সুইস ব্যাংকে মুসা বিন শমসেরের সাত বিলিয়ন ডলার রয়েছে এমন তথ্য দিয়ে চলতি বছর আন্তর্জাতিক বাণিজ্য সাময়িকী ‘বিজনেস এশিয়া’ সংবাদ প্রকাশ করে। বাংলাদেশি মুদ্রায় যার পরিমাণ ৫১ হাজার কোটি টাকা। ‘বিজনেস এশিয়া’র প্রতিবেদনের ওপর ভিত্তি করে মুসার সম্পদ যাছাই ও অর্থ পাচারের অভিযোগের বিষয়ে অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নেয় দুদক।
জিজ্ঞাসাবাদ শেষে মুসা বিন শমশের আরও বলেন, এটা সবাই বুঝতে পারবে যে, এ পরিমাণ টাকা বাংলাদেশ থেকে অর্জন করা সম্ভব নয়। যা উপার্জন করেছি বিদেশিই করেছি। আমি দেশ থেকে কোনো টাকা বিদেশে পাচার করি নি। দুদকের অনুসন্ধানেই তা বেরিয়ে আসবে। অবৈধ সম্পদ ও অর্থ পাচারের অভিযোগের বিষয় তিনি বলেন, প্রত্যেকটি গল্পের পেছনে একটি ইতিহাস থাকে। ধৈর্য ধরেন। সব জানতে পারবেন। আমার সম্পর্কে বলা হয়েছে, আমি ৫১ হাজার কোটি টাকা বিদেশে পাচার করেছি। এটা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট। দুদকের অনুসন্ধানে এটা বেরিয়ে আসবে। তিনি বলেন, এ টাকা (৫১ হাজার কোটি টাকা) কেউ দেশে অর্জন করতে পারেনি। আগামী ৫০ বছরে এদেশে কেউ অর্জন করতে পারবেও না।
বৃহস্পতিবার সকাল ১১টায় তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডাকা হলেও দুই ঘণ্টা আগেই ব্যক্তিগত নিরাপত্তা বেষ্টনীর মধ্য দিয়ে দুদকে হাজির হন তিনি। প্রায় তিন ঘণ্টা দুদক তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে। দুদক সূত্রে জানা যায়, জিজ্ঞাসাবাদে মুসা বিন শমসের তার বিরুদ্ধে সব অভিযোগ অস্বীকার করেন। বাংলাদেশ থেকে কোনো টাকা তিনি পাচার করেননি বলে জিজ্ঞাসাবাদে জানান। ১৯৫০ সালের ১৫ অক্টোবর ফরিদপুরে জন্ম নেওয়া মুসা ড্যাটকো গ্রুপের মাধ্যমে জনশক্তি রপ্তানি করেন। তবে তার পরিচিতি তুলে ধরতে গিয়ে আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যমগুলো অস্ত্র ব্যবসার কথাই আগে এনেছে।
১৯৯৭ সালে যুক্তরাজ্যের নির্বাচনে লেবার পার্টির প্রধানমন্ত্রী পদপ্রার্থী টনি ব্লেয়ারের নির্বাচনী প্রচারণার জন্য ৫০ লাখ পাউন্ড অনুদান দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছিলেন তিনি। এরপরই বেশ আলোচনায় আসেন বাংলাদেশের এ ব্যবসায়ী।




