শুক্রবার, অক্টোবর ২৩, ২০২৬
প্রচ্ছদঅর্থ ও বানিজ্য সময়ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের কাজে হস্তক্ষেপ বাড়ছে পরিচালকদের

ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের কাজে হস্তক্ষেপ বাড়ছে পরিচালকদের

ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের (এমডি) কাজে হস্তক্ষেপ বাড়ছে পরিচালকদের। শুধু রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন ব্যাংকেই নয়, এ হস্তক্ষেপ ছড়িয়ে পড়ছে বেসরকারি কিংবা বিদেশি ব্যাংকেও। তাছাড়া নতুন ব্যাংকগুলোতেও এমডিদের প্রতি অযাচিত হস্তক্ষেপের অভিযোগ মিলছে। এসব অবৈধ সুপারিশ (আদেশ) না রাখতে গিয়ে চাকরিও হারাতে হচ্ছে এমডিদের। অর্থাৎ চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই পদত্যাগে বাধ্য করা হচ্ছে। এ ধরনের ঘটনা সাম্প্রতিক সময়ে বেশ বেড়ে গেছে। বিষয়টি নিয়ে অনেক বেশি উদ্বিগ্ন আর্থিক খাতের নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ ব্যাংক। তাই এমডিদের সুরক্ষায় একটি নীতিমালা করা যায় কি-না, সে বিষয়টি ভেবে দেখছে বাংলাদেশ ব্যাংক। সংশ্লিষ্ট নির্ভরযোগ্য সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক ম. মাহফুজুর রহমান বলেন, ‘কিছু কারণে (বেসরকারি) ব্যাংকের এমডিদের পরিচালনা পর্ষদ পদত্যাগে বাধ্য করছেÑ এমন অভিযোগ আমাদের কাছে এসেছে। ফলে এমডিরা ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে পদত্যাগ করছেন। কিন্তু এ ধরনের কাজ যাতে না ঘটে, সেজন্য একটি নীতিমালা করার কথা ভাবা হচ্ছে। অর্থাৎ এমডিদের সুরক্ষায় নীতিমালা করার কথা ভাবছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। যা গভর্নরসহ সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা শেষেই ঠিক করা হবে।’জানা যায়, এতদিন ব্যবস্থাপনা পরিচালকদের প্রতি পরিচালকদের সবচেয়ে বেশি অযাচিত হস্তক্ষেপ ছিল রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন ব্যাংকগুলোতেই। যার ফলশ্রুতিতে হলমার্ক কেলেঙ্কারির পর বেসিক ব্যাংকে বড় ধরনের অনিয়ম ঘটে বলে জানা গেছে। যদিও সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, এক্ষেত্রে অবৈধ সুবিধা গ্রহণের মাধ্যমে অনিয়মে জড়িয়ে পড়েছিলেন ব্যাংকগুলোর খোদ এমডি নিজেই। এদিকে রাষ্ট্রীয় মালিকানার ব্যাংকগুলোতে এমডিদের প্রতি পরিচালকদের অযাচিত হস্তক্ষেপ ছাড়াও বর্তমানে বেসরকারি কিংবা বিদেশি খাতের ব্যাংকগুলোতেও এ ধরনের ঘটনা ঘটছে। পাশাপাশি বাদ পড়ছে না বেসরকারি খাতের চতুর্থ প্রজন্মের নতুন ব্যাংকগুলোও।

রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন ব্যাংক : রাষ্ট্রীয় মালিকানার বাণিজ্যিক ও বিশেষায়িত খাতের সোনালী, জনতা, অগ্রণী, রূপালী, বেসিক, বিডিবিএল (বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক লিমিটেড), রাকাব (রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক) ও বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের (বাকৃবি) পরিচালকদের বিরুদ্ধে এমডির কাজে অযাচিত হস্তক্ষেপের অভিযোগ মিলছে অহরহ। এক্ষেত্রে পরিচালনা পর্ষদের সভা ছাড়াও পরিচালকরা সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের এমডির দফতরে আসা-যাওয়া করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। যার মাধ্যমে এসব ব্যক্তি এমডিকে বোর্ড মিটিংয়ে তাঁর এজেন্ডা বাস্তবায়নে সুপারিশের পাশাপাশি চাপও প্রয়োগ করেন কখনো কখনো।

সূত্রমতে, রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন ব্যাংকগুলোতে ব্যাংকিং সম্পর্কে সম্যক ধারণা না থাকা ব্যক্তিদের পরিচালক হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার অভিযোগ দীর্ঘদিনের। এক্ষেত্রে অভিজ্ঞতা বা  বিশেষজ্ঞতার চেয়ে রাজনৈতিক পরিচয়ই প্রাধান্য পেয়ে আসছে। ফলে ঋণ পাস, নিয়োগ-পদোন্নতি কিংবা বদলিসহ অন্যান্য ক্ষেত্রে এসব ব্যক্তির হস্তক্ষেপ করার বিষয়টি অস্বাভাবিক কিছুই নয়। কারণ তাঁরা জানেনই না ব্যাংক খাতে কী অনিয়মের কারণে কী ফল হতে পারে। শুধু জানেন, তাঁদের কোনো শাস্তি হবে না। এ কারণে নির্দ্বিধায় এসব ব্যক্তি অনিয়ম করে চলেন বলে সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রের দাবি।

 এদিকে রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন ব্যাংকগুলোর পরিচালকদের পাশাপাশি এমডিদেরও সরকার তথা অর্থ মন্ত্রণালয়ের ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ নিয়োগ দিয়ে থাকে বলে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই পরিচালক তথা সরকারি হস্তক্ষেপ বহন বা গ্রহণে বাধ্য থাকেন রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন ব্যাংকগুলোর প্রধান নির্বাহী তথা এমডিরা। আর এ কারণেই এসব ব্যাংকে অর্থ লুটের ঘটনা বেশি হচ্ছে বলে জানা গেছে। একইভাবে অনিয়ম হচ্ছে নিয়োগ-পদোন্নতি বা বদলির ক্ষেত্রেও। এদিকে বেসিক ব্যাংকে পরিচালনা পর্ষদ তথা ব্যাংকের সাবেক চেয়ারম্যান শেখ আবদুল হাই বাচ্চুর সঙ্গে ‘একাত্ম’ হয়ে অনিয়মে অংশ নেন ব্যাংকটির সাবেক এমডি কাজী ফখরুল ইসলাম। এক্ষেত্রে এমডির কাজে শেখ আবদুল হাই বাচ্চুর সব সময়েই হস্তক্ষেপ ছিল বলে অভিযোগ রয়েছে। যদিও কাজী ফখরুল ইসলাম বিষয়টি কেন্দ্রীয় ব্যাংক কিংবা অর্থ মন্ত্রণালয়ের ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগকে কখনই জানাননি। একই ঘটনা ঘটে সোনালী ব্যাংকের হলমার্ক কেলেঙ্কারির ঘটনায়। এক্ষেত্রেও এমডি পরিচালনা পর্ষদের চাপের বিষয়টি কেন্দ্রীয় ব্যাংক বা ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগকে লিখিত বা মৌখিকভাবে অবহিত বা অবগত না করলেও দুদকের কাছে দাবি করেন, সব দোষ পরিচালনা পর্ষদের। এ অনিয়মে (হলমার্ক) তাঁর (এমডির) কোনো দোষই ছিল না। এদিকে বেসিক ব্যাংক কেলেঙ্কারির ঘটনায় এমডিকে বরখাস্ত করা হলেও এখনও সোনালী বা বেসিকের এমডির বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারেনি কিংবা করেনি দুদক (দুর্নীতি দমন কমিশন)। তাছাড়া সুস্পষ্টভাবে এমডির কাজে এমডির ইচ্ছা বা অনিচ্ছায় পরিচালনা পর্ষদ হস্তক্ষেপ করে অনিয়ম-দুর্নীতিতে বাধ্য করা হলেও সোনালী বা বেসিক ব্যাংকের একজন পরিচালকের বিরুদ্ধে এখনও আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি। শুধু জিজ্ঞাসাবাদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থেকে গেছে দুদকের কার্যক্রম।

বেসরকারি ব্যাংক : রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন ব্যাংক ছাড়াও সাম্প্রতিক সময়ে বেসরকারি খাতের ব্যাংকগুলোতে এমডিদের কাজে পরিচালকদের হস্তক্ষেপ বেড়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এক্ষেত্রে পরিচালক তথা পরিচালনা পর্ষদের ‘কথামত’ না চলার খেসারত হিসেবে তাঁদের কাউকে আবার চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই ‘ব্যক্তিগত’ কারণ দেখিয়ে পদত্যাগ করতে হচ্ছে। এতে এমডিদের বাধ্য করার অভিযোগ উঠেছে। কখনো আবার বিনা কারণেই তাঁদের মেয়াদ বৃদ্ধি করা হচ্ছে না।

জানা যায়, পরিচালকদের ‘কথামত’ না চলায় মেয়াদ বাড়ানো হয়নি প্রাইম ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এহসান এইচ খসরুর। মেয়াদ শেষ হওয়ার ১৬ মাস আগেই ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে পদত্যাগ করেন এবি ব্যাংকের এমডি মো. ফজলুর রহমান। তাঁর পদত্যাগপত্র গত ২ জানুয়ারি গৃহীত হয়। এদিকে সাম্প্রতিক সময়ে ন্যাশনাল ব্যাংকের সাড়ে তিন হাজার কোটি টাকার অনিয়ম উদ্ঘাটনে এমডির সংশ্লিষ্টতা রয়েছেÑ এমন অভিযোগ এনে ব্যাংকটির এমডিকে পদত্যাগে বাধ্য করার অভিযোগ উঠেছে। ইতোমধ্যে ব্যাংকটির এমডি একেএম শফিকুর রহমান পদত্যাগও করেছেন। প্রায় একই ঘটনা ঘটেছে মার্কেন্টাইল ব্যাংকের এমডি এহসানুল হকের ব্যাপারেও। তবে বিষয়টি সুরাহা হয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মধ্যস্থতায়।

সূত্রমতে, আলোচিত ব্যাংক ছাড়াও বেসরকারি খাতের সিংহভাগ ব্যাংকের এমডিদেরই পরিচালকরা অযাচিতভাবে হস্তক্ষেপ করে আসছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ধরনের অভিযোগ রয়েছে প্রিমিয়ার ব্যাংক ছাড়াও আরও বেশ কয়েকটি ব্যাংকের বিরুদ্ধে। এক্ষেত্রে পরিচালকরা এককভাবে নিজেদের আখের গোছাতেই বেশ ব্যস্ত বলে জানা গেছে। যাতে ব্যাংকের সার্বিকভাবে সমস্যা কিংবা সুবিধার কথা বিবেচনায় আনা হচ্ছে না।

নতুন ব্যাংক : রাজনৈতিক বিবেচনায় গত বছর ব্যবসায়িক কার্যক্রম শুরু করা চতুর্থ প্রজন্মের নতুন ৯টি ব্যাংকের অধিকাংশতেই কম-বেশি অনিয়ম হচ্ছে এবং হয়েছে বলে জানতে পেরেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। কিন্তু এসব ব্যাংক অভিজ্ঞতার বিষয়টি সামনে এসে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাছে দাবি করছে, তাদের ‘ভুল’ হয়েছে। পাশাপাশি ক্ষমা করে দেওয়ার অনুরোধ করে ভবিষ্যতে এ ধরনের ‘ভুলের’ পুনরাবৃত্তি হবে না বলে মন্তব্য করছে। এতে অধিকাংশ সময় অনিয়মের ‘ক্ষমা’ করে দিচ্ছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। কিন্তু এসব বিষয় নিয়েই বড় ধরনের প্রশ্ন উঠছে। কারণ ব্যাংকগুলোর পরিচালনা পর্ষদ ব্যাংক ব্যবসায় নতুন হলেও ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ কিন্তু পুরাতন। এরপরও ব্যাংকগুলোতে অনিয়ম হওয়ার কথা নয়।

সূত্রমতে, অনিয়মের ঘেরাটোপ থেকে নতুন ব্যাংকগুলোর বাদ না পড়ার মূল কারণ পরিচালকদের হস্তক্ষেপ। এক্ষেত্রে ব্যাংকের এমডিদের কাজে সময়ে-অসময়ে হস্তক্ষেপের ঘটনা ঘটছে বলে জানা গেছে। যে কারণে ইতোমধ্যে বেশকিছু নতুন ব্যাংকের এমডি পদত্যাগও করেছেন। এসব এমডিকেও ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে পদত্যাগে বাধ্য করা হয়েছে বলে জানা গেছে।জানা যায়, নতুন ব্যাংকগুলোর মধ্যে মেঘনা ব্যাংকের কাইজার এ চৌধুরী এবং মিডল্যান্ড ব্যাংকের শহীদুল হক এরই মধ্যে পদত্যাগ করেছেন। কিন্তু ব্যাংক দুটি অন্য নতুন ব্যাংকের ন্যায় ব্যবসায়িক কার্যক্রমই শুরু করে গত বছর। ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে ওই দুই ব্যবস্থাপনা পরিচালক ব্যাংক থেকে পদত্যাগ করলেও পেছনে অন্য কারণ রয়েছে বলে জানা গেছে। অর্থাৎ তাঁরা স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করেননি। পদত্যাগ করতে বাধ্য করিয়েছে ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ।

পর্ষদের ভূমিকা নিয়ে আইন : ২০১৩ সালে সংশোধিত ব্যাংক-কোম্পানি আইন-১৯৯১তে কোনো ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের ভূমিকা সম্পর্কে ১৫(খ) ধারায় বলা হয়েছেÑ ‘ব্যাংক-কোম্পানির নীতি প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন, ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা, অভ্যন্তরীণ নিয়ন্ত্রণ, অভ্যন্তরীণ নিরীক্ষা ও উহার পরিপালনের জন্য পরিচালনা পর্ষদ দায়বদ্ধ থাকিবে। প্রত্যেক ব্যাংক-কোম্পানি উহার পরিচালনা পর্ষদের নির্বাহী কমিটির সদস্য নহেন, এইরূপ সদস্যদের সমন্বয়ে একটি অডিট কমিটি গঠন করিবে এবং প্রত্যেক ব্যাংক-কোম্পানি উহার পরিচালনা পর্ষদের সদস্যদের সমন্বয়ে একটি ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা কমিটি গঠন করিবে।

পরিচালক পদে শূন্যতা : সংশোধিত ব্যাংক-কোম্পানি আইনের ১৭ ধারার ১ উপধারায় বলা হয়েছে, ‘কোনও ব্যাংক-কোম্পানির পরিচালক যদি উক্ত ব্যাংক-কোম্পানি অথবা অন্য কোনও ব্যাংক-কোম্পানি বা কোনও আর্থিক প্রতিষ্ঠান হইতে গৃহীত অগ্রিম বা ঋণ বা উক্ত অগ্রিম বা ঋণের কিস্তি বা সুদ পরিশোধ করিতে; তদকর্তৃক প্রদত্ত কোনও জামিনের জন্য তাহার নিকট প্রাপ্য টাকা পরিশোধ করিতে, অথবা তদকর্তৃক সম্পাদনীয় কোনও কর্তব্য, যাহার দায়িত্ব তিনি লিখিতভাবে গ্রহণ করিয়াছেন, সম্পাদনা করিতে ব্যর্থ হন এবং উক্ত ব্যাংক-কোম্পানি বা আর্থিক প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ ব্যাংকের মাধ্যমে নোটিশ দ্বারা তাহাকে উক্ত অগ্রিম, ঋণ, কিস্তি, সুদ বা জামিনের টাকা পরিশোধ বা উক্ত কর্তব্য সম্পাদন করিতে নির্দেশ দেয় এবং উক্ত নির্দেশ পাওয়ার দুই মাসের মধ্যে তিনি উক্তরূপ পরিশোধ বা কর্তব্য সম্পাদন করিতে ব্যর্থ হন, তাহা হইলে উক্ত সময় অতিক্রান্ত হইবার সঙ্গে সঙ্গে তাহার পদ শূন্য হইবে।’
(২) উপধারায় বলা হয়েছেÑ ‘কোনও ব্যক্তি উপধারা (১)-এর অধীন নোটিশপ্রাপ্ত হইলে তিনি, নোটিশ প্রাপ্তির ত্রিশ দিনের মধ্যে সংশ্লিষ্ট বিষয়ে তাহার কোনও বক্তব্য থাকিলে ওইরূপ বক্তব্য লিখিতভাবে বাংলাদেশ ব্যাংকের নিকট

 প্রেরণ করিতে পারিবেন এবং উহার একটি অনুলিপি নোটিশ প্রদানকারী ব্যাংক-কোম্পানি বা ক্ষেত্রমত, আর্থিক প্রতিষ্ঠানেও প্রেরণ করিবেন। উপধারা (৩)-এ বলা হয়েছে, ‘উপধারা (২)-এর অধীন প্রেরিত বক্তব্য প্রাপ্তির পনের দিনের মধ্যে বাংলাদেশ ব্যাংক উহার উপর সিদ্ধান্ত প্রদান করিবে।’ (৪) উপধারা (৩)-এর অধীন গৃহীত বাংলাদেশ ব্যাংকের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হইবে। (৫) এই ধারার অধীনে কোনও পরিচালকের পদ শূন্য হইলে, শূন্য হওয়া পদের বিপরীতে যে ব্যক্তি পরিচালক ছিলেন, তাহার নিকট প্রাপ্য টাকা সংশ্লিষ্ট (ব্যাংক-কোম্পানিতে) তাহার শেয়ার সমন্বয়ের মাধ্যমে আদায় করা হইবে এবং উক্তরূপে সমন্বয়ের পর যে টাকা বকেয়া থাকিবে, তাহা সরকারি পাওনা হিসাবে গণ্য হইবে এবং পাবলিক ডিমান্ডস রিকভারি অ্যাক্ট ১৯১৩-এর অধীনে আদায়যোগ্য হইবে। (৬) এই ধারার অধীনে কোনও পরিচালকের পদ শূন্য হইলে, শূন্য হওয়া পদের বিপরীতে যে ব্যক্তি পরিচালক ছিলেন, তিনি, তদকর্তৃক সংশ্লিষ্ট ব্যাংক-কোম্পানি বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানের প্রাপ্য সম্পূর্ণ টাকা পরিশোধ করার তারিখ হইতে এক বৎসরের মধ্যে উক্ত ব্যাংক-কোম্পানি বা আর্থিক প্রতিষ্ঠান বা অন্য কোনও ব্যাংক-কোম্পানি বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানের পরিচালক হইতে পারিবেন না। (৭) উপধারা (১)-এর অধীনে কোনও ব্যাংক-কোম্পানির পরিচালক নোটিশপ্রাপ্ত হইলে, তাহার নিকট সংশ্লিষ্ট ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সমুদয় পাওনা পরিশোধিত না হওয়া পর্যন্ত তিনি যে ব্যাংকে পরিচালক নিয়োজিত ছিলেন, সেই ব্যাংকে তাহার নামে ধারণকৃত শেয়ার হস্তান্তর করিতে পারিবেন না। (৮) এই ধারার অধীন গৃহীত কোনো ব্যবস্থা, আদেশ বা সিদ্ধান্ত সম্পর্কে কোম্পানি আইন, ১৯৯৪ (১৯৯৪ সনের ১৮ নম্বর আইন)-এর ধারা ৩-এর অধীন এখতিয়ারসম্পন্ন আদালত ব্যতীত অন্য কোনও আদালত বা ট্রাইব্যুনালে কোনও প্রশ্ন উত্থাপন করা যাইবে না।

পরিচালক অপসারণের ব্যাপারে ব্যাংক-কোম্পানি আইন অনুযায়ী বাংলাদেশ ব্যাংকের ক্ষমতা :সংশোধিত ব্যাংক-কোম্পানি আইনের ৪৬ ধারায় বলা হয়েছেÑ (১) বাংলাদেশ ব্যাংক যদি এই মর্মে সন্তুষ্ট হয় যে, কোনও ব্যাংক- কোম্পানির চেয়ারম্যান বা কোনও পরিচালক বা (প্রধান নির্বাহী কর্তৃক,) কোনও ব্যাংক-কোম্পানি বা উহার (আমানতকারীদের জন্য ক্ষতিকর) কার্যকলাপ রোধকল্পে বা জনস্বার্থে উক্ত ব্যাংক-কোম্পানির যথাযথ ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে, উক্ত চেয়ারম্যান, পরিচালক বা প্রধান নির্বাহীকে, যে নামেই অভিহিত হউক না কেন, অপসারণ করা প্রয়োজন, তাহা হইলে বাংলাদেশ ব্যাংক কারণ লিপিবদ্ধ করিয়া আদেশের মাধ্যমে, উক্ত চেয়ারম্যান, পরিচালক, প্রধান নির্বাহীকে তাঁহার পদ হইতে অপসারণ করিতে পারিবে। (২) উপধারা (১)-এর অধীন কোনও আদেশ প্রদানের পূর্বে যাঁহার বিরুদ্ধে উক্ত আদেশ প্রদান করা হইবে, তাঁহাকে উহার বিরুদ্ধে কারণ প্রদর্শনের জন্য যুক্তিসঙ্গত সুযোগ দিতে হইবে।

  • বিষয়:
  • top
আরও পড়ুন

সর্বশেষ