ঢাকা(বিডিসময়২৪ডটকম)
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় এবং যুগ্ম মহাসচিব আমান উল্লাহ আমানের জামিন বাতিল করে কারাগারে প্রেরণের ঘটনা দুরভিসন্ধিমূলক ও সরকারের বন্য প্রতিহিংসার বহি:প্রকাশ ছাড়া অন্য কিছু নয়- বলেছেন দলটির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। দলের নেতাদের অবিলম্বে নিঃশর্ত মুক্তি দাবি করেন তিনি। রোববার এক বিবৃতিতে তিনি সংশ্লিষ্ট এই মামলাকে ‘মিথ্যা, বানোয়াট ও মনগড়া’ বলে মন্তব্য করেন।
বিএনপির দফতরের দায়িত্বে থাকা যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী স্বাক্ষরিত বিবৃতিতে বিএনপি নেতাদের জামিন বাতিল করে কারাগারে প্রেরণের ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ, নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান খালেদা জিয়া।
তিনি বলেন, বর্তমান সরকারের আমলে দেশে আইনের শাসন এতোটাই ভুলুন্ঠিত হয়েছে যে, বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের অন্যায়ভাবে মিথ্যা মামলায় জড়িত করার পরও তাদের আইনি প্রতিকার পাওয়ার অধিকারটুকুও চরমভাবে হরণ করা হচ্ছে। দেশে এখন আইনের শাসনের বদলে এক ব্যক্তির ইচ্ছা অনিচ্ছার বর্বর দু:শাসন চলছে। আর এ দু:শাসনের যাতাকলে পিষ্ট হচ্ছেন বিরোধী দলীয় নেতাকর্মীসহ সাধারণ মানুষ।
খালেদা বলেন, জনগণের কাছ থেকে সম্পূর্ণভাবে বিচ্ছিন্ন হয়ে বর্তমান অবৈধ সরকার নিজেদের হীন উদ্দেশ্য চরিতার্থ করার জন্য বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোকে দমন করতে পুলিশ প্রশাসনসহ রাষ্ট্রের সকল অঙ্গকে সরকারি দলের অঙ্গ সংগঠনে পরিণত করেছে। এর ফলে বিরোধী মত, বিবেক ও চিন্তার স্বাধীনতাকে নিষ্ঠুর পীড়নে স্তব্ধ করে দেওয়া হচ্ছে। তিনি বলেন, যার একটি নতুন বহি:প্রকাশ দেখা গেলো গয়েশ্বর চন্দ্র রায় এবং যুগ্ম মহাসচিব আমান উল্লাহ আমানের জামিন বাতিল করে কারাগারে প্রেরণের মধ্য দিয়ে।
ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, বর্তমান শাসকগোষ্ঠী স্বেচ্ছাতন্ত্রের শেষ সীমানা অতিক্রম করে অতিকায় দানব হয়ে উঠেছে। দেশের মানুষের জানমালের কোনো নিরাপত্তা নেই। চারদিকে গভীর হতাশা ও নৈরাজ্যে দেশ আজ গভীর ক্রান্তিকাল অতিক্রম করছে। তিনি বলেন, অবৈধ সরকারের টিকে থাকার একমাত্র অবলম্বন হচ্ছে নির্যাতন, নিপীড়ণ, মামলা, হামলা, গুম, অপহরণ, গুপ্তহত্যা, হুমকি-ধামকি, কুৎসা ও নির্জলা মিথ্যাচার।
বিবৃতিতে বিএনপি চেয়ারপারসন অবিলম্বে গয়েশ্বর চন্দ্র রায় এবং আমান উল্লাহ আমানের মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার করে নি:শর্ত মুক্তির জোর দাবি জানান।
রোববার অপর এক বিবৃতিতে দলটির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরও নেতাদের জামিন বাতিল ও কারান্তরীণ করার ঘটনাকে বর্তমান অবৈধ সরকারের হিংসাশ্রয়ী রাজনীতি বলে মন্তব্য করেন।
তিনি বলেন, এটি বিরোধী দলীয় নেতাকর্মীদেরকে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত না হওয়ার জন্য ভীতি সৃষ্টি করার অপপ্রয়াস মাত্র। ৫ জানুয়ারির প্রহসনের নির্বাচনের মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা কুক্ষিগত রাখতেই তারা এসব ন্যাক্কারজনক ও অমানবিক কর্মকাণ্ডে লিপ্ত হচ্ছে। ফখরুল বলেন, এসব অন্যায় কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক অস্তিত্ব ক্রমশই বিলীন হয়ে যাচ্ছে। অবিলম্বে গয়েশ্বর ও আমানের বিরুদ্ধে ‘মিথ্যা’ মামলা প্রত্যাহার করে তাদের নি:শর্ত মুক্তির দাবিও জানান ফখরুল।




