দশম জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশনের দ্বিতীয় কার্যদিবসে দুটি বিল উত্থাপিত হয়েছে। বিল দুটি হলো, বাংলাদেশ হোটেল ও রেস্তোরাঁ আইন-২০১৪’ ও বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ আইন-২০১৪। মঙ্গলবার মাগরিবের নামাজের বিরতির পর পুনরায় সংসদ শুরু হলে বিল দুটি উত্থাপিত হয়। এর আগে বিকেল ৫টা ০৮ মিনিটে স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে দিনের কার্যসূচি শুরু হয়। সংসদে বিল দুটি উত্থাপন করেন যথাক্রমে বেসামরিক বিমান ও পর্যটন মন্ত্রী রাশেদ খান মেনন এবং বিজ্ঞান প্রযুক্তি ও তথ্য যোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী স্থপতি ইয়ফেস ওমসান। দুটি বিল পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে রিপোর্ট দেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে পাঠানো হয়েছে।
বাংলাদেশ হোটেল অ্যান্ড রেস্টুরেন্ট অধ্যাদেশ ১৯৮২ এর বিষয়বস্তু বিবেচনা করে তা পরিমার্জন করে নতুন করে বাংলাদেশ হোটেল ও রেস্তোরাঁ আইন, ২০১৪’ তৈরী করা হয়েছে। এই বিলে নিয়ন্ত্রক নিয়োগের বিধান রাখা হয়েছে। এছাড়া হোটেল রেস্টুরেন্ট পরিচালনার জন্য নিবন্ধন ও লাইসেন্স বাধ্যতামুলক করা হয়েছে। লাইসেন্স হবে এক বছরের জন্য এবং প্রতিবছর নবায়ন করতে হবে। আইন লঙ্ঘন করলে অনুর্ধ ছয়মাস বিনাশ্রম কারাদন্ড বা অনধিক ২ লাখ টাকা জরিমানা অথবা উভয়দন্ডে দন্ডিত করা যাবে। আইনের উদ্দেশ্য পূরণ কল্পে সরকার বিধি প্রণয়ন করতে পারবে।
বিলের উদ্দেশ্য ও কারণ সম্বলিত বিবৃতিতে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের পর্যটকদের অবস্থান ও সেবা নিশ্চিত করার জন্য হোটেল ও রেস্তোরার সংখ্যা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। এসকল হোটেল রেস্তোরাঁর সেবা ও সুযোগ সুবিধার মান নিশ্চিত করার জন্য বর্তমানে দি বাংলাদেশ হোটেল অ্যান্ড রেস্টুরেন্টস অর্ডিন্যান্স, ১৯৮২’ দীর্ঘদিনের পুরাতন হওয়ায় পরিবর্তনের প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে। অধিকতর স্বচ্ছ ও দক্ষ ব্যবস্থাপনা, সেবা ও সুযোগ সুবিধার মান নিয়ন্ত্রণ, সুষ্ঠু পরিচালনা ইত্যাদির ক্ষেত্রে যুগোপযোগী পরিবর্তনের লক্ষ্যে বাংলাদেশ হোটেল ও রেস্তোরাঁ আইন ২০১৪ প্রনয়ন করা বিশেষ প্রয়োজন।
‘বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ আইন ২০১৪’ বিলে বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশন নিয়ন্ত্রক কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান ও সদস্যদের যোগ্যতার মাপকাটি নির্ধারণ করে একটি ধারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। মূল আইনের ধারা-৮ এর উপধারা ১ প্রতিস্থাপন করে বলা হয়েছে- পরমাণু শক্তি ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে পর্যাপ্ত যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতা সম্পন্ন ব্যক্তিদের মধ্য থেকে কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান ও সদস্যগণ নিযুক্ত হবেন। তবে শর্ত থাকে যে, বিদ্যুৎ উৎপাদন ও সঞ্চালন বিষয়ে যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতা সম্পন্ন ব্যক্তিগনের মধ্য থেকে একজন সদস্য নিয়োগ করা যাবে।
বিলের উদ্দেশ্য সম্পর্কে বলা হয়েছে, কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান ও সদস্যদের যোগ্যতার পরিধি সীমিত থাকায় অতি গুরুত্বপূর্ণ উক্ত পদসমুহে যোগ্য ও অভিজ্ঞ ব্যক্তি নিয়োগ করা দুরূহ হচ্ছে। আইনটি প্রণয়ন করলে এই কাজটি সহজ হবে। ফলে বাংলাদেশে পারমানবিক শক্তির নিরাপদ ও শান্তিপূর্ণ ব্যবহারের বিষয়টি নিশ্চিতকরণে বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ যথাযথভাবে স্বীয় দায়িত্ব পালনে সক্ষম হবে।




