চট্টগ্রাম অফিস (বিডি সময় ২৪ ডটকম)
যুদ্ধাপরাধীদের রায়ের বিরুদ্ধে এবং মহাজোট সরকার পতনের আন্দোলনে সহিংস তান্ডবের অভিযোগে বিএনপি-জামায়াতের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মামলা, মুফতি ইজাহারের বাসা থেকে এসিড উদ্ধারের মামলাসহ ১৬টি চাঞ্চল্যকর মামলা দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে যাচ্ছে। রোববার চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের চাঞ্চল্যকর মামলার মনিটরিং বিষয়ে আয়োজিত এক সভায় এসব মামলা দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। নগর পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ শফিকুল ইসলাম সভায় সভাপতিত্ব করেন।
নগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (অর্থ, প্রশাসন ও ট্রাফিক) এ কে এম শহীদুর রহমান বলেন, চাঞ্চল্যকর ১৬ টি মামলার বিচার দ্রুত নিষ্পত্তিরর বিষয়ে বৈঠকে আলোচনা হয়েছে। এসব মামলার তদন্ত দ্রুত শেষ করে অভিযোগপত্র দাখিল করা হবে। এরপর মামলা বিচারের জন্য প্রস্তুত হলে সেগুলো যাতে দ্রুত বিচার ট্রাইবুন্যালে পাঠানো হয় সেজন্য পুলিশ সদর দপ্তরে চিঠি দেয়া হবে। পরে পুলিশ সদর দপ্তর থেকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে এ সংক্রান্ত প্রস্তাবনা যাবে। আইনগত প্রক্রিয়া শেষে মন্ত্রণালয় গেজেট জারি করলে মামলাগুলো দ্রুত বিচার ট্রাইবুন্যালে যাবে।
চাঞ্চল্যকর এসব মামলার মধ্যে স্কুলছাত্রী অন্তু বড়ুয়ার ওপর ককটেল হামলা চালিয়ে চোখে মারাত্মক আঘাত করা, চট্টগ্রামের শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ককটেল বিস্ফোরণ, ডবলমুরিং থানায় সংঘর্ষে তিনজন নিহত হওয়া এবং খুলশী থানায় মুফতি ইজহারুল ইসলাম চৌধুরীর বাসভবন থেকে অ্যাসিড উদ্ধার মামলা রয়েছে।
নগর পুলিশের অতিরিক্ত উপ কমিশনার (প্রসিকিউশন) মুহাম্মদ রেজাউল মাসুদ জানান, গত সপ্তাহে ২০টি চাঞ্চল্যকর মামলা দ্রুত বিচার ট্রাইবুন্যালে পাঠানোর জন্য সিএমপি থেকে সদর দপ্তরে তালিকা পাঠানো হয়েছিল। এরপর ১৬টি মামলার তালিকা পাঠানোর বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়েছে।
নগর পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, রোববার অনুষ্ঠিত সিএমপি’র সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী কোতোয়ালী থানার ৫টি, বাকলিয়া থানার ১টি, পাঁচলাইশ থানার দুটি, পাহাড়তলী থানার ২টি, আকবর শাহ থানার ৩টি এবং পতেঙ্গা থানার ১টি মামলা দ্রুত বিচার ট্রাইবুন্যালে পাঠানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
উল্লেখ্য সহিংসতার ঘটনায় নগরীর ১৬টি থানায় মোট ১৮২টি মামলা দায়ের হয়েছিল। এর মধ্যে কোতয়ালী থানায় ৪১, বাকলিয়া থানায় ১২, চকবাজার থানায় ৩, সদরঘাট থানায় ২, পাঁচলাইশ থানায় ২৬, খুলশী থানায় ৫, বায়েজিদ বোস্তামি থানায় ৬, চান্দগাঁও থানায় ১৪, ডবলমুরিং থানায় ৯, হালিশহর থানায় ৬, পাহাড়তলী থানায় ১৪, আকবর শাহ থানায় ১০, বন্দর থানায় ৭, ইপিজেড থানায় ৩, পতেঙ্গা থানায় ২ এবং কর্ণফুলী থানায় ২টি মামলা আছে।
১৮২টি মামলার মধ্যে ৪৫টি মামলার তদন্ত শেষে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়েছে। যে ১৬টি মামলা দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে পাঠানোর উদ্যোগ নেয়া হয়েছে সেগুলো এখনও তদন্তের পর্যায়ে আছে বলে সূত্র জানিয়েছে। সহিংসতার অভিযোগে দায়ের হওয়া এসব মামলায় বিএনপি-জামায়াতের চট্টগ্রামের শীর্ষ নেতারা আসামী হিসেবে আছেন।




