রবিবার, অক্টোবর ২৫, ২০২৬
প্রচ্ছদআরো খবর......এবিএম মূসার দাফন সম্পন্ন

এবিএম মূসার দাফন সম্পন্ন

ষ্টাফ  রিপোর্টার  (বিডিসময়২৪ডটকম)

প্রথিতযশা সাংবাদিক এবিএম মূসার দাফন সম্পন্ন হয়েছে। বৃহস্পতিবার রাত ৯টা ৫০ মিনিটে তার মরদেহ ফেনীর ফুলগাজী উপজেলার কুতুবপুর গ্রামের বাড়িতে তার মায়ের কবরের পাশে সমাহিত করা হয়। দাফনের সময় এবিএম মূসার ছেলে ডা. নাসিম মূসা, ভগ্নিপতি ফুলগাজী উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান একরামুল হক একরামসহ সর্বস্তরের মানুষ উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে রাত আটটায় গ্রামের বাড়ি ডিপটি বাড়িতে পৌঁছে এবিএম মূসার মরদেহবাহী গাড়ি। বাড়িতে বিশ মিনিট রাখা হয় মরদেহ। এ সময় স্বজনেরাসহ গ্রামবাসী এবিএম মূসাকে শেষবারের মতো একনজর দেখেন। এরপর মরদেহ স্থানীয় আলী আজম উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে নেওয়া হয়েছে। সেখানে এবিএম মূসার চতুর্থ ও শেষ নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়।

নামাজে জানাজা শেষে একুশে পদকপ্রাপ্ত সাংবাদিক এবিএম মূসার শেষ ইচ্ছানুযায়ী তার মায়ের কবরের পাশে তাকে শেষ শয্যায় শায়িত করা হয়। এর আগে সন্ধ্যা সোয়া ৬টার দিকে এবিএম মূসার মরদেহবাহী গাড়ি ফেনী প্রেসক্লাব চত্ত্বরে এসে পৌঁছে। এখানে তার মরদেহে সাংবাদিক, এবিএম মূসার ভক্ত-গুণগ্রাহীসহ ফেনীবাসী শেষ শ্রদ্ধা জানান।

বাদ মাগরিব সন্ধ্যা ৭টা ১০ মিনিটে তৃতীয় নামাজে জানাজা ফেনী শহরের মিজান ময়দানে সম্পন্ন হয়। ফেনী প্রেসক্লাবের আয়োজনে জানাজায় অংশ নেন ফেনীর জেলা প্রশাসক হুমায়ূন কবির খোন্দকার, ফেনী সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুর রহমান বিকমসহ রাজনীতিবিদ, সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতাকর্মী, সাংবাদিক, এবিএম মূসার ভক্ত-গুণগ্রাহীসহ হাজারো ফেনীবাসী। উপস্থিত ছিলেন ফেনীর পুলিশ সুপার পারিতোষ ঘোষ। নামাজে জানাজা পরিচালনা করেন ফেনী আলিয়া মাদ্রাসার প্রিন্সিপাল মওলানা মাহমুদুল হক।

এর আগে এবিএম মূসার দ্বিতীয় নামাজে জানাজা বাদ জোহর রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাব প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত হয়। রাজনীতিক, শিক্ষক, সাংবাদিকসহ এবিএম মূসার ভক্ত, গুণগ্রাহীরা দ্বিতীয় নামাজে জানাজায় অংশ নেন। এর আগে সর্বস্তরের মানুষ ফুল দিয়ে শেষ শ্রদ্ধা জানান দেশবরেণ্য এই সাংবাদিককে। নামাজে জানাজা শেষে দুপুর দুইটা ১০ মিনিটের দিকে প্রবীণ এ সাংবাদিকের মরদেহবাহী গাড়ি জাতীয় প্রেসক্লাব থেকে ফেনীর উদ্দেশ্যে রওনা দেয়।

এর আগে বেলা সাড়ে ১২টার দিকে তার মরদেহ রাজধানীর ল্যাবএইড হাসপাতালের হিমঘর থেকে জাপান-বাংলাদেশ ফ্রেন্ডশিপ হাসপাতালের ভ্যানে জাতীয় প্রেসক্লাবে নেওয়া হয়।

লাইফ সাপোর্টে থাকা সাংবাদিক এবিএম মূসাকে বুধবার দুপুরে চিকিৎসকরা মৃত ঘোষণা করার পরই তাকে মোহাম্মদপুরের ইকবাল রোডে তার নিজ বাসভবনে নিয়ে যাওয়া হয়। বুধবার মাগরিবের নামাজের পর রাজধানীর মোহাম্মদপুরের ইকবাল রোডের মাঠে প্রথম নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। এরপর রাত সাড়ে আটটার দিকে এবিএম মূসার মরদেহ রাজধানীর ল্যাবএইড হাসপাতালের হিমঘরে নেওয়া হয়। রাতে মরদেহ সেখানেই রাখা হয়। ল্যাবএইড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বুধবার দুপুর সোয়া একটায় ইন্তেকাল করেন এবিএম মূসা।

গত সোমবার ল্যাবএইডে ভর্তি হন এবিএম মূসা। তিনি ব্লাড ক্যান্সারের মতো রোগ মাইলো ডিসপ্লাস্টিক সিনড্রোমে আক্রান্ত ছিলেন। এছাড়া দীর্ঘদিন ধরে তিনি বার্ধক্যজনিত রোগে ভুগছিলেন। অবস্থার অবনতি হলে মধ্যরাতে তাকে লাইফ সাপোর্টে নেওয়া হয়। তিনি হাসপাতালের সিনিয়র কনসালট্যান্ট ডা. বরেন চক্রবর্তীর তত্ত্বাবধানে চিকিৎসাধীন ছিলেন। প্রবীণ এ সাংবাদিককে ফেরাতে সকল চেষ্টা করে যাচ্ছিলেন তার নেতৃত্বাধীন বিশেষ টিম। সব চেষ্টা ব্যর্থ করে দিয়ে বুধবার সোয়া একটায় জীবনপ্রদীপ নিভে আসে দেশ ও জাতির বিবেকসম এবিএম মূসার। এর পরই তার লাইফ সাপোর্ট খুলে দেওয়া হয়।

এবিএম মূসার বয়স হয়েছিল ৮৩ বছর। তিনি স্ত্রী সেতারা মূসা, এক ছেলে ডা. নাসিম মূসা এবং তিন মেয়ে শারমীন মুসা, মরিয়ম সুলতানা ও পারভীন সুলতানা ঝুমাসহ অসংখ্য স্বজন, ভক্ত ও গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ