বর্তমানে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে চলছে বাংলাদেশ-ভারত দ্বিপক্ষীয় বৈঠক। দুই দেশের পক্ষে নেতৃত্ব দিচ্ছেন যথাক্রমে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সফররত ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। এর আগে শনিবার বেলা তিনটা ৪০ মিনিটে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পৌঁছানোর পর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে নিয়ে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে দু’টি নতুন রুটে বাস চলাচল উদ্বোধন করেন নরেন্দ্র মোদি। এ সময় সঙ্গে ছিলেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি। এর পর বিকেল তিনটা ৫০ মিনিটে গোলাপ হলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে একান্ত বৈঠকে মিলিত হন মোদি। সেখানে ২০ মিনিট একান্তে কথা বলার পর শাপলা হলে দুই দেশের কর্মকর্তাদের মধ্যে স্থল সীমান্ত চুক্তির অনুসমর্থন দলিল হস্তান্তর অনুষ্ঠান প্রত্যক্ষ করেন দুই নেতা। এর পর প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের ‘শিমুল’ হলে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে বসেন শেখ হাসিনা ও নরেন্দ্র মোদি। এই বৈঠক এখনও চলছে।
দ্বিপক্ষীয় বৈঠক শেষ হওয়ার পর চামেলী হলে উভয় পক্ষের প্রতিনিধি দল পর্যায়ের বৈঠকে ফের অংশ নেবেন দুই প্রধানমন্ত্রী। এখানে প্রায় ৪৫ মিনিট বৈঠকের পর ‘শাপলা’য় আয়োজিত অপর একটি কর্মসূচিতে দুই দেশের যৌথ স্বার্থসংশ্লিষ্ট একাধিক স্থাপনার ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন মোদি-হাসিনা। পরে একই হলে কয়েকটি চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর ও প্রত্যক্ষ করবেন হাসিনা-মোদি। এ সময় নরেন্দ্র মোদির হাতে স্যুভেনিউর ও উপহার সামগ্রী তুলে দেবেন শেখ হাসিনা। এরপর সফরের বিভিন্ন দিক তুলে ধরতে আয়োজিত যৌথ সংবাদ বিবৃতিতে অংশ নেবেন তারা। সন্ধ্যা সোয়া ৭টায় ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ভিজিটরস বুকে স্বাক্ষর করবেন। এর পরপরই কার্যালয় থেকে মোদিকে বিদায় জানাবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
তবে এর কিছুক্ষণ পর রাত ৮টায় দুই প্রধানমন্ত্রীর আবার দেখা হবে হোটেল সোনারগাঁওয়ে। সেখানে গ্র্যান্ড বল রুমে অনুষ্ঠিত হবে ভারতীয় প্রধানমন্ত্রীর সম্মানে বিশেষ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও ভোজসভা। রাত সাড়ে ৯টায় এই কর্মসূচি শেষ হবে। রোববারও বাংলাদেশে ব্যস্ত দিন কাটাবেন মোদি। সকালে তার ঢাকেশ্বরী মন্দির ও রামকৃষ্ণ মিশন পরিদর্শনে যাওয়ার কথা রয়েছে। দুপুরে বঙ্গভবনের দরবার হলে তাকে দেওয়া হবে বিশেষ সংবর্ধনা। এরপর মোদির সম্মানে রাষ্ট্রপতির দেয়া মধ্যাহ্ন ভোজে অংশ নেবেন দুই প্রধানমন্ত্রী। এ সময় রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদের হাত থেকে ভারতের সাবেক প্রধানমন্ত্রী অটল বিহারি বাজপেয়ির জন্য বিশেষ সম্মাননা গ্রহণ করবেন নরেন্দ্র মোদি।
বঙ্গভবনের কর্মসূচি শেষে হোটেলে ফিরলে সেখানে তার সঙ্গে পৃথকভাবে দেখা করতে যাবেন বিরোধী দলীয় নেতা রওশন এরশাদ ও বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়া। সন্ধ্যায় বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে রয়েছে নরেন্দ্র মোদির বিশেষ বক্তৃতা। বক্তৃতা শেষে রাত ৮টা ২০ মিনিটে শাহজালাল (রহ.) থেকে ভারতীয় বিমানবাহিনীর বিশেষ বিমানে দেশের উদ্দেশে উড়াল দেবেন মোদি। সেখানে ভিভিআইপি টারমাকে তাকে বিদায় জানাতে উপস্থিত থাকবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এদিকে নরেন্দ্র মোদির সফরের একদিন আগেই ঢাকা পৌঁছান ভারতের পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি। শুক্রবার রাত ৮টা ৩১ মিনিটে ঢাকা পৌঁছান তিনি।
নরেন্দ্র মোদি ও মমতা ব্যানার্জির এই সফর উপলক্ষে ঢাকার বিভিন্ন সড়ক সেজেছে বর্ণিল সাজে। হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে সোনারগাঁও হোটেল পর্যন্ত পুরো রাজপথ জুড়ে শোভা পাচ্ছে মোদি ও মমতার ছবি। রয়েছে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছবিও। সঙ্গে ভারত-বাংলাদেশের পতাকা। আর রয়েছে লাল-নীল-হলুদ-সবুজ নিশান।




