সোমবার, অক্টোবর ২৬, ২০২৬
প্রচ্ছদচট্রগ্রাম প্রতিদিন২০ কেজি ওজনের সোনার বার ও অলংকার উদ্ধার, আটক ২

২০ কেজি ওজনের সোনার বার ও অলংকার উদ্ধার, আটক ২

নগরীর সদরঘাট থানার পশ্চিম মাদারবাড়ি পুলিশ ফাঁড়ির পাশে একটি ইলেকট্রনিক্স পণ্যের গুদাম থেকে প্রায় ২০ কেজি ওজনের সোনার বার ও অলংকার উদ্ধার করেছে পুলিশ। এসব সোনার বার ও অলংকারের দাম প্রায় ১০ কোটি টাকা বলে দাবি করেছে পুলিশ। বুধবার রাত সাড়ে ১১টায় ওই গুদামে অভিযান শুরু করে ‍সদরঘাট থানা পুলিশ। রাত আড়াইটায় তল্লাশি অভিযান শেষ করে গুদামটি সিলগালা করে দিয়েছে পুলিশ। গুদামটিতে এসি মেলা নামে একটি ইলেকট্রনিক্স পণ্য আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানের মালামাল রাখা হয়েছিল। পুলিশ অভিযানের সময় ওই প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজার টিটু (৩৫) এবং কর্মচারী এমরানকে (২৭) আটক করতে সক্ষম হয়েছে। সদরঘাট থানার এস আই মো.আনোয়ার হোসেন জানান, গোপন সূত্রে তিনি জানতে পারেন আনু মাঝির ঘাটে গুদামের সামনে একটি লাল রংয়ের প্রাইভেট কারে চারটি কাগজের বড় বাক্স তোলা হচ্ছে যাতে বিপুল পরিমাণ চোরাচালানির মাধ্যমে আনা সোনা আছে।

ওই সংবাদের ভিত্তিতে তিনি দ্রুত এসে কাগজের বাক্সগুলো তোলার দায়িত্বে থাকা টিটু ও এমরানকে চ্যালেঞ্জ করেন। তিনি বাক্সগুলো তল্লাশি করতে চাইলে টিটু ও এমরান বাধা দেয়। এমরান বকশিষ দেয়ার লোভ দেখিয়ে তাকে নিবৃত্ত করার চেষ্টা করেন। কিন্তু এস আই আনোয়ার অনড় থাকলে টিটু এসি মেলার মালিকের সঙ্গে ফোনে তাকে যোগাযোগ করিয়ে দেন। মালিক বাক্সগুলো তল্লাশি না করার বিনিময়ে এক কোটি টাকা ঘুষ অফার করেন। এতে এস আই আনোয়ার অবৈধ সোনার বিষয়টি আরও নিশ্চিত হয়ে উপরস্থ পুলিশ কর্মকর্তাদের ফোন দেন।

পরে উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এসে ওই বাক্সগুলোসহ গুদামের ভেতরে ঢুকে তল্লাশি শুরু করেন। তল্লাশিতে এসি এবং মাইক্রোওভেনের ভেতর থেকে একে একে বের হতে থাকে সোনার বার ও অলংকার। ঘটনাস্থলে থাকা নগর পুলিশের কোতোয়ালি জোনের সহকারি কমিশনার শাহ মো.আব্দুর রউফ জানান, তল্লাশিতে ১২০টি সোনার বার পাওয়া গেছে যার ওজন ১৪ কেজি ২০০ গ্রাম। আর ১৬ আইটেম সোনার অলংকার পাওয়া গেছে যেগুলোর ওজন ৫ কেজি ৮০০ গ্রাম।

সোনার অলংকারের মধ্যে আছে, ১৬টি হাতের বালা, ১২টি বাচ্চাদের চুড়ি, ৪সেট গলার চেইনসহ কানের দুল, ২ সেট মোটা চেইনের গলার সেট, ২টি সীতাহার, ১টি গলার বড় গোল লকেট, ৩২টি গলার চেইন লকেট, ১টি টিকলিসহ চেইন, ২টি দুলসহ গলার চেইন, ৪টি গলার হার, ৪টি গোল লকেটসহ গলার চেইন, ২০টি গলার চেইন, ৬ সেট কালো পুতির গলার মালা ও চেইন, ১২ জোড়া কানের দুল, ৯ সেট গুটি চেইনসহ গলার মালা, ১টি গলার ছোট হার এবং ১৪টি ছোট চেইন।

খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যান নগর পুলিশ কমিশনার মোহা.আব্দুল জলিল মন্ডল। তিনি উপস্থিত সাংবাদিকদের বলেন, উদ্ধার করা সোনার বার ও অলংকারগুলো দুবাই থেকে আনা হয়েছে। সবগুলো আইটেমের উপর দুবাইয়ের সিল মারা আছে। সরকারকে রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে অবৈধ পথে সোনার বার ও অলংকারগুলো আনা হয়েছে। সিএমপি কমিশনার বলেন, আমাদের ধারণা, গুদামে আরও যেসব ইলেকট্রনিক্স আইটেম আছে সেগুলোতেও অবৈধ সোনা থাকতে পারে। এজন্য গুদাম সিল করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার সেগুলোতে তল্লাশি করা হবে।

ঘটনাস্থলে থাকা নগর পুলিশের অতিরিক্ত উপ কমিশনার (দক্ষিণ) মোহাম্মদ মিজানুর রহমান বলেন, বিভিন্ন সময় পুলিশ নগরীর বিভিন্ন স্থান থেকে সোনার বার উদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছে। চট্টগ্রাম শাহ আমানত বিমানবন্দরেও প্রায়ই সোনার চালান আটক হয়। তবে গুদামে মজুদ রাখা অবস্থায় সোনার চালান এই প্রথম উদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছে পুলিশ।ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা গেছে, পশ্চিম মাদারবাড়ি পুলিশ ফাঁড়ির সঙ্গে প্রায় লাগোয়া ভবনের নিচতলায় গুদামে অবৈধ সোনার বার ও অলংকারগুলো মজুদ করা হয়েছে। গুদামটির স্তরে স্তরে সাজানো আছে এসি, সাউন্ড সিস্টেম, মাইক্রোওভেনসহ বিভিন্ন ইলেকট্রনিক্স পণ্য। তবে পুলিশ ফাঁড়ির পাশেই অবৈধ এ কর্মকাণ্ডে বিস্মিত খোদ পুলিশ কর্মকর্তারাই।

সদরঘাট থানার ওসি আবুল কালাম আজাদ বলেন, আমরা আটক দু’জনকে জিজ্ঞাসাবাদ করব। তদন্তে এসি মেলার মালিকসহ যাদের বিষয়ে সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া যাবে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

  • বিষয়:
  • top
আরও পড়ুন

সর্বশেষ