার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
নগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (প্রশাসন, অর্থ ও ট্রাফিক) একেএম শহীদুর রহমান বলেন, ফাঁসি কার্যকরকে কেন্দ্র করে যে কোন ধরনের সহিংসতা যাতে কেউ সৃষ্টি করতে না পারে সেজন্য পুলিশের পক্ষ থেকে নিরাপত্তা আরও জোরদার করা হয়েছে। নিরাপত্তা নিয়ে বিকেল তিনটায় কমিশনার মহোদয় জরুরি বৈঠক আহ্বান করেছেন। নগর পুলিশের অতিরিক্ত উপ কমিশনার আরেফিন জুয়েল জানান, সিএমপি কমিশনারের নির্দেশে শনিবার সকাল থেকে নগরীর ১৬ থানায় ১৬টি এসআরএফ (স্পেশাল রায়ট ফোর্স) টিম পাঠানো করা হয়েছে। প্রতিটি টিমে ২০ জন করে সদস্য আছে। পাহাড়তলী, অলংকার, সিটি গেট, বাদামতলী মোড়, শাহ আমানত সেতু সহ নগরীর স্পর্শকাতর বিভিন্ন পয়েন্টে এসআরএফ সদস্যরা দায়িত্ব পালন করছেন বলে তিনি জানান।
এছাড়া নগরীর বিভিন্ন এলাকায় তাৎক্ষণিক চেকপোস্ট বসিয়ে তল্লাশি চালানোরও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি। নগরীর চান্দগাঁও থানার মোহরা, বায়েজিদ থানার অক্সিজেন, আকবরশাহ থানার সিটি গেইট ও বাকলিয়া থানার শাহ আমানত সেতু এলাকায় স্থায়ী চারটি চেকপোস্ট রয়েছে। নগরীতে আগে থেকেই প্রায় দুই হাজার অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন আছে। শনিবার অতিরিক্ত পুলিশের সংখ্যা আরও বাড়ল। বাকলিয়া থানার ওসি মোহাম্মদ মহসিন বলেন, প্রবেশপথে কড়া প্রহরা বসানো হয়েছে। নগরীর বাইরে থেকে কেউ এসে যাতে কোন ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে না পারে সেজন্য আমরা সজাগ আছি। বন্দর থানার ওসি একেএম মহিউদ্দিন সেলিম বলেন, চট্টগ্রাম বন্দর, তেলের ডিপোসহ স্পর্শকাতর সব স্থাপনার নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। অতিরিক্ত পুলিশ ফোর্স দেয়া হয়েছে। টহল বাড়ানো হয়েছে।
এদিকে চট্টগ্রামের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (বিশেষ শাখা) মুহাম্মদ নাঈমুল হাছান জানিয়েছেন, ফাঁসি কার্যকরের বিষয়ে তাদের কাছে স্পষ্ট কোন দিকনির্দেশনা আসেনি। এরপরও শনিবার সকাল থেকে জেলার সব থানার ওসি এবং মাঠপর্যায়ে দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যদের সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। জেলার প্রত্যেক থানায় আগে থেকেই এক’শ করে অতিরিক্ত পুলিশ ফোর্স মোতায়েন করা হয়েছে। নাশকতা মোকাবেলায় নগরী এবং জেলায় ৬ প্লাটুন বিজিবি সদস্য মোতায়েন আছে। যে কোন পরিস্থিতিতে তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থলে যাবার জন্য প্রস্তুত রাখা হয়েছে আরও চার প্লাটুন বিজিবি সদস্য।
একাত্তরে মানবতাবিরোধী অপরাধে আলী আহসান মুহাম্মদ মুজাহিদ এবং সালাহউদ্দিন কাদেরের ফাঁসি কার্যকরের প্রক্রিয়া প্রায় শেষ পর্যায়ে আছে বলে গণমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়েছে। দুই যুদ্ধাপরাধী রাষ্ট্রপতির কাছে প্রাণভিক্ষার আবেদন জানাবে কিনা সেটা জানতে দুই ম্যাজিস্ট্রেট শনিবার সকালে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে প্রবেশ করেছে। তবে এখনও পর্যন্ত এ বিষয়ে কোন সিদ্ধান্ত জানা যায়নি। একাত্তরে চট্টগ্রামের কুখ্যাত ঘাতক সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরী চট্টগ্রামের রাউজান ও রাঙ্গুনিয়া থেকে একাধিকবার সাংসদ নির্বাচিত হয়েছিলেন। সর্বশেষ নবম সংসদ নির্বাচনে তিনি ফটিকছড়ি থেকে সাংসদ নির্বাচিত হয়েছিলেন।
নিজ এলাকায় সংখ্যালঘু সম্প্রদায় এবং মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী সাধারণ লোকজনের কাছে সাকা ছিলেন মূর্তিমান আতংক। ক্যাডার লালন করে অস্ত্রবাজি আর পেশীশক্তির মাধ্যমে দীর্ঘদিন নিজ এলাকার মানুষকে জিম্মি করে রেখেছিলেন সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরী। সালাহউদ্দিন কাদেরের এই দাপটের খবর গণমাধ্যমে বারবার প্রকাশিত হলেও তিনি কখনোই তাতে পাত্তা দেননি। বরং দম্ভভরে তা প্রত্যাখান করেছিলেন।




