রবিবার, আগস্ট ১৬, ২০২৬
প্রচ্ছদজাতীয়মোবারকের মৃত্যুদণ্ডাদেশ

মোবারকের মৃত্যুদণ্ডাদেশ

মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আওয়ামী লীগের বহিষ্কৃত নেতা ও জামায়াতের সাবেক রোকন মোবারক হোসেনকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদণ্ডাদেশ দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১। মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার আখাউড়া থানার এই রাজাকার কমান্ডারের মামলার রায়ে হত্যা, অপহরণ, জোরপূর্বক আটকে রাখা, নির্যাতন ও লুটপাটের ৫টির মধ্যে হত্যা-গণহত্যার দু’টি অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় তাকে সর্বোচ্চ এ দণ্ডাদেশ দেওয়া হয়েছে। সোমবার (২৪ নভেম্বর) এ রায় ঘোষণা করেন চেয়ারম্যান বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম, বিচারপতি জাহাঙ্গীর হোসেন ও বিচারপতি আনোয়ারুল হকের সমন্বয়ে ৩ সদস্যের ট্রাইব্যুনাল।৩৫ জনকে হত্যা, ৩ জনকে অপহরণ করে জোরপূর্বক আটকে রেখে নির্যাতন ও লুটপাটের মতো পাঁচটি মানবতাবিরোধী অপরাধে অভিযুক্ত হয়েছিলেন মোবারক হোসেন। আন্তর্জাতিক অপরাধ (ট্রাইব্যুনালস) আইন’১৯৭৩ এর ৩(২)(এ), ৩(২)(জি), ২০ (২) এবং ৪(১) ধারা অনুসারে এসব অভিযোগ আনা হয়। এসব অভিযোগের মধ্যে ১ নম্বর অভিযোগ আখাউড়া থানার টানমান্দাইল ও জাঙ্গাইল গ্রামে ৩৩ জনকে হত্যা এবং ৩ নম্বর অভিযোগ ছাতিয়ান গ্রামের আব্দুল খালেককে হত্যার অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে। ১ নম্বর অভিযোগে মোবারককে ফাঁসি ও ৩ নম্বর অভিযোগে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডাদেশ দেওয়া হয়েছে মোবারককে।

বাকি তিন অভিযোগ আনন্দময়ী কালীবাড়ী রাজাকার ক্যাম্পে আশুরঞ্জন দেবকে নির্যাতন (২ নম্বর), শ্যামপুর গ্রামের দু’জনকে অপহরণ করে একজনকে হত্যা (৪ নম্বর) এবং খরমপুর গ্রামের একজনকে আটক রেখে নির্যাতনের (৫ নম্বর) প্রমাণিত না হওয়ায় এসব অভিযোগ থেকে খালাস পেয়েছেন মোবারক।

এক অভিযোগে ফাঁসি
প্রমাণিত প্রথম অভিযোগে বলা হয়েছে, একাত্তরের ২২ আগস্ট মোবারক হোসেনসহ অন্য রাজাকাররা আখাউড়ার টানমান্দাইল গ্রামে হাজি নূর বকশের বাড়িতে সভা ডাকেন। বেলা দুইটা-আড়াইটার দিকে ১৩০-১৩২ জন গ্রামবাসীকে ওই বাড়িতে নিয়ে জড়ো করা হয়। তখন মোবারক ও তার সহযোগীরা পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী সেখানে অভিযান চালিয়ে ওই গ্রামবাসীদের আটক করে গঙ্গাসাগর দীঘির কাছে পাকিস্তানি সেনাদের ক্যাম্পে নিয়ে আটকে রাখেন। আটক ব্যক্তিদের মোবারক ও তার সহযোগীরা জিজ্ঞাসাবাদ ও নির্যাতন করেন। তিনি টানমান্দাইল গ্রামের ২৬ জন ও জাঙ্গাইল গ্রামের সাতজনসহ ৩৩ জনকে বাছাই করে তেরোঝুড়ি হাজতখানায় নিয়ে যান। ২৩ আগস্ট পাকিস্তানি সেনা ও রাজাকাররা ওই ৩৩ জনকে দিয়ে গঙ্গাসাগর দীঘির পশ্চিম পাড়ে একটি গর্ত খোঁড়ায়। পরে তাদের গুলি করে হত্যা করে এবং ওই গর্তে মাটি চাপা দেয়। এ অপরাধের দায়ে ফাঁসির দণ্ডাদেশ পেয়েছেন মোবারক হোসেন।

  • বিষয়:
  • top
আরও পড়ুন

সর্বশেষ