জলবায়ু পরিবর্তনের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় এ অঞ্চলের নেতাদের একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, এজন্য সক্ষমতা অর্জনে নিজেদের মধ্যে অংশীদারিত্বের সম্পর্ক গড়ে তুলতে হবে। শনিবার সকালে গুলশান-২ এ বে অব বেঙ্গল ইনিশিয়েটিভ ফর মাল্টিসেক্টরাল টেকনিক্যাল অ্যান্ড ইকোনোমিক কো-অপারেশন- বিমসটেক’র স্থায়ী সচিবালয়ের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী এ আহ্বান জানান। বক্তব্যের আগে গুলশান-২ এর ৫৩ নং সড়কের ৬ নম্বর বাড়িটিতে স্থাপিত বিমসটেকের সচিবালয়ের গেটে ফলক উন্মোচন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
পরে উদ্বোধনী ভাষণে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘জলবায়ু পরিবর্তনসহ অন্যান্য প্রাকৃতিক দুর্যোগজনিত চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় সকলকে একসাথে কাজ করার আহ্বান জানাচ্ছি। এই চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় সক্ষমতা অর্জনের জন্য আমাদের একটি শক্তিশালী ও অংশীদারিত্বমূলক স¤পর্ক গড়ে তুলতে হবে। নিরাপত্তা, পর্যটন এবং প্রযুক্তির ক্ষেত্রেও আমাদের সহযোগিতার সম্পর্ক আরো বাড়াতে হবে।’ এ সময় প্রধানমন্ত্রী বিমসটেক সচিবালয়ের জন্য ঢাকাকে বেছে নেওয়ায় সংশ্লিষ্ট নেতাদের ধন্যবাদ জানান।
উদ্বোধন অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত, পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম ও বিমসটেক সচিবালয়ের মহাসচিব সুমিত নাকান্দালা। ১৯৯৭ সালের ৬ জুন থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককে বিমসটেক’র আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয়। শুরুতে ৪টি দেশ এর সদস্য ছিল। এখন ৭টি দেশ এর সদস্য। সহযোগিতার ক্ষেত্রও বেড়ে ৬ থেকে ১৪-তে দাঁড়িয়েছে। বিমসটেক এ অঞ্চলের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে কাজ করছে।
প্রধানমন্ত্রী বক্তব্যে আঞ্চলিক সহযোগিতার ওপর তার সরকারের পক্ষ থেকে গুরুত্ব দেওয়ার কথা উল্লেখ করে বলেন, আমরা বিমসটেকের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যের প্রতি দৃঢ় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। এটি আমাদের পররাষ্ট্র নীতির সাথেও সামঞ্জস্যপূর্ণ।
দারিদ্র বিমোন, কৃষি উন্নয়ন, খাদ্য নিরাপত্তা, মুক্ত বাণিজ্য অঞ্চল গঠন, যোগাযোগ, জ্বালানি খাতে উন্নয়ন ও সর্বোপতি জলবায়ূ পরিবর্তনের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় একসঙ্গে কাজ করার জন্য বিমসটেকের সদস্য দেশগুলোর প্রতি আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী। এ সব বিষয়ে ছয় দফা সুপারিশ তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা ও উন্নয়ন নিশ্চিত করতে সক্ষমতা অর্জনের পথে শক্তিশালী ও অংশীদারিত্বমূলক সম্পর্ক গড়ে তুলতে হবে।
বিমসটেককে প্রতিবেশী দেশগুলোর মধ্যে গভীর বোঝাপড়া ও পারষ্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধির অন্যতম ক্ষেত্র বলে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সংস্থাটি দেশের অগ্রগতি ও সম্মৃদ্ধি অর্জনে এক অনন্য প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করবে বলে আমি বিশ্বাস করি।’ বিমসটেক’র প্রথম মহাসচিব সুমিত নাকান্দালাকে অভিনন্দন জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, আমার বিশ্বাস তিনি বিমসটেককে সামনে এগিয়ে নিতে সক্ষম হবে। একই অঙ্গীকার ব্যক্ত করে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সুমিত নাকান্দালা বলেন, আমাদের অগ্রাধিকার হবে এতদাঞ্চলের ঐতিহ্যকে পুনরুজ্জীবিত করা। তিনি বলেন, সদস্য দেশগুলোর নিজস্ব ভিশন ও পররাষ্ট্র নীতিসমূহের মধ্যে সামঞ্জস্য আনতে বিমসটেক কাজ করবে।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাহমুদ আলী বলেন, আঞ্চলিক সহযোগিতার ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্ব রয়েছে বাংলাদেশের। কৃষি, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, যোগাযোগ, জলবায়ূ পরিবর্তনের মতো ইস্যুগুলোতে একসঙ্গে কাজ করার ক্ষেত্রে বিমসটেক ভূমিকা রাখবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত তার বক্তব্যে ২০৩০ সালের মধ্যে এশিয়ার এই অঞ্চল বিশ্বের মোট বাণিজ্যের ৪ শতাংশ এবং মোট সম্পদের ১৫ শতাংশ যাতে অর্জন করতে পারে, এমন লক্ষ্য নিয়ে বিমসটেক কাজ করতে পারে বলে পরামর্শ দেন। উদ্বোধন শেষে প্রধানমন্ত্রী বিমসটেকের স্মারক ডাক টিকেট উন্মোচন করেন। এছাড়াও তিনি বিমসটেক সচিবালয়ের দর্শনার্থী বইয়ে স্বাক্ষর করেন এবং সদস্যদেশগুলোর রাষ্ট্রদূত ও হাই কমিশনারদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন।




