স্পোর্টস ডেস্ক (বিডি সময় ২৪ ডটকম)
শেন জার্গেনসেনের উত্তরসূরি হিসেবে জাতীয় ক্রিকেট দলের নতুন কোচের দায়িত্ব চন্ডিকা হাথুরুসিংহেকেই দেওয়া হলো। সোমবার বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন এক সভায় শ্রীলঙ্কানের নাম চূড়ান্ত করেছেন। দুবছরের জন্য তার সঙ্গে চুক্তি করা হচ্ছে জানালেন নাজমুল। আগামী ১০ জুন বাংলাদেশ দলের সঙ্গে দায়িত্ব নিতে পারেন তিনি।
সোমবার বেক্সিমকো ফার্মা লিমিটেড ধানমন্ডি অফিসের কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে বিসিবি সভাপতি হাথুরুসিংহের নাম আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করেন,‘প্রধান কোচের বিষয়ে নিশ্চিত করার কথা ছিল। আজ সেটা চূড়ান্ত করেছি। প্রধান কোচ হিসাবে আমাদের এখানে আসছেন চন্ডিকা হাথুরুসিংহে। তার সঙ্গে আমাদের চূড়ান্ত চুক্তি হয়ে গেছে। চুক্তি অনুযায়ী জুলাইয়ের প্রথম সপ্তাহ থেকে ২ বছরের জন্য তিনি আমাদের সঙ্গে থাকবেন। ভারত সিরিজ উপলক্ষে আমরা আশা করছি আগামী ১০ জুনের মধ্যে বাংলাদেশে চলে আসবেন।’
নতুন কোচের কাছে কেমন প্রত্যাশা হবে এমন প্রশ্নে তিনি বলেন,‘সবাই যা চায় আমিও তাই চাই। দল ভালো খেলুক। বিশ্বকাপের আগে যেহেতু আমাদের প্রধান কোচ চলে গেছে সেক্ষেত্রে যত দ্রুত সম্ভব পদটি পূরণ করার দরকার ছিল। আর আমরা এমন একজন কোচ খুঁজছিলাম যে উপমহাদেশের এবং এর বাইরে ওই অস্ট্রেলিয়াতেও যেনো ভালো করে। সেদিক থেকে আমরা মনে করি আমরা এমন একজন কোচকেই খুঁজছিলাম। উপমহাদেশের উইকেট সম্পর্কে তার ভালো ধারণা আছে। উনি কাজ করেছে অনেকদিন। আর বেশকিছু দিন ধরে সে অস্ট্রেলিয়াতেও কাজ করছেন। হাই প্রোফাইল কোচদের মধ্যে হাথুরুসিংহে একজন।’
আগের কোচদের চেয়ে এবার একটু বেশি খরচ গুণতে হবে বিসিবিকে। ভালো কোচ পাওয়ার ক্ষেত্রে এটা মামুলি মানছেন সভাপতি,‘একটু ব্যয়বহুলতো অবশ্যই। অন্য যাদের সঙ্গে কথা বলছিলাম তাদের চেয়ে কম। তবে এখন সঠিক পরিমাণটা বলতে পারব না। এটা খুব বেশি ব্যয়বহুল না। আগে যে রেট ছিলো তার চেয়ে এক-দুই হাজার ডলার বেশি হতে পারে।’
জাতীয় দলের হয়ে ২৬ টেস্ট ও ৩৫ ওয়ানডে খেলার অভিজ্ঞতা থাকা এই লঙ্কান মুশফিকদের কোচ হতে সোমবারই অস্ট্রেলিয়ার বিগ ব্যাশ লিগ ক্লাব সিডনি থান্ডার্সের প্রধান কোচের দায়িত্ব ছেড়ে দেন।
২০০৯ সালে ট্রেভর বেলিসের অধীনে জাতীয় দলের সহকারী কোচের পদটিতে ভূমিকা রেখেছিলেন ৪৫ বছর বয়সী। তবে পরের বছরই শৃঙ্খলা ভাঙার অভিযোগে বহিষ্কৃত হন তিনি। এরপর অস্ট্রেলিয়ায় পাড়ি জমিয়ে গত ওয়ানডে বিশ্বকাপে কানাডার কোচিং উপদেষ্টা হিসেবে কাজ শুরু করেন। ওই বছরই বিশ্বকাপ শেষে নিউ সাউথ ওয়েলসের সহকারী কোচ হিসেবে দুবছরের চুক্তিতে যোগ দেন। তবে ২০১২-১৩ মৌসুমের মাঝামাঝিতে সিনিয়র কোচ অ্যান্থনি স্টুয়ার্ট বরখাস্ত হলে বাকি মৌসুমের জন্য থান্ডার্সের ভারপ্রাপ্ত কোচের দায়িত্ব পালন করেছিলেন এই লঙ্কান।
এছাড়া স্ট্রেংথ এন্ড কন্ডিশনিং কোচ হিসেবে একই দেশের মারিও ভিলাভারায়েন নিয়োগ পেয়েছেন। তাকেও দুই বছরের জন্য চুক্তিবদ্ধ করা হচ্ছে। শ্রীলঙ্কার জাতীয় ক্রিকেট দলের ট্রেনারের পদে এতদিন দায়িত্ব পালন করে এসেছেন তামিল অঞ্চলের সাবেক এই ক্রিকেটার।




