সোমবার, অক্টোবর ২৬, ২০২৬
প্রচ্ছদখেলার সময়জয়াবর্ধনের টেস্ট অধ্যায়ের সমাপ্তি

জয়াবর্ধনের টেস্ট অধ্যায়ের সমাপ্তি

কলম্বো টেস্টের পঞ্চম দিনের খেলা সকালে এক ঘণ্টা পেরোনোর আগেই সব চুকেবুকে গিয়েছে। পাকিস্তানের হার নিয়ে কারও কোনো মাথাব্যথা ছিল না। ওটা তো জানাই ছিল। আসলে কলম্বো টেস্টটা স্মরণীয় হয়ে রইল এক অসাধারণ ব্যাটসম্যানের বিদায়ের জন্য। জয় দিয়েই মাহেলা জয়াবর্ধনেকে বিদায় সংবর্ধনা জানাল তার দল। ম্যাচ শেষে তাই কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব (এসএসসি) মাঠে মাহেলাকে নিয়েই যত উত্তাপ। এ টেস্টের পরই শ্রীলঙ্কার হয়ে পাঁচদিনের ম্যাচে সাবেক হয়ে গেলেন তিনি। বাকি রইল শুধু রঙিন পোশাকে ওয়ানডে ক্রিকেট। সেটা থেকেও আগামী বছর বিশ্বকাপের পর অবসরের আগাম সম্ভাবনা ইতোমধ্যেই জানিয়ে দিয়েছেন লঙ্কান এ গ্রেট।
ম্যাচ শেষে খেলোয়াড়দের আবেগে বন্দি মাহেলা নিজেও আবেগের কাছে ধরা পড়েছিলেন বৈকি। কিন্তু বিদায়ী বেলায় নিজের বক্তব্যে সেটা ধরা পড়তে দেননি। না, শচীন টেন্ডুলকারের মতো সেই অনন্য বিদায়ী বক্তৃতা দেননি মাহেলা। তবে আবেগের লাগাম টেনে সংক্ষেপে যা বলেছেন, তাতেই বোঝা গেছে-হূদয়টা পুড়ছে তারও। শুরু করেছেন এভাবে-‘আমি জানি না কীভাবে শুরু করব, কী বলব। কিন্তু প্রতিজ্ঞা করছি আমি কাঁদব না।’ গলা উথলে উঠে আসতে চাওয়া আবেগটাকে সামলাতে একটু বিরতি দিয়ে ধন্যবাদ জানান দলের সতীর্থদের, কোচ, টিম স্টাফ এবং পাকিস্তান ক্রিকেটারদের। তারপর বললেন-‘অতীতের সব ক্রিকেটারকে আমার কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ। যারা আমাকে আজকের মাহেলা হয়ে উঠতে সাহায্য করেছেন।’
তার ক্যারিয়ারের পেছনে সম্ভবত সবচেয়ে বড় অবদান তার শৈশবের স্কুলের। সেই স্কুলকে ধন্যবাদ জানাতেই গ্যালারিতে হাততালির বন্যা। ধন্যবাদ জানান শ্রীলঙ্কান প্রেসিডেন্ট মাহিন্দা রাজাপাকসেকে। প্রেসিডেন্টও হাজির হয়েছিলেন মাহেলার হাতে বিদায় উপহার তুলে দিতে। ধন্যবাদ দিতে ভুল করেননি দর্শক-সমর্থক-ভক্তদেরও। বলেন-‘আমি আপনাদের সবাইকে ভালোবাসি। এত বছর আপনারা আমার পাশে থেকে আমাকে সমর্থন জুগিয়েছেন ভালো খেলার জন্য প্রেরণা দিয়েছেন। তাই আপনাদেরও ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা।’
মাহেলা ধন্যবাদ জানান তার বাবা-মা, পরিবার, বন্ধু-বান্ধব এবং তার স্ত্রীকেও। তবে বিশেষ ধন্যবাদটা বরাদ্দ রাখেন পাশে দাঁড়ানো স্ত্রীকেই। গোটা ক্যারিয়ারে যিনি মাহেলার আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের সব ব্যস্ততা, ঝামেলা হাসিমুখে সামলে সবসময় পাশে থেকেছেন, সংসার দেখেছেন। তাই স্ত্রীকে উদ্দেশ করে বললেন-‘আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের ভ্রমণটা বেশ কঠিনই ছিল। কিন্তু এ সময়টায় আমার সব অন্যায়-আবদার সে হাসিমুখে মেনে নিয়েছে, উপভোগও করেছে। ওকে ধন্যবাদ না জানিয়ে কি পারি?’ আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে দীর্ঘদিনের সতীর্থ ও বন্ধু কুমার সাঙ্গাকারার কথা না বলে কি পারেন মাহেলা? বন্ধুকে উদ্দেশ করে বলেন-‘আমি বিশ্বাস করি শ্রীলঙ্কার হয়ে তোমার আরও কিছুদিন খেলে যাওয়া উচিত। কারণ এখনও তোমার মধ্যে অনেক ক্রিকেট বাকি রয়ে গেছে।’
৩৭ বছরের জীবনে মাহেলার প্রাপ্তি কম নয়। কিন্তু বিদায়বেলায় সবার আগে স্বভাবতই এলো ক্রিকেট। কারণ তিনকাঠির এ খেলাটির জন্যই তো তিনি আজকের মাহেলা জয়াবর্ধনে। আর সেটা বলেও দেন শেষে-‘জীবনে আমি অনেক কিছুই পেয়েছি। কিন্তু সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি শ্রীলঙ্কার হয়ে খেলাটাই। প্রতিটি মুহূর্ত শ্রীলঙ্কার টুপিটা সর্বোচ্চ আবেগ আর গর্ব নিয়ে মাথায় দিয়েছি। এর পাশে আর কিছুই দাঁড়ায় না।’ জানিয়ে দেন, সাদা পোশাকে দেশের হয়ে বিদায় নিলেও এখনও আরও কিছুদিন ওয়ানডে ক্রিকেট খেলে যাবেন। অন্তত অস্ট্রেলিয়া-নিউজিল্যান্ডে আগামী বিশ্বকাপ পর্যন্ত। কথা দেন, বিশ্বকাপেও নিজের সেরাটা উজাড় করে দেবেন তিনি। ক্রিকেট থেকে একেবারে বিদায়ের আগে একটু সুতো অবশ্য হাতে রেখে দিলেন মাহেলা।
আরও পড়ুন

সর্বশেষ