মানবতাবিরোধী অপরাধে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত কামারুজ্জামানের সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে তার আইনজীবীরা জানিয়েছেন, প্রাণভিক্ষার বিষয়ে তিনি ভাবনা-চিন্তা করবেন এবং পরে তার সিদ্ধান্ত জানাবেন। এ বিষয়ে কামারুজ্জামান যৌক্তিক সময় নিতে চেয়েছেন বলেও জানান আইনজীবীরা। তারা বলেন, প্রাণভিক্ষা চাইবেন কি-না সে সিদ্ধান্ত তিনি নিজেই নেবেন। আমাদের কাছে তিনি শুধু এ বিষয়ে আইনগত বিভিন্ন দিকগুলো জানতে চেয়েছেন। আমরা সেসব বিষয়ে পরামর্শ দিয়েছি। বৃহস্পতিবার বেলা পৌনে বারটার দিকে কামারুজ্জামানের সঙ্গে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে সাক্ষাৎ শেষে বের হয়ে এসে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন আইনজীবী অ্যাডভোকেট শিশির মোহাম্মদ মনির।
জেলগেটে ব্রিফিংয়ে তিনি বলেন, কামারুজ্জামান আমাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে চেয়েছিলেন। সে অনুসারে কারা কর্তৃপক্ষ মঙ্গলবার রাতে চিঠি দেন। সে চিঠি পেয়ে কারাগারের ভেতরে আমরা দেখা করে এসেছি। শীর্ষ এ যুদ্ধাপরাধী প্রাণভিক্ষা চাইবেন কি-না সে বিষয়ে কোনো কথা হয়েছে কি-না, এ প্রশ্নের জবাবে শিশির মনির বলেন, এ বিষয়ে তিনি চিন্তা করবেন, ভাববেন, ভাবনা-চিন্তা শেষে কারা কর্তৃপক্ষকে তার সিদ্ধান্ত জানাবেন। আইনে এজন্য খুব বেশি সময় দেওয়া হয়নি। তাহলে তিনি কতো সময় নিতে চান বলে জানতে চান সাংবাদিকরা। এর জবাবে কামারুজ্জামানের আইনজীবী বলেন, কারাবিধিতে সাতদিনের সময় দেওয়া হয়েছে। তবে কারাবিধি এক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয় স্মরণ করিয়ে দিলে শিশির মনির জানান, যৌক্তিক সময়ের মধ্যেই ভাবনা-চিন্তা করে সিদ্ধান্ত জানাবেন কামারুজ্জামান। এর আগে ১০টা ৫২ মিনিটে কারাগার কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিয়ে ভেতরে প্রবেশ করেন পাঁচ আইনজীবী। পৌনে ১০টার দিকে তারা একটি সাদা মাইক্রোবাসে (ঢাকা মেট্রো-চ ৫১-৬১০৫) করে জেলগেটে পৌঁছান।
প্রায় পৌনে এক ঘণ্টা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মোহাম্মদ কামারুজ্জামানের সঙ্গে কথা বলেন তার আইনজীবীরা। অ্যাডভোকেট শিশির মোহাম্মদ মনির ছাড়াও পাঁচ সদস্যের আইনজীবী দলে ছিলেন ব্যরিস্টার এহসান সিদ্দিকী, মতিউর রহমান আকন, আসাদ উদ্দিন ও অ্যাডভোকেট মুজিবুর রহমান। এদিকে কামারুজ্জামানের সঙ্গে সাক্ষাত করতে পরিবারের পক্ষ থেকে আবেদন করা হবে বলে জানিয়েছেন তার বড় ছেলে হাসান ইকবাল। তিনি বলেন, আইনজীবীরা সাক্ষাৎ করে এলে তাদের সঙ্গে আলাপ করে পরিবারের পক্ষ থেকে সাক্ষাতের আবেদন জানানো হবে।




