জয় তার স্ট্যাটাসে লেখেন, পৃথিবীর অন্যান্য গণতন্ত্রে আইনসভাকে যেমন ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে, আমাদের সংসদেরও সেরকম ক্ষমতা থাকা উচিত। কেন কিছু মানুষ এর বিরোধিতা করছে? সম্ভবত, এখানে তাদের নিজেদের কিছু স্বার্থ রয়েছে। তিনি বলেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধান তাদের আইনসভাকে সর্বোচ্চ আদালতের বিচারক, এমনকি রাষ্ট্রপতিকে অভিশংসনের ক্ষমতা দিয়েছে। আমাদের সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী বিল নিয়ে কতিপয় লোক বিতর্কের ধূম্রজাল সৃষ্টি করতে চাইছে। আমার জানামতে, পৃথিবীর বেশিরভাগ গণতন্ত্রেই উচ্চ আদালতের বিচারকদের অভিশংসনের ক্ষমতা আইনসভার ওপর ন্যস্ত। এ অভিসংশনের জন্য সংসদে দুই তৃতীয়াংশের ভোট প্রয়োজন, যেমনটি প্রয়োজন সংবিধান সংশোধনের জন্য। যদি সংসদের দুই তৃতীয়াংশ ভোটে সংবিধানে পরিবর্তন আসতে পারে, তাহলে সংসদে একই সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোট কেন বিচারকদের অভিশংসন করতে পারবে না?
জয় লেখেন, তার চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার হচ্ছে, এই ষোড়শ সংশোধনী বিল আমাদের ১৯৭২ সালের মূল সংবিধানকে প্রায় সর্বাংশে পুনঃপ্রতিষ্ঠিত করবে। ১৯৭৫ সাল থেকে মূলত জেনারেল জিয়াউর রহমানের প্রদর্শিত পথে যতো সামরিক স্বৈরশাসকেরা সংবিধানের ওপর অবৈধ অসাংবিধানিক কাটাছেঁড়া চালিয়েছে, তার সবকিছুই এ সংশোধনীতে বাতিল হবে। সংবিধানের ওপর সামরিক শাসকদের এ কাটাছেঁড়াকে আমাদের উচ্চ আদালতই অসাংবিধানিক ও অবৈধ বলে রায় দিয়েছেন।
স্ট্যাটাসে আরও লেখা লিখেছেন, আমার কাছে খুবই কৌতূকপ্রদ মনে হচ্ছে একটি বিষয়। বিখ্যাত কয়েকজন ব্যক্তি, যারা এই বিলের বিরোধিতা করছেন, তারা নিজেরাই ১৯৭২ সালের সংবিধানের খসড়া করার কাজে যুক্ত ছিলেন। আমি আমাদের মূল সংবিধানে ফিরে যেতে চাই। স্বৈরশাসক ও ক্ষমতা জবরদখলকারীরা আমাদের জাতির যে ক্ষতি সাধন করেছে, তা আমাদের সারিয়ে তুলতে হবেই। তিনি বলেন, যে জাতি নিজের শেকড়কে ভুলে যায়, সেটি পথ হারানো জাতি। আমাদের অবশ্যই আমাদের শেকড়ের কাছে ফিরে গিয়ে একটি নতুন সূচনা করতে হবে।




