রবিবার, আগস্ট ১৬, ২০২৬
প্রচ্ছদজাতীয়নাটোরে বাস দুর্ঘটনায় বাসের মালিক, চালক ও সহকারীকে দায়ী করে প্রতিবেদন

নাটোরে বাস দুর্ঘটনায় বাসের মালিক, চালক ও সহকারীকে দায়ী করে প্রতিবেদন

নাটোরের বড়াইগ্রামে দুটি বাসের মধ্যে সংঘর্ষে ৩৪ জনের মৃত্যুর ঘটনায় তিনটি বাস- অথৈ পরিবহন, কেয়া পরিবহন, হানিফ পরিবহনের মালিক, চালক ও তার সহকারীকে দায়ী করে প্রতিবেদন দিয়েছে জেলা প্রশাসনের তদন্ত কমিটি। বৃহস্পতিবার তদন্ত কমিটির এই প্রতিবেদন সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ে পৌঁছানোর পর মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেন, এই ঘটনায় প্রকৃত দোষী তিনটি বাসের মালিক ও হেলপার। তাদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। নাটোরের অতিরিক্ত জেলা হাকিম মোহাম্মদ আলীর সঙ্গে সহকারী পুলিশ সুপার (সার্কেল) এবং বিআরটিএ-র একজন সহকারী পরিচালক এই তদন্ত কমিটিতে ছিলেন।

তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়, দুই বাসের সংঘর্ষের পর আহত যাত্রীরা যখন রাস্তায় পড়ে ছিলেন, তাদের চাপা দিয়েই হানিফ পরিবহনের একটি বাস দ্রুত গতিতে চলে যায়। এতে হতাহতের সংখ্যা আরও বেড়ে যায়। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, কেয়া পরিবহনের চালক বেপরোয়া গতিতে বাস চালাচ্ছিলেন। সড়কের পরিস্থিতি ও যানবাহনের গতিবিধি না বুঝেই তিনি একটি ট্রাককে ‘ওভারটেক’ করতে গেলে দুর্ঘটনা ঘটে।

সেতু মন্ত্রী জানান, কেয়া পরিবহনের বাসটির ফিটনেস সার্টিফিকেট ও রুট পারমিট হালনাগাদ ছিল না। আর অথৈ পরিবহনের রেজিস্ট্রেশন নম্বর ছিল ভুয়া। নিয়ম ভেঙে তারা ছাদে ৪৪ থেকে ৪৬ জন যাত্রী তুলেছিল। হানিফ পরিবহনের একটি বাস রাস্তায় থাকা যাত্রীদের চাপা দেয় বলে তদন্ত কমিটি জানতে পারলেও ওই বাসটি এবং তার চালককে সনাক্ত করা যায়নি। এ বিষয়ে এখনও অনুসন্ধান চলছে বলে ওবায়দুল কাদের জানান। ভবিষ্যতে এ ধরনের দুর্ঘটনা এড়াতে তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে ১৭টি সুপারিশ করা হয়েছে বলেও জানান তিনি। গত সোমবার বড়াইগ্রামে ঢাকা থেকে রাজশাহীগামী কেয়া পরিবহনের বাসটির সঙ্গে নাটোর শহর থেকে গুরুদাসপুরমুখি অথৈ পরিবহনের বাসটির মুখোমুখি সংঘর্ষে এই হতাহতের ঘটনা ঘটে। দুর্ঘটনার দিনই মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে নাটোর জেলা প্রশাসন পাঁচ সদস্যের এই তদন্ত কমিটি গঠন করে।
  • বিষয়:
  • top
আরও পড়ুন

সর্বশেষ